• ১৭ নভেম্বর ২০১৯ ১৬:৫৪:০৭
  • ১৭ নভেম্বর ২০১৯ ১৬:৫৪:০৭
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরকারী ছাত্রলীগ কর্মীদের স্থায়ী বহিষ্কার দাবি

ছবি : বাংলা

রাবি প্রতিনিধি :

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ফাইন্যান্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সোহরাব মিয়াকে মারধরকারী ছাত্রলীগ কর্মীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছে ‘নিপীড়ন বিরোধী ছাত্র-শিক্ষক ঐক্য পরিষদ’। 

১৭ নভেম্বর, রবিবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে মানববন্ধন করে এ দাবি জানান পরিষদের শিক্ষকগণ। এসময় তারা আরো ৯টি দাবির কথা উল্লেখ করেন।

১৫ নভেম্বর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. জোহা হলে ছাত্রলীগ সভাপতির অনুসারী কর্মী আসিফ লাক ও নাহিদেও কয়েকজন সোহরাবকে রুমে ডেকে নিয়ে বেধড়ক মারধর করে। এতে তার মাথায় ১৫ টি সেলাই দিতে হয় এবং বাম হাতের হাড় ভেঙে যায়। এ ঘটনায় জড়িতদের স্থায়ীভাবে ছাত্রত্ব বাতিলের দাবি জানালো নিপীড়ন বিরোধী ছাত্র-শিক্ষক পরিষদ। এর আগে ঘটনার পরদিন (১৬ নভেম্বর) জড়িতদের ছাত্রত্ব বাতিল ও শাস্তি নিশ্চিতের দাবিতে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে ফাইন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থীরা। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের অনেক শিক্ষার্থীই সংহতি জানিয়ে অংশ নেয়।

শিক্ষকদের অন্যান্য দাবিগুলো হলো- দায়িত্বে অবহেলার জন্য হল প্রশাসনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ; ক্যম্পাসে কোনো শিক্ষার্থী নির্যাতনের শিকার হলে মামলাসহ সকল ব্যয়ভার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বহন করা; আবাসিক হলগুলো সিসিটিভির আওতায় আনা; হলগুলোতে বৈধ সিট বণ্টন করা এবং হলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; হলে সিট বণ্টন ও আবাসনে কোনো ছাত্র সংগঠনের হস্তক্ষেপের সুযোগ না দেয়া; হলে অবৈধভাবে বসবাসরতদের বের করে দেয়া; রাজনৈতিক মত ভিন্নতার কারণে কোনো শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে অসদাচরণ না করা এবং তাদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেয়া।

মানববন্ধনে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বীরত্ব দেখানোর অনেক জায়গা আছে। কে কতটুকু পড়তে পারে, পড়াতে পারে, গবেষণায় অবদান রাখতে পারে এগুলো নিয়ে বাহাদুরি করা যেতে পারে। কিন্তু আমরা আজকাল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এসব বীরত্ব দেখতে পাই না। বিশ্ববিধ্যালয়ে শিক্ষা সন্ত্রাস একসাথে চলতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হলোর হাজারও শিক্ষার্থীর জিম্মাদার। আপনারা তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। আমরা এভাবে শিক্ষার্থীদের নিয়ে দাঁড়াতে চাই না। কিন্তু কোন অন্যায় দেখলে আমরা এভাবে দাঁড়িয়ে অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাবো, এটা আমাদের অঙ্গিকার।

সমাজকর্ম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যে দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে তার দৃশ্যমান বাস্তবায়ন আমরা দেখতে চাই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, হল প্রশাসন তারা জানে কারা এসব অপকর্ম করতে পারে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে এসব ঘটনা দূর করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আহমেদ ইমতিয়াজ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান উপকরণ হচ্ছে শিক্ষার্থী। বিভিন্ন সময় তাদেরকে হত্যা করা হচ্ছে, মারধর করা হচ্ছে। কিন্তু যারা করছে তাদের কোনো বিচার হচ্ছে না। সরকারবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড ঘটলে প্রশাসন শক্ত হাতে তা দমন করেন। কিন্তু কোনো শিক্ষার্থীর ওপর হামলা করা হলে তখন আপনারা নিশ্চুপ ভুমিকা পালন করেন কেন?

পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মোর্শেদুল ইসলাম বলেন, সোহরাবের ঘটনায় হল প্রশাসনের দ্বায়িত্ব অবহেলা রয়েছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নামধারী সন্ত্রাসীদের স্থায়ী বহিষ্কার চাই। এসব সন্ত্রাসীদের লাগাম টেনে ধরতে হবে। নয়তো তারা আরও হিংস্র হয়ে উঠবে।

আরবী বিভাগের অধ্যাপক ইফতেখারুল আলম মাসউদের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সিন্ডিকেট সদস্য মো. মনিরুর হক; সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দা আফরীনা মামুন; শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. আখতার বানু; পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল্লাহ শামস্ বিন তারিক, একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আতিকুর রহমান পাটোয়ারী, ফিসারিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহা. ইয়ামিন হোসেন প্রমুখ।

বাংলা/এএএ

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0750 seconds.