• বিনোদন প্রতিবেদক
  • ২৭ জুলাই ২০১৯ ২২:০৭:৪৩
  • ২৭ জুলাই ২০১৯ ২২:০৭:৪৩
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

ঢাকায় গোয়েন্দাগিরি চলচ্চিত্রের শুভমুক্তি

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকায় মুক্তি পেয়েছে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘গোয়েন্দাগিরি’র। চলচ্চিত্রটির চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় ছিলেন নির্মাতা নাসিম সাহনিক। মামুনুর ইসলাম প্রযোজিত চলচ্চিত্রটির পরিবেশনায় আছে আম্মাজান ফিল্মস। 

শুক্রবার ঢাকার চলচ্চিত্রপাড়া বলে খ্যাত কাকরাইলের রাজিয়া হলে চলচ্চিত্রটি মুক্তি পেয়েছে। তবে আগামী সপ্তাহ থেকে হলের সংখ্যা বাড়ানো হবে।

গোয়েন্দাগিরির গল্পে দেখা যায়, একদল টিনএজ ছেলেমেয়ে ছুটিতে বেড়াতে যাচ্ছে। তাদের একটি বিশেষ পরিচয় হচ্ছে তারা স্বপ্ন দেখে যে ভবিষ্যতে বড় গোয়েন্দা হবে। তাদের কারো আইডল শার্লক হোমস, কারো ফেলুদা, কারো তিন গোয়েন্দা, কারো আবার জেমস বন্ড। যাই হোক তাদের এবারের অভিযানটা শুরু হয় যখন মিডিয়াতে একটি পুরনো ভুতুড়ে বাড়ি নিয়ে হইচই পরে যায়। বনের মধ্যে অবস্থিত বাড়িটি নাকি অভিশপ্ত। অভিশপ্ত এই বাড়ির রহস্য উন্মোচনে ঝাঁপিয়ে পড়ে এই শখের গোয়েন্দারা। তাদের এই অভিযানে রহস্যের স্বাদ যেমন পাওয়া যাবে তেমনি পাওয়া যাবে টিনএজ খুনসুটি, টিনএজ রোমান্টিসিজম আরো কত কি!

চলচ্চিত্রটিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন শম্পা হাসনাইন, কল্যাণ কোরাইয়া, মিম চৌধুরি, সীমান্ত আহমেদ, কচি খন্দকার, তারেক মাহমুদ, টুটুল চৌধুরি, শিখা খান, তানিয়া বৃষ্টি, ইশরাত চৈতি, প্রিন্স প্রমুখ।

ইতোমধ্যে ফেসবুক এবং ইউটিউবে এসেছে গোয়েন্দাগিরি চলচ্চিত্রের অফিসিয়াল ট্রেইলার। চলচ্চিত্রটির ডিজিটাল পার্টনার ইমপ্রেস টেলিফিল্ম। এটির পাওয়ার্ড বাই হিসেবে রয়েছে ইভালি এবং কো-পাওয়াডর বাই হিসেবে রয়েছে কিডজ ডায়াপার।

‘গোয়েন্দাগিরি’ চলচ্চিত্র নিয়ে নির্মাতা নাসিম সাহনিক বলেন, ‘বেশ প্রস্তুতি নিয়ে বড় ধরনের প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করে ‘গোয়েন্দাগিরি’ নির্মাণ করা হয়েছে। আমাদের টার্গেট ছিলো ঢাকা শহরে মুক্তি দিয়ে দেশব্যাপী প্রতিটি জেলা শহরে ছড়িয়ে পড়া এবং এরপর দেশের বাইরে দর্শকের কাছে নিয়ে যাওয়া। আমরা সেই লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছি।’

প্রযোজক মামুনুর ইসলাম বলেন, ‘আম্মাজান ফিল্ম সিনেমা দর্শকদের জন্য রুচিশীল ও আকর্ষণীয় চলচ্চিত্র উপহার দিতে চায়। সেই প্রয়াস থেকেই নির্মাণ করা হয়েছে ‘গোয়েন্দাগিরি’ চলচ্চিত্রটি। চলচ্চিত্রটি শিশুকিশোরদের জন্য একটি অসাধারণ নির্মাণ। এটি এমন একটি চলচ্চিত্র যেটি কীনা বড়দেরকেও শৈশবে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে।’

এই চলচ্চিত্রে অন্যতম চরিত্রে অভিনয় করেছেন মিম চৌধুরি। ‘ম্যাংগোলি চ্যানেল আই সেরা নাচিয়ে’র উপস্থাপিকা হিসেবে আলোচনায় আসেন মিম চৌধুরি। এরপর শাকিব খানের সঙ্গে ‘লাভ এক্সপ্রেস’ ও সরকারি অনুদানের ছবি ‘সুতপার ঠিকানা’ নামে দু’টি ছবিতে অভিনয় করে দারুণ প্রশংসিত হন মিম।

মিম জানালেন, ‘ছবিটির শুটিং এবং ডাবিং এর সময় বেশ মজা হয়েছিল। মিডিয়া অযান্ত্রিক অফিসে বেশ আনন্দের সাথেই আমরা ডাবিং করেছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘বড়পর্দায় কাজের অনেক অফার থাকলেও করা হয়নি। কিন্তু গোয়েন্দাগিরি ছবিটির কাহিনী একেবারেই আলাদা। হরর থ্রিলারধর্মী। চিত্রনাট্যও অসাধারণ। এজন্যই কাজটি করেছি। ছবিতে আমার চরিত্রের নাম গোয়েন্দা পিংকি। পিংকি অনেকটা জনপ্রিয় কমিক ক্যারাকটের পিংকির মতো। বেশ চঞ্চল একটা মেয়ে। সারাক্ষণ ফেসবুকিং আর গসিপিং নিয়ে থাকে। সিডনী শেলডন আর শার্লক হোমসের ফ্যান সে।’

অভিনেত্রী মিম বলেন, ‘চলচ্চিত্রটিতে হরর ও সায়েন্স ফিকশনের উপাদানও রয়েছে। তাই ডিটেকটিভ থ্রিলারধর্মী এই চলচ্চিত্রটি তরুণ প্রজন্মকে বেশ আকৃষ্ট করবে। এটির চিত্রনাট্য আমার কাছে অসাধারণ লেগেছে। এই চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি।’

গোয়েন্দাগিরি চলচ্চিত্রে শখের গোয়েন্দা চরিত্রে অভিনয় করেছেন চিত্রনায়িকা শম্পা হাসনাইন। সুপার হিরো  সুপার হিরোইনখ্যাত এই নায়িকা চলচ্চিত্রটির শুভমুক্তি প্রসঙ্গে বলেন, ‘গোয়েন্দাগিরি চলচ্চিত্রটির শুভমুক্তি হয়েছে জেনে আমি ভীষণ আনন্দিত। চলচ্চিত্রটিতে আমি শখের গোয়েন্দায় থাকি। আমাকে মেধাবী ছাত্রী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আমার গণিতের দক্ষতায় সকলে মুগ্ধ হয়। আশা রাখি দশর্ক চলচ্চিত্রটি দেখে আনন্দিত হবেন।’

অভিনেতা কচি খন্দকার বলেন, ‘দারুণ একটি গল্প নিয়ে নির্মাতা চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছেন। আমার চরিত্রটিও ছিল রহস্যে পরিপূর্ণ। দর্শক বেশ উত্তেজনা নিয়েই চলচ্চিত্রটি উপভোগ করবেন।’

এর আগে চলচ্চিত্রটির মুক্তি উপলক্ষ্যে বিএফডিসিতে ভিইআইপি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন ও আলোচনা সভার  আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শেখ অ্যানি রহমান এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন  সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব জনাব ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি জনাব মুশফিকুর রহমান গুলজার, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির মহাসচিব জনাব বদিউল আলম খোকন, ইভালির সিইও জনাব মো. রাসেল, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের সদস্য ও বাংলাদেশ প্রযোজক সমিতির সাবেক সহ সভাপতি জনাব খোরশেদ আলম খসরু, বিশিষ্ট প্রযোজক জনাব মোরশেদ খান হিমেল। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন গোয়েন্দাগিরি চলচ্চিত্রের প্রযোজক ও আম্মাজান ফিল্মসের কর্ণধার জনাব মামুনুর ইসলাম । অনুষ্ঠানটির সমন্বয়ে ছিলেন গোয়েন্দাগিরি চলচ্চিত্রের পরিচালক নাসিম সাহনিক। এছাড়া চলচ্চিত্রটির শিল্পী কলাকুশলী এবং প্রিন্ট আর ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে।  

বাংলা/এএএ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0776 seconds.