• ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯ ১৮:৪২:৪৭
  • ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯ ১৮:৪২:৪৭
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

ভুলে ভরা সনদপত্রে রাবি গ্রাজুয়েটদের ক্ষোভ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি : সংগৃহীত

রাবি প্রতিনিধি :

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) একাদশ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে গত ৩০ নভেম্বর। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন শেষ হলেও অভিযোগ উঠেছে অনেক গ্রাজুয়েটকে ভুলে ভরা সনদ প্রদানের। সমাবর্তনে দেয়া এসব সনদে কারো হলের নাম ভুল, কারো সিজিপিএ জিপিএ গরমিল, কারো বিভাগ পরিবর্তন আবার কোনো গ্রাজুয়েটের নামই ভুল করা হয়েছে।

সমাবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে ভুলে ভরা সনদ পাওয়ার ঘটনাকে প্রশাসনের দায়িত্বহীনতা বলে মনে করছেন শিক্ষক-গ্রাজুয়েটরা। অনেকে এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আশঙ্কা করছেন, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সনদপত্রে এসব মৌলিক তথ্যের অমিল থাকায় ভবিষ্যতে এ নিয়ে ঝামেলা পোহাতে হবে।

মাজহারুল ইসলাম বাপ্পি নামে একজন গ্রাজুয়েট ফেসবুকে লিখেছেন, ‘সমাবর্তনে যে সার্টিফিকেট দিয়েছে সেখানে হলের নামে লেখা আছে Huseyn Shaheed Suhrawardy হল। আর আমাদের আগের বিবিএ এর সনদপত্রে লেখা আছে শুধু Shaheed Suhrawardy হল। এইসব ভুল করার জন্য কি আমরা ৩৭০০ টাকা খরচ করে সনদপত্র আনতে গিয়েছিলাম?’

কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘সমাবর্তনের নামে ছাত্রছাত্রীদের হয়রানি করার মানে কী?’

সমাজবিজ্ঞানে ২০১৫ সালে মাস্টার্স করা আব্দুল কাদের লিখেছেন, ‘অনার্সে চার বছরের ফলাফল একসঙ্গে করে দেয়া হয় বলে ‘CGPA’ লেখা হয়। মাস্টার্স এক বছরের হওয়ায় ফলাফলে লেখা হয় ‘GPA’। তবে তার মাস্টার্সের মূল সনদপত্রে লেখা হয়েছে ‘CGPA’।

২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষের আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী সানাউল হক। ইংরেজি অক্ষরে তার নামের বানান Sanaul Hoque। তবে তার নামে ‘Hoque’ এর স্থলে লেখা হয়েছে ‘Howue’।

একই বিভাগের ২০১১-১২ সেশনের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানের নামের বানান ‘Mehadi’ হলেও লেখা হয়েছে ‘Mehedi’।

শুধু সানাউল বা মেহেদী নন ওই বিভাগের আরো ১০ শিক্ষার্থীর নামের বানান ভুল হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরকম অনেকের আবার বিভাগই পরিবর্তন হয়ে গেছে। কারও অনার্সের নামের সঙ্গে মাস্টার্সের নামের মিল নেই।

ফলিত গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী মাসুম পারভেজ ২০১৬ সালে এমএসসি পাশ করেন। পরবর্তী বছরে মানোন্নয়ন পরীক্ষায় ফলাফল পরিবর্তন হয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাকে আগের ফলাফলেরই সনদপত্র দিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের গ্রাজুয়েট রায়হানুল রানার অভিযোগ, তার হলের নামের বানানে ভুল ছিল। যদিও পরে সংশোধন করে নেয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

এসব ভুল দায়িত্বহীনতার পরিচয় বলে মনে করছেন বিশ^বিদ্যালয়টির আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ। তিনি বলেন, সাময়িক সনদপত্র কম্পিউটারে টাইপ করে দেয়া হয়। পূর্বে ভুল না হলেও এখন ভুল হওয়া মানে তারা যথাযথ সংরক্ষণ করেনি। যেখানে গ্রাজুয়েটদেরকে সম্মান দেয়ার কথা, সেখানে উল্টো ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

এদিকে গ্রাজুয়েটরা বলছেন, এই নামের বানান ভুল সংশোধন করতে অতিরিক্ত ফি দিতে হবে তাদের। আবার এর পিছনে কয়েকদিন সময়ও ব্যয় করতে হবে। কর্পোরেট জীবনে ঢুকে গেছি, এখন এতো সময় দেয়াও যায় না।

সংশোধনের বিষয়টা ফি মুক্ত এবং সহজ করে দেয়ার দাবিও জানিয়েছেন গ্রাজুয়েটরা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. বাবুল ইসলাম বলেন, গেজেটে ভুল থাকাসহ বিভিন্ন কারণে ভুল হয়। যেহেতু ভুল পাওয়া যাচ্ছে, তাই শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দফতরে এলে সংশোধনের সুযোগ পাবেন। 

এসব কাজের জন্য অতিরিক্ত ফি দিতে হবে না বলে নিশ্চিত করেছেন ড. বাবুল।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.1010 seconds.