• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ১২ ডিসেম্বর ২০১৯ ১২:০৩:৩৬
  • ১২ ডিসেম্বর ২০১৯ ১২:০৩:৩৬
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

ডয়চে ভেলে’র সাথে সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আলী রিয়াজ

৯০’র পর থেকেই হাইব্রিড রেজিমে বাংলাদেশ

ফাইল ছবি

বাংলাদেশের বর্তমান সরকার ব্যবস্থাকে ‘হাইব্রিড রেজিম’ বা ‘দো-আঁশলা’ শাসন ব্যবস্থা হিসেবে অভিহিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. আলী রীয়াজ। তা ১৯৯০ সালের পর থেকে এর যাত্রা শুরু করে এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে এ অবস্থায় পৌঁছেছে বলে জার্মান গণমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন তিনি।

বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থাকে হাইব্রিড রেজিম কেন বলছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে আলী রীয়াজ বলেন, ‘রাষ্ট্র বিজ্ঞানে হাইব্রিড রেজিম বলতে বোঝায় একটি দো-আঁশলা ব্যবস্থাকে যেখানে গণতন্ত্রের উপাদানগুলো অনুপস্থিত থাকে। ১৯৯১ সালের পর বাংলাদেশ গণতন্ত্রের যে প্রতিশ্রুতি ছিল সেগুলো পূরণ হয়নি। কখনো বিএনপি, কখনো আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে৷ কিন্তু কী দাঁড়ালো?’

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত হচ্ছে না, নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করছে না ও দুর্নীতি দমন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘৯১ পররবর্তী সময় থেকেই আমরা এ অবস্থাটি খেয়াল করছি। ৯৬ সালে বিএনপি একদলীয় নির্বাচন করলো। দেখা গেলো গণতন্ত্রের ইনক্লুসিভনেস এর ধারণাকে সে নিশ্চিত করছে না। সৌভাগ্য যে সেটা টেকে নি।’

তিনি বলেন, ‘পরিক্রমায়, ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর একটি অথারিটারিয়ান ইলেকটোরাল সিস্টেমে প্রবেশ করল বাংলাদেশ। আর সব মিলিয়ে এটিকে হাইব্রিড রেজিম বলা যায়। এ তালিকায় রয়েছে রাশিয়া, তুরস্ক, ভেনিজুয়েলাসহ আরো অনেক দেশ।’

বর্তমান সরকারের এক বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় জাতীয় সংসদকে কতোটা কার্যকর দেখতে পান? এমন প্রশ্নের জবাবে আলী রীয়াজ বলেন, ‘এই সংসদ থেকে আমার কোন প্রত্যাশা নেই। কারণ এর নৈতিক বৈধতা নেই। ২০১৪ সালেও ছিল না। শুধু বিরোধী দল অংশ নেয়নি বলে নয়। আপনি হয়তো এর সাংবিধানিক বৈধতা দেখাতে পারেন। কিন্তু এর নৈতিক বৈধতা নেই। আপনি যদি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় জিতে আসতেন...এমনকি পরাজিত শক্তিরও নৈতিক বৈধতা থাকে যদি স্বচ্ছতার মধ্য দিয়ে নির্বাচন হয়।’

তাকে প্রশ্ন করা হয়, ‘পশ্চিমা বিশ্ব সবসময়ই গণতন্ত্রের কথা বলে। আপনি বলছেন বাংলাদেশে গণতন্ত্র উপস্থিত নেই৷ কিন্তু পশ্চিমা সরকারগুলোতো বর্তমান সরকারের সাথে কাজ করে যাচ্ছে? এটা কেন হচ্ছে?’

জবাবে তিনি বলেন, ‘পশ্চিমা দেশগুলোর এ স্বীকৃতিকে আমি এতোটা গুরুত্ব দেখি না। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, যদি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন তাহলে আপনি চাপ প্রয়োগ করবেন কীভাবে? সেই স্বার্থেই তারা যোগাযোগ রাখছে।  যেমন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপীয় ইউনিয়ন যদি সম্পর্ক নষ্ট করে তাহলে বিশ্বের অনেক দেশের সাথেই তাদের সম্পর্ক নষ্ট হবে। সেক্ষেত্রে গণতন্ত্র এ মানবাধিকারের যে মূলনীতি নিয়ে তারা কাজ করতে চায় সেটি নিয়ে আর এগুতে পারবে না।’

বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষায় গণমাধ্যম কতোটা শক্তিশালী ভূমিকা রাখছে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র না থাকলে গণমাধ্যম স্বাধীন থাকবে এটা হয় না। আপনি যদি বিরোধী কণ্ঠগুলো না রাখেন, শক্তি প্রয়োগকে প্রধান বলে বিবেচনা করেন, বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করেন তাহলে সংবাদপত্র থাকবে, টেলিভিশন থাকবে তারা আবার বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করছেন সেটি হবে না।’

অধিকাংশ গণমাধ্যম এখন ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষার বর্ম হিসেবে কাজ করছে উল্লেখ করে আলী রিয়াজ প্রশ্ন করেন, ‘যেটি বর্ম সেটি কীভাবে স্বাধীন হয়?’

জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে সরকারের ভূমিকাকে কীভাবে মূল্যায়ন করেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আপাত দৃষ্টিতে সাফল্য অর্জিত হয়েছে। তবে জঙ্গিবাদ থামানো হয়েছে শক্তি প্রয়োগ করে। কিন্তু দেখুন, ২০০৭ সালে জেএমবির পুরো নেতৃত্বকে দমন করা হয়েছিল। ২০১৬ সালে দেশে আবারো জঙ্গিবাদ দেখা গেল। কেন হলো?’

এর কারণ হিসেবে সহিংস উগ্রবাদী চিন্তায় যারা আকৃষ্ট হয়েছে তারা কেন আকৃষ্ট হয়েছে সে বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি আলোচনা হচ্ছে না বলে মনে করেন তিনি। এ বিষয়গুলোকে চিহ্নিত করে মোকাবেলা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন আলী রিয়াজ।

বাংলা/এসএ

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0299 seconds.