• বিদেশ ডেস্ক
  • ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯ ০১:২৯:৪৫
  • ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ ২০:২৭:০৮
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

গণহত্যা অস্বীকারকারীকে নোবেল, প্রত্যাহার চায় তুরস্ক

পিটার হ্যান্ডকে। ছবি : সংগৃহীত

সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারজয়ী পিটার হ্যান্ডকের নোবেল পুরস্কার প্রত্যাহার করে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে তুরস্ক। ১৯৯২-৯৫ সালে সংঘটিত বসনিয়ার গণহত্যা অস্বীকারকারী অস্ট্রিয়ার এই লেখককে নোবেল দেয়ার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে দেশটি।

তুরস্কের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ইব্রাহিম কালিন সুইডিশ অ্যাকাডেমি কর্তৃক পিটার হ্যান্ডকে’কে নির্বাচিত করার এই পদক্ষেপকে লজ্জাহীন আচরণ বলে উল্লেখ করেন।

তিনি টুইটারে লেখেন, ‘সোমবার(৯ ডিসেম্বর) পিটার হ্যান্ডকের হাতে নোবেল পুরস্কার তুলে দেয়া হবে। তিনি মিলোসেভিচকে সমর্থন করেন এবং বসনিয়ার গণহত্যা অস্বীকার করেন।’

তিনি আরো লিখেন, ‘এই লজ্জাহীন সিদ্ধান্ত সংশোধন করা উচিত। নৈতিক চেতনা এবং লজ্জার বোধ নেই এরকম একজনকে আপনারা কীভাবে পুরস্কার দিতে পারেন। এর মাধ্যমে গণহত্যাকে উৎসাহিত করতে চান?’ 

এদিকে শনিবার (৭ ডিসেম্বর) তুরস্কের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় টুইটারে একটি বার্তা পোস্ট করে। সেই বার্তায় বলা হয়, ‘২০১৯ সালে সাহিত্যের জন্য পিটার হ্যান্ডকে যে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়েছে আমরা তা তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। তিনি বসনিয়ার গণহত্যা অস্বীকার করেন এবং এই গণহত্যার জন্য দায়ী স্লোবোদান মিলোসেভিচের কট্টর সমর্থক। আমাদের বসনিয়ান ভাইদের হত্যার জন্য দায়ী এই ব্যক্তি (মিলোসেভিচ)।

উল্লেখ্য, অক্টোবরে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের জন্য হ্যান্ডকের নাম ঘোষণা করার পর, বসনিয়ার গণহত্যার শিকার মানুষের আত্মীয়-স্বজন এবং হত্যাকাণ্ডের কবল থেকে বেঁচে যাওয়া অনেকেই সুইডিশ অ্যাকাডেমির এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছিলেন।

পিটার হ্যান্ডকে তার ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত বই ‘অ্যা জার্নি টু দ্য রিভারস: জাস্টিস ফর সার্বিয়া’ তে সার্বিয়ার যুদ্ধাপরাধকে অনেক ছোট করে দেখিয়েছেন। কসোভো যুদ্ধের সময় তিনি এক প্রতিবেদনে লিখেছিলেন, বসনিয়ার মুসলমানরা নিজেরা নিজেদের হত্যা করে সার্বদের উপর দোষ চাপিয়েছে। তিনি কখনই বিশ্বাস করেন না সার্বরা স্রেব্রেনিৎসার গণহত্যা করেছে।

এছাড়া যুদ্ধের সময়ও তিনি সার্বদের সমর্থন করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।

বসনিয়া গণহত্যার জন্য দায়ী মিলোসেভিচের একনিষ্ঠ ভক্ত এবং সমর্থক ছিলেন তিনি। গণহত্যার অভিযোগে হেগের যুদ্ধাপরাধ আদালতে বিচার চলার সময় তিনি মারা যান। ২০০৬ সালে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিলেন হ্যান্ডকে। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘আমি এখানে যুগোস্লাভিয়া, সার্বিয়া এবং মিলোসেভিচের জন্য এসেছি।

এদিকে নোবেল পুরস্কার জয়ী হিসেবে পিটার হ্যান্ডকে ৯ লাখ ৫২ হাজার ডলারের পাশাপাশি একটি মেডেলও পাবেন।

বাংলা/এফকে

 

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0215 seconds.