• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ ২১:৩০:৪১
  • ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ ২১:৩০:৪১
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

প্রধান শিক্ষকসহ ৩ জনের ধর্ষণে মা হলো শিশুটি

ছবি : সংগৃহীত

বরিশালে প্রধান শিক্ষকসহ তিনজনের ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা চতুর্থ শ্রেণির সেই ছাত্রী‌ এক কন্যাশিশুর জন্ম দিয়েছে। ১৪ ডিসেম্বর, শনিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারে নবজাতকের জন্ম হয়।

নবজাতকের শ্বাসকষ্ট থাকায় তাকে শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবে তার সন্তানের বাবা কে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে সবাই।

ধর্ষণের শিকার শিশুটির ভাষ্য অনুযায়ী, বাকেরগঞ্জ উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের ভোজমহল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) বাবুল চাপরাশী এবং একই বাড়ির চাচা সম্পর্কের জুয়েল ও রনির ধারাবাহিক ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে শিশুটি। ১০ ডিসেম্বর থেকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তিনতলায় গাইনি-২ বিভাগে ভর্তি রয়েছে সে। হাসপাতালের প্রশাসনসহ তার চিকিৎসার খোঁজ-খবর রাখছে ‘ভোলা ব্লাড ডোনার্স ক্লাব’ নামের একটি সংগঠন।

বাকেরগঞ্জ উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের ভোজমহল গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান এই স্কুলছাত্রী। চার ভাই-বোনের মধ্যে সে সবার ছোট। তার মা বিভিন্ন বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করেন এবং বাবা সবজি বিক্রি করেন।

‘ভোলা ব্লাড ডোনার্স ক্লাব’ সংগঠনের পক্ষে সার্বক্ষণিক হাসপাতালে অবস্থান করছেন কলেজছাত্র সুজন। তিনি বলেন, ‘শনিবার সকালে হাসপাতালের চিকিৎসকদের বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্বাভাবিক প্রসবে ঝুঁকি থাকায় সিজারিয়ান অপারেশন করার সিদ্ধান্ত হয়। দুপুর পৌনে ১২টায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কন্যাশিশুর জন্ম হয়।’

সুজন বলেন, ‘শিশুটির বাবা গ্রামের বনজঙ্গল থেকে কচুসহ যাবতীয় শাক-সবজি তুলে বিক্রি করে সংসার চালান। গর্ভে বয়স চার মাস থাকাকালীন শিশুটির মা জানতে পারলেও অর্থের অভাবে চিকিৎসা এবং ধর্ষকদের প্রভাবে মুখ খুলতে না পারায় আজ এ পর্যায়ে পৌঁছে। এখন বড় দুশ্চিন্তা হলো কে নেবে এই নবজাতক ও শিশু মায়ের দায়িত্ব। আর কে এই নবজাতকের বাবা!’

ধর্ষণের শিকার শিশুটি জানায়, প্রায় এক বছর আগে প্রধান শিক্ষক বাবুল হোসেন বিদ্যালয় ভবনের তিনতলায় লাইব্রেরি কক্ষে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। এরপর প্রায়ই সহকারী শিক্ষিকা রেবাকে দিয়ে তাকে লাইব্রেরিতে ডেকে নিয়ে প্রধান শিক্ষক ধর্ষণ করত। রেবা লাইব্রেরির বাইরে পাহারায় থাকত। পরে একই বাড়ির সম্পর্কে চাচা জুয়েলও বাবা-মায়ের অনুপস্থিতিতে তাকে ধর্ষণ করত। এছাড়া রনি নামের এক প্রতিবেশীও তাকে ধর্ষণ করে। গর্ভের চার মাসের সময় শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন হলে মায়ের চাপের মুখে তার কাছে সবকিছু খুলে বলে। তখন প্রধান শিক্ষকের চাপের মুখে শুধু জুয়েলকে আসামি করে মামলা করেন শিশুটির মা।

বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশের ওসি আবুল কালাম বলেন, ওই ছাত্রীর মা বাদী হয়ে শুধু জুয়েলকে আসামি করে মামলা করেন। ওই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে সে এ মামলায় কারাগারে। এছাড়া ওই শিশু শুধু জুয়েলকে দায়ী করে ২২ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। মামলার চার্জশিটও দেয়া হয়েছে। এখন প্রধান শিক্ষকের নাম আসা প্রসঙ্গে ওসি বলেন, জুয়েল শিশুটির নিকটাত্মীয়। ঘটনাটি ভিন্নখাতে নিতে প্রধান শিক্ষকের নাম আসতে পারে।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক বাবুল চাপরাশীর মোবাইল ফোন বন্ধ ও আত্মগোপনে থাকায় তার বক্তব্য জানা যায়নি। তবে তার স্বজনরা বলছেন, তিনি স্থানীয় রাজনীতির শিকার।

বরিশালের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম বলেন, যারাই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। আদালতের সম্মতি সাপেক্ষে ধর্ষণের মামলাটি পুনরায় তদন্ত করা যায় কি-না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তা সম্ভব না হলে ধর্ষণের আরেকটি মামলা করে পুনরায় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ঘটনায় জড়িত কেউ রেহাই পাবে না।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বাকেরগঞ্জ ধর্ষণ

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0888 seconds.