• বিদেশ ডেস্ক
  • ১০ নভেম্বর ২০১৯ ২২:৩২:১৮
  • ১০ নভেম্বর ২০১৯ ২২:৩২:১৮
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

মুরসিকে হত্যা করেছে মিশর সরকার: জাতিসংঘ

ছবি : সংগৃহীত

মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির হত্যাকাণ্ডকে রাষ্ট্র অনুমোদিত বিধি বহির্ভূত হত্যা বলে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ একটি প্যানেল।চলতি বছরের জুনে মিশরের আদালতে আকস্মিকভাবে মারা গিয়েছিলেন তিনি।তার মৃত্যুর ব্যাপারে এতদিন নীরব থাকার পর অবশেষে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জাতিসংঘ।  

সম্প্রতি জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনারের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মুরসির হত্যাকাণ্ডের জন্য মিশরের সরকারকে দায়ী করা হয়।জাতিসংঘের বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার অ্যাগনেস ক্যালামার্ডের নেতৃত্বে গঠিত বিশেষজ্ঞদের স্বাধীন এক প্যানেলের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ওই বিবৃতি দেয়া হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, মিশরের তোরা কারাগার কমপ্লেক্সে ৫ বছরের বেশি বন্দী জীবনে মুরসিকে এমন অবস্থার মধ্যে রাখা হয়েছিল যা এককথায় নির্মম বলে বর্ণনা করা যেতে পারে।   

এতে আরো বলা হয়, এধরনের পরিস্থিতি সহ্য করে তিনি যেভাবে মারা যান তা রাষ্ট্র অনুমোদিত নির্বিচার হত্যাকাণ্ড বলে উল্লেখ করা যেতে পারে।  

মিশরের প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি ১৭ জুন আদালতে মারা যান।সেসময় তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের শুনানির জন্য দাঁড়িয়েছিলেন।যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি, তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

আরব বসন্তের হাওয়ায় মিশরের দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসক হোসনি মুবারকের পতনের পর ২০১২ সালে দেশটিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন মুরসি।কিন্তু ২০১৩ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করেন তৎকালীন সেনাপ্রধান এবং বর্তমানের মিশর প্রেসিডেন্ট আব্দুল ফাত্তাহ আল সিসি।

জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, সিসির সরকার কারাগারে বন্দীদের মানবাধিকার লংঘন করছে।  মানবাধিকার লংঘনের এই ঘটনাকে উদ্দেশ্যমূলক বলে উল্লেখ করা হয়।  

মুরসি নির্জন কারাগারে প্রায় ছয় বছর অতিবাহিত করেন।জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ প্যানেল জানায়, এসময় তার যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি।প্রসঙ্গত, মিশরের সাবেক এই প্রেসিডেন্ট ডায়াবেটিসসহ উচ্চ রক্তচাপে ভুগছিলেন।  দিন দিন তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছিল।অথচ কর্তৃপক্ষ সেই ব্যাপারে উদ্বিগ্ন ছিল এমন কোন আলামত পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয় জাতিসংঘের প্রতিবেদনে।

উল্লেখ্য,মুরসির মৃত্যুর কিছুদিন পরেই তার ছোট ছেলে আবদুল্লাহ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

এদিকে মুরসির মৃত্যুর জন্য মিশর সরকারকে দায়ী করে জাতিসংঘ যে বিবৃতি দিয়েছে সে ব্যাপারে এখনো পর্যন্ত কোন মন্তব্য করেনি দেশটির সরকার।

বাংলা/এফকে

 

 

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0766 seconds.