• ১৭ নভেম্বর ২০১৯ ০১:০৪:৩৮
  • ১৭ নভেম্বর ২০১৯ ০১:০৪:৩৮
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

শিক্ষার্থীকে মারধর : বিতর্কিতদের হাতে তদন্তভার

ছবি : সংগৃহীত

রাবি প্রতিনিধি :
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সোহরাব মিয়াকে ছাত্রলীগ কর্মীদের মারধরের ঘটনায় ভুক্তভোগীর করা মামলায় পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করলেও মূল দুজন এখনো পলাতক রয়েছেন। এদিকে এই ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে শাখা ছাত্রলীগ।

কমিটির সদস্যরা হলেন, সহ-সভাপতি মাহফুজ আল-আমিন, সুরঞ্জিত প্রসাদ বৃত্ত, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান মিশু ও যুগ্ম-সম্পাদক সাব্বির হোসেন। যাদের সবাই বিতর্কিত আবার কেউ অছাত্র। বিভিন্ন সময়ে নান অপকর্মের একাধিক অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

১৫ নভেম্বর মধ্যরাতে শহীদ ড. শামসুজ্জোহা হলে সোহরাবকে বেধড়ক মারধর করে ছাত্রলীগ কর্মী আসিফ ও নাহিদ। মারধরে সোহরাবের মাথা ফেটে যায় এবং বাম হাতের হাড় ভেঙে যায়। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ১৬ নভেম্বর এর প্রতিবাদে ও জড়িতদের ছাত্রত্ব বাতিলসহ শাস্তি নিশ্চিতের দাবিতে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।

এই ঘটনা তদন্তে দুপুরে কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদেরকে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

কমিটির সদস্য মাহফুজ আল-আমিনের ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে অনেক আগেই। ছাত্রলীগের একাধিক সহ-সভাপতি নাম গোপন রাখার শর্তে জানান, ‘২০০৮ কি ০৯ সালের দিকে মাহফুজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। তিনি বিবাহিত বলেও জানিয়েছেন একাধিক নেতা।’ এ ছাড়াও ২০১৭ সালের ১৩ জুন তার বিরুদ্ধে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে শিবিরের সঙ্গে লিয়াজোঁ করার অভিযোগ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ হয়।

চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি সুরঞ্জিত প্রসাদ বৃত্তের নেতৃত্বে কয়েকজন নেতাকর্মী শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে তিন শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। ২২ অক্টোবর জিয়াউর রহমান হলের সামনে বাবু নামের এক দোকানির কাছ থেকে চাঁদাবাজিও করেন তিনি। ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে ড্রপ আউট হলেও ছাত্রলীগে বহাল তবিয়তে আছেন বৃত্ত।

এদিকে ছাত্রলীগের যুগ্ম-সম্পাদক সাব্বির হোসেনের নামে হলের সিট সংক্রান্ত বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তিনি ২০১৭ সালের ১৮ জুলাই প্রক্সি দিতে গিয়ে আটক হন। পাবলিক পরীক্ষায় জালিয়াতি করার দায়ে মামলায় বেশ কিছুদিন কারাভোগও করেন সাব্বির।
 
অন্যজন কোটা সংস্কার আন্দোলনে আহত তরিকুলের ওপর হামলাকারীদের অন্যতম সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান মিশু। ক্যাম্পাসে অস্ত্র হাতে মহড়া দেয়া সংক্রান্ত তার ছবিও বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ হয়।

বিতর্কিত ও অছাত্রদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি কতটা স্বচ্ছভাবে দায়িত্ব পালন করবে সেই প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষার্থীরা। অনেকে দাবি করছেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তামাশা করা ও আই ওয়াশ করতেই এই কমিটি গঠন করেছে ছাত্রলীগ।

তবে সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলছেন, ইতোপূর্বে সংগঠনের জন্য অনেক অবদান রেখেছেন তারা। বিভিন্নভাবে সংগঠনের জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা করায় তাদেরকে তদন্তভার দেয়া হয়েছে। অবশ্যই তারা নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ প্রতিবেদন জমা দিবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

বাংলা/এএএ

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0721 seconds.