• ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯ ১৯:৪০:১৭
  • ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯ ১৯:৪০:১৭
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

জলবায়ু পরিবর্তন

কমে যাচ্ছে সমুদ্রের অক্সিজেন : গবেষণা

ছবি: সংগৃহীত

বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে ধীরে ধীরে ফুরিয়ে যাচ্ছে সমুদ্রের অক্সিজেন। জলবায়ু পরিবর্তন এবং পুষ্টি দূষণ আমাদের সমুদ্রের অক্সিজেনকে কমিয়ে দিচ্ছে। ফলে এই পরিবর্তন বহু মৎস্য প্রজাতিকে হুমকির মুখে ফেলছে।

এসব তথ্য উঠে এসেছে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব ন্যাচার (আইইউসিএন) এর একটি গবেষণায়। এ প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে দ্য ইউনিয়ন জার্নালে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, পুষ্টি প্রবাহ যেখানে দশকের পর দশক ধরে একটি আলোচিত বিষয় সেখানে গবেষকরা বলছেন জলবায়ু পরিবর্তন অক্সিজেনের এই অভাবকে আরো প্রকট করে তুলছে।

১৯৬০ এর দশকে ৪৫ টি সামুদ্রিক এলাকার তুলনায় বর্তমানে প্রায় ৭০০ সামুদ্রিক অঞ্চল অক্সিজেনের অভাবে ভুগছে। গবেষকরা বলছেন, এ অবক্ষয় তুনা, মারলিন এবং শার্কের মতো মৎস্য প্রজাতিকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

রাসায়নিক বর্জ্য থেকে ‍পুষ্টি প্রবাহ- খামার এবং শিল্পকারখানা থেকে নাইট্রোজেন এবং ফসফরাস সমুদ্র জলের অক্সিজেন স্তরকে প্রভাবিত করে আসছে বলে পরিচিত। এটা এখনো অক্সিজেন ক্ষয়ের প্রাথমিক কারণ হিসেবে অবিকল রয়েছে, বিশেষ করে সমুদ্র তীরবর্তী এলাকার জন্য।

অন্যদিকে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হুমকি আরও বেড়েছে। যত বেশি কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়ে গ্রিনহাউজ ইফেক্ট বৃদ্ধি করে ততটাই তাপ শুষে নেয় সমুদ্র। ফলে, এই উষ্ণ জল খুব কমই অক্সিজেন ধরে রাখতে পারে।

বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, ১৯৬০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে সমুদ্রে দূরীভূত গ্যাসের পরিমাণ ২% কমে এসেছে। তবে কিছু কিছু উষ্ণপ্রধান এলাকায় এই ক্ষতি আরো ব্যাপক মাত্রায়, ৪০% পর্যন্ত হবে।

অতি ক্ষুদ্র পরিবর্তনও উল্লেখযোগ্যভাবে সামুদ্রিক জীবনকে প্রভাবিত করতে পারে। কম অক্সিজেনের পানিতে জেলিফিসের মত মাছের উপকার করলেও বড় মাছদের জন্য, যেমন দ্রুত সাঁতরানো তুনা মাছের জন্য তা করে না।

‘আমরা অক্সিজেন অভাবের কথা শুনেছি কিন্তু আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে এর সংযোগ সম্পর্কে অবহিত নই এবং এটা খুবই দুশ্চিন্তার’, বলেন আইইউসিএন এর গবেষক মিনা এপস।

খারাপ খবর হল তুনা, মারলিন এবং শার্কের মতো প্রজাতিগুলো বিশেষভাবে অক্সিজেন হ্রাসের প্রতি সংবেদনশীল। এগুলোর মতো বড় বড় প্রজাতির মাছগুলোর প্রয়োজন প্রচুর শক্তির।

গবেষকদের মতে, এসব প্রাণী সমুদ্রের উপরের স্তরে সরে যাচ্ছে যেখানে অধিক গ্যাস দূরীভূত হয়। অন্যদিকে এসব প্রজাতি অতিরিক্ত মৎস্য আহরণের শিকারে পরিণত হচ্ছে।

দেশগুলো যদি নির্গমনে চলমান মডেলের ব্যবসা কার্যক্রম চালিয়ে নেয় তাহলে সারা দুনিয়ার সমুদ্রগুলো ২১০০ সালের মধ্যে তাদের ৩% থেকে ৪% অক্সিজেন হারিয়ে ফেলবে। এই প্রভাব সবচেয়ে বেশি খারাপ হবে বিশ্বের উষ্ণপ্রধান অঞ্চলগুলোতে।

বিশ্বের রাজনৈতিক নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এই প্রতিবেদনটি স্পেনের মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত চলমান জলবায়ু সম্মেলনে প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনটির সহ-সম্পাদক ড্যান ল্যাফলি বলেন, ‘সামুদ্রিক অক্সিজেন হ্রাস সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্রকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে যেটা ইতোমধ্যে সমুদ্র উষ্ণায়ন এবং অম্লীকরণের চাপে রয়েছে।’

‘অক্সিজেন হ্রাসকরণের এই প্রক্রিয়া থামাতে আমাদের প্রয়োজন গ্রিনহাউজ গ্যাস নিমর্গন কমানো এবং সেই সঙ্গে কৃষি এবং অন্যান্য উৎস থেকে পুষ্টি দূষণ কমানো।’

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0751 seconds.