• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০১:৫৮:৩৪
  • ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০১:৫৮:৩৪
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ চলছে

ছবি : বাংলা

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) উপাচার্য প্রফেসর ড. খন্দকার নাসির উদ্দিনের পদত্যাগ ও আন্দোলনকারী সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে রবিবারও বিক্ষোভ হয়েছে। 

হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে রবিবার নিজ নিজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় :

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (বশেমুরবিপ্রবি) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পরিকল্পিত হামলার প্রতিবাদে এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) শাখা।

রবিবার দুপুর ১টার দিকে বিক্ষোভ মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র থেকে শুরু হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়।

মিছিল পরবর্তী বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন খর্ব করা, শিক্ষার্থীদের মত প্রকাশের অধিকারে বাঁধা দেওয়া ও অন্যায়ভাবে বহিষ্কার করা, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্যকে অপসারণের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে শিক্ষার্থীরা। এ আন্দোলনকে বন্ধ করতেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪৪ ধারা জারি এবং প্রশাসনের মদদে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়। আমরা এই আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে বশেমুরবিপ্রবির ভিসির পদত্যাগ এবং ওই হামলার সঙ্গে জড়িত সকলের বিচার ও শাস্তি দাবি করছি। সেই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ফ্রন্টের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রলীগ ও যুবলীগের হামলার প্রতিবাদ ও দ্রুত বিচার
দাবি করছি।’ 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় :

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শাখা ছাত্র ফেডারেশনের নেতাকর্মীরা।

রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলকের সামনে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন।

এর আগে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদী সমাবেশে ছাত্র ফেডারেশনের নেতাকর্মীরা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামোটাই স্বৈরতান্ত্রিক হয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয় না। সরকার নির্ধারণ করে দেয় উপাচার্য কে হবে। সরকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তাদের পুতুল উপাচার্য নিয়োগ দেয়। বর্তমান উপাচার্যদের কথাবার্তা, আচার-আচরণ নিয়েও প্রশ্ন আছে। উপাচার্য হয়ে তাদের একমাত্র কাজ হচ্ছে লুটপাট করে খাওয়া। লুটপাটের ভাগ দিয়ে ক্ষমতায় বেশিদিন টিকে থাকা।’ 
এ সময় নেতাকর্মীরা ১৯৭৩ এর অধ্যাদেশ অনুযায়ী যোগ্য শিক্ষকদের উপাচার্যেও দায়িত্বে বসানোর দাবি জানানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মহব্বত হোসেন মিলনের সঞ্চালনায় প্রতিবাদী সমাবেশে বক্তব্য দেন- সংগঠনের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম, প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক মিরান শাহ, মহানগর শাখা ছাত্র ফেডারেশনের আহ্বায়ক ইয়াসিন আরাফাত, যুগ্ম আহ্বায়ক জিন্নাত আরা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় : 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাশাপাশি সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য খন্দকার নাসির উদ্দিনের পদত্যাগের দাবিও করেছেন মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা।
রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার চত্বরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আয়োজনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী দেওয়ান তাহমিদের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন সমাজতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাইদুল ইসলাম।

এতে আরো বক্তব্য রাখেন- যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী এন এম নাছির উদ্দীন, অর্থনীতি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আবিদ খন্দকার, ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সব্যসাচী ইমন, নৃবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নোমান হোসেন, ইংরেজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এমদাদুল হক, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃত বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী আরজু আহামেদ এবং অর্থনীতি বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী রাজেশ্বর দাস গুপ্ত।

মানববন্ধনে সমাজতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাইদুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে মুক্ত চিন্তার জায়গা। যেখানে শিক্ষার্থীরা স্বাধীন মত প্রকাশ করবে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মুক্ত চিন্তার স্বপ্ন দেখায়। শিক্ষার্থীরা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ। যদি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী না থাকে তবে সেটি প্রাণহীন।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ এই শিক্ষার্থীদের ওপর বশেমুরবিপ্রবির উপাচার্যের সন্ত্রাসবাহিনী সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর লেলিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু তিনি এখনও তার সিংহাসনে বসে আছেন। এটাতো হতে পারে না, এটাতো অন্যায়।’

তিনি বলেন, ‘একজন উপাচার্য কোনো ভাবেই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এরূপ আচারণ করতে পারে না। তাকে জিজ্ঞেস করতে পারেন না, তার বাবা কোনো দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের এসেছিলো কিনা। এটা শিক্ষার্থীদের দমিয়ে রাখার একটি কৌশল। আমরা সব সময় চাই যারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এরূপ আচারণ করে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হোক। তারা যাতে সিংহাসন দখল করতে না পারে।’

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় :

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) শিক্ষার্থী বহিষ্কার ও আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কুশপুত্তলিকা দাহ ও মানববন্ধন করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

রবিবার দুপুরে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বশেমুরবিপ্রবি উপাচার্য ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিনকে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন শিক্ষার্থীরা।

শেকৃবির শিক্ষার্থী জামিউল আলম পরশ বলেন, ‘জাতির পিতার নামে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আজকের পর থেকে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে তার প্রবেশ নিষিদ্ধ।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী মো. রসুল হোসেন বলেন, ‘যে উপাচার্য বাইরের সন্ত্রাসী দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় তার উপাচার্য পদে থাকার কোনো যোগ্যতা নেই। অবিলম্বে এই অযোগ্য উপাচার্যকে অপসারণ করে তাকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।’

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় :

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে ও উপাচার্য খোন্দকার নাসির উদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে মানববন্ধন করেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা। রবিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঁঠালতলায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মাজহারুল ইসলাম হানিফের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা বক্তব্য দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১তম ব্যাচের আরিফিন রফিক বলেন, ‘একটা ফেসবুক স্ট্যাটাসকে ভিত্তি করে বহিষ্কার করা অনৈতিক। একজন ভিসির এ অধিকার নেই। অতি দ্রুত তাকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ডের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপর বহিরাগত সন্ত্রাসীদের হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। এসব প্ল্যাকার্ডে প্রতিবাদী বিভিন্ন স্লোগান লেখা ছিল।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় :

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা। হামলার ঘটনায় বিচার দাবিতে প্রগতিশীল ছাত্রজোট, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র সংরক্ষণ পরিষদ এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া গোপালগঞ্জ জেলার সাধারণ শিক্ষার্থীরা দফায় দফায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন।

রবিবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শান্ত চত্বরে দুপুর ১২টায় প্রগতিশীল ছাত্রজোট, দুপুর ১টায় গোপালগঞ্জ জেলার সাধারণ শিক্ষার্থীরা এবং দুপুর দেড়টায় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র সংরক্ষণ পরিষদ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরবিপ্রবি)-এর শিক্ষার্থীদের উপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং জড়িতদের বিচার দাবি করেন। উপাচার্যের নানা অপকর্ম উল্লেখপূর্বক তার অপসারণের দাবিও জানান তারা।

এসময় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র সংরক্ষণ পরিষদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহবায়ক রাইসুল ইসলাম নয়ন বলেন, যে উপাচার্য প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা রাখে না, তাকে বশেমুরবিপ্রবির উপাচার্য বানানো হয়েছে। আমরা তার অপসারণ দাবি করছি। এছাড়াও বশেমুরবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনকে সমর্থন জানাচ্ছি।

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক খায়রুল হাসান জাহিন বলেন, সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের চরিত্র একই রকম। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন (জকসু) এর গঠনতন্ত্র ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রণয়ন করার কথা থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩য়, ৪র্থ শ্রেণির কর্মকর্তাদের নির্বাচন হলেও ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয় না। সকল বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর প্রশাসনের চরিত্র স্বৈরতান্ত্রিক রূপধারণ করেছে। অনিয়ম, উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা ভাগাভাগিসহ বিভিন্ন অপকর্ম সংগঠিত হয় যা যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যে ন্যাক্কারজনক ঘটনা।

এসময় তিনি ঢাবি উপাচার্যকে চিরকুট ভিসি, বশেমুরবিপ্রবি উপাচার্যকে বহিষ্কার ভিসি, জাবি উপাচার্যকে সেলামি ভিসি নামে আখ্যায়িত করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্নীতি, অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে সমর্থন জানান।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় গোপালগঞ্জ জেলার শিক্ষার্থী রেজোয়ান সীমান্ত বলেন, উপাচার্য খন্দকার নাসির উদ্দিন এর বিরুদ্ধে দুর্নীতি অভিযোগসহ নারী কেলেংকারীর অভিযোগ রয়েছে। তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালিয়েছেন। আমরা দ্রুত বিচারের দাবি জানাচ্ছি। উক্ত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় :

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে এবং হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বেলা একটায় ক্যাম্পাসের হাদী চত্বরে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন পাঁচশতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে খুবি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ‘জাগরণ’ নামে একটি পথনাটক এবং কবিতা আবৃত্তি পরিবেশন করা হয়। মানববন্ধনে খুবির বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের (বিভাগ) শিক্ষার্থীরা বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা বলেন, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা পুরো জাতির জন্য লজ্জাজনক। যারা এ ন্যাক্কারজনক হামলার সাথে জড়িত তাদেরকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

অন্যথায় সারা দেশের ছাত্রসমাজ কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে। বক্তারা এ হামলার জন্য বশেমুরবিপ্রবি উপাচার্যকে দায়ী করে তার পদত্যাগ দাবি করেন।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় :

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) উপাচার্যের অপসারণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

রবিবার দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাংবাদিক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন ধরনের প্লাকার্ড দেখা যায়।

মানববন্ধনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রভাষক উন্মেষ রায় বলেন, ‘একজন উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে থেকে কতটুকু অনৈতিক ও অশিষ্টাচার হলে শিক্ষার্থীদের ওপর ভাড়াটিয়া গুন্ডা বাহিনীকে লেলিয়ে দেয়। অপরাধ আড়াল করতেই এতদিন নাটকীয়তা করেছেন উপাচার্য। প্রতিনিয়ত শিক্ষাথীদের মুক্ত স্বাধীনতাকে ব্যাহত করা হচ্ছে। প্রশাসনের অপকর্মগুলো প্রকাশ করা হলেই শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করা হয়।’

তিনি আরো বলেন, অনতিবিলম্বে বশেমুরবিপ্রবির উপাচার্যকে প্রত্যাহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরিয়ে নেবার এবং শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।’

মানববন্ধনে মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী লোকমান হোসেন বলেন, ‘বশেমুরবিপ্রবির আন্দোলনরত ভাই-বোনদের ওপর উপাচার্যের পেটোয়া ও গুন্ডা বাহিনীর ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই। এহেন কার্যক্রমের জন্য আমরা উপাচার্যকে সন্ত্রাস আখ্যায়িত করতে বাধ্য হলাম। আমরা মনেকরি শিক্ষার্থীরা তার নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ার কাহিনী প্রচার করার জন্যই সচেতন শিক্ষার্থীদের ওপর বহিরাগতদের দ্বারা হামলা চালান।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ও রাষ্ট্রপতির কাছে আমাদের বিনত অনুরোধ বশেমুরবুপ্রবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল দুর্নীতি ও অপকর্ম রোধ করার জন্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখার জন্য উপাচার্যকে অপসারণ করার দাবি জানাচ্ছি।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় :

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

রবিবার দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জয় বাংলা ভাস্কর্যের সামনে মানববন্ধন করে শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধনে শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বক্তব্য রাখেন- চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী আফসানা বাধন, ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শফিক বাপ্পি, হারুনুর রশিদ প্রমুখ। মানববন্ধন শেষে ভাস্কর্যের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। 

মানববন্ধনে বক্তারা জানান, বশেমুরবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা দুর্নীতিবাজ উপাচার্য খন্দকার নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে তখন স্থানীয় সন্ত্রাসীদের দ্বারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো হামলা শিক্ষার্থীরা মেনে নেবে না। শিক্ষার্থীরা এসব অন্যায়কে প্রতিহত করবে এবং দুর্নীতিবাজ উপাচার্যকে পদত্যাগের আহবান জানিয়ে বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলন না মানা হলে জাককানইবির শিক্ষার্থীরা আরও কঠোর আন্দোলনে নামবে জানিয়ে হুশিয়ারি দেন বক্তারা।

উল্লেখ্য, গত ১১ সেপ্টেম্বর আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ও ক্যাম্পাস সাংবাদিক ফাতেমা-তুজ-জিনিয়াকে সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে জিনিয়ার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেয় প্রশাসন।

তবে বশেমুরবিপ্রবি উপাচার্য প্রফেসর ড. খন্দকার নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ভর্তি বাণিজ্য, নারী কেলেঙ্কারি, শিক্ষক নিয়োগে বাণিজ্য ও স্বৈরাচারী শাসনের অভিযোগ তুলে গত ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করে টানা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

বাংলা/এএএ

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.1449 seconds.