• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯ ১৩:৫১:০৯
  • ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯ ১৩:৫১:০৯
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

পঁচে নষ্ট হয় দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজের ৩০%

ফাইল ছবি

পেঁয়াজ সংরক্ষণে আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে না উঠায় দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজের ৩০ শতাংশই নষ্ট হয়ে যায়। বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ এভাবে পঁচে নষ্ট হয়ে যাওয়াও দেশে পেঁয়াজের সরবরাহ ব্যবস্থা ও মূল্যের ভারসাম্যহীনতার জন্য দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা। এখনো সনাতনী পদ্ধতিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করার কারণেই বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ এভাবে নষ্ট হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে বাজারে।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রতি বছর দেশে ২৩ লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়। যার থেকে প্রায় ৬ লাখ টন, বা ৩০-৩৫ শতাংশই সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে না পারায় পঁচে নষ্ট হয়। প্রতিবছর দেশে দরকার পড়ে প্রায় ২৪-২৫ লাখ টন পেঁয়াজ। যার ঘাটতি মেটাতে বছরে আমদানি করতে হয় প্রায় ৯ লাখ টন পেঁয়াজ। পঁচে যাওয়া ৬ লাখ টন পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা গেলে ৭০ শতাংশ পেঁয়াজ আমদানি কমিয়ে ফেলা সম্ভব।

ব্যবসায়ীরা জানান, আমদানি করা পেঁয়াজের ৯০ ভাগের যোগানদাতাই প্রতিবেশী ভারত। বাকি ১০ শতাংশ মিয়ানমার, মিশর ও তুরস্ক থেকে আসে। দিনে দেশে ৬ হাজার টন পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে।

সনাতন পদ্ধতির পেঁয়াজ সংরক্ষণব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে আধুনিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণের উপায় খুঁজে বের করা দরকার বলে মত প্রকাশ করেছেন চাষী, ব্যবসায়ী ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। পেঁয়াজ পঁচে নষ্ট হওয়ার হার ১০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা গেলে উৎপাদন ও চাহিদার ব্যবধান অনেক কমে আসবে। ফলে অন্য দেশের ওপর নির্ভরশীলতাও কমে আসবে বলে জানান তারা।

এ বছর পেঁয়াজ নিয়ে দেশজুড়ে যে সংকট দেখা দিয়েছে, সে অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখে পেঁয়াজ সংরক্ষণে সরকার গুদাম তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে টিসিবির মাধ্যমে তিন জেলায় ৬টি গুদাম তৈরি করা হবে। এসব গুদামে সরকার কৃষকের কাছ থেকে পেঁয়াজ কিনে বা কৃষকের কাছে ভাড়া দিয়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে মোট পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে ২৩.৩০ লাখ টন। এর মধ্যে সংগ্রহকালীন ও সংরক্ষণকালীন ক্ষতি ধরে ৩০ শতাংশ বাদ দিলে উৎপাদনের পরিমাণ ১৬.৩০ লাখ টনে দাঁড়ায়। 

আর বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে ১০.৯১ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। 

দেশে প্রতিবছর পেঁয়াজের চাহিদা ২৪-২৫ লাখ টন। দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা গেলে তা দিয়েই মোট চাহিদার ৯০% মেটানো সম্ভব। এতে কমে আসবে আমদানিনির্ভরতা, আর সাশ্রয় হবে বৈদেশিক মুদ্রারও।

বাংলা/এসএ

সংশ্লিষ্ট বিষয়

পেঁয়াজ সংরক্ষণ পঁচন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0240 seconds.