• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ ২২:২১:১৭
  • ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ ২২:২১:১৭
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

ভর্তির লোভ দেখিয়ে চবি কর্মকর্তার কু-প্রস্তাব!

আরমান হেলালী। ছবি : সংগৃহীত

ছোটবোনকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ করে দেবেন এই লোভ দেখিয়ে বড় বোনকে কুপ্রস্তাব দেয়ার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের ঊর্ধ্বতন সহকারী কর্মকর্তা আরমান হেলালীর বিরুদ্ধে। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রেজিস্ট্রার অফিস এবং থানায় পাল্টা অভিযোগ দিয়েছেন এই কর্মকর্তা।

জানা গেছে, এইচএসসিতে ইম্প্রুভমেন্ট দেয়া এক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় পাস করেন। তবে ইম্প্রুভমেন্ট দিয়ে ভর্তি সুযোগ না থাকায় বিপাকে পড়েন ওই শিক্ষার্থী। এরই সুযোগ নিতে চান ওই কর্মকর্তা।

অভিযুক্ত কর্মকর্তা আরমান হেলালী বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অফিসের ঊর্ধ্বতন সহকারী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি চবি ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ছিলেন।

হেলালীর সঙ্গে মেসেঞ্জারে কথোপকথনের স্ক্রিনশটগুলো ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর বড় বোন ভুক্তভোগী ওই নারী শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করেন। মুহূর্তের মধ্যেই পোস্টটি ভাইরাল হয়ে যায়। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে বইছে সমালোচনার ঝড়।

স্ক্রিনশটগুলো পোস্ট করে ওই নারী তার ফেসবুক আইডিতে লিখেন, ‘একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের কর্মকর্তা থাকতে পারে বিশ্বাস হয় না। আমার ছোট বোন ইম্প্রুভমেন্ট দিয়ে এবার অ্যাডমিশন টেস্ট দিয়েছিল। তার ভর্তির ব্যাপারে কথা বলতেই চবির রেজিস্ট্রার অফিসে যাওয়া। সেখানেই এই মানুষরূপী জানোয়ারের সঙ্গে পরিচয়।’

‘হেল্প করার কথা বলে আমার নাম্বার নেয়, পরে ফেসবুক আইডি পেয়ে প্রায়ই ডিস্টার্ব করা শুরু করে। আজ ডিস্টার্বের মাত্রা ছাড়িয়ে দিয়েছে কিছু অশালীন ছবি পাঠিয়ে। এভাবে সাহায্যের নামে বাজে প্রস্তাব দিয়ে যাচ্ছিল অনেক দিন’ অভিযোগ করেন তিনি।

ওই নারী আরো লিখেন, ‘হ্যাঁ, আমি চবির কেউ না। তাই বলে চবির একজন কর্মকর্তা আমাকে বাজে কথা বলে যাবে তার কোনো অধিকার নেই। আপনারা যারা চবি শিক্ষার্থী আছেন, আমি এই অভিযোগটা আপনাদের দিলাম।...’

ভুক্তভোগী নারীর ফেসবুকে দেয়া স্ক্রিনশটগুলো পর্যালোচনা করে দেখা গেছে- গত ২৮ নভেম্বর বিকেল ৫টা ৪৪ মিনিটে হেলালী ওই নারীকে বলেন, ‘আগামীকাল চকবাজার আছো?’ জবাবে ওই নারী কেন জানতে চান। তখন হেলালী বলেন, ‘তোমার সঙ্গে কথা আছে। দেখা করে কথা বলব। তোমার বোনকে আনিও না। একা আসিও।’

ওই নারী জানতে চান, ‘কোনো খবর কি পেয়েছেন আর ভাইয়া।’ জবাবে হেলালী বলেন, ‘না পাইনি। আর পেলেও বলব না।’ ওই নারী কেন জানতে চাইলে হেলালী বলেন, ‘আমি তোমার ভাইয়া না তাই। যারা তোমার ভাই তাদের থেকে খবর নাও।’

জবাবে ওই নারী বলেন, ‘বুঝিনি।’ তখন আরমান বলেন, ‘বললাম আমাকে ভাইয়া ডাকবে না।’ তখন ওই নারী বলেন, ‘তাহলে কি ডাকব।’ জবাবে আরমান বলেন, ‘যা তোমার ইচ্ছা।’

ওই নারী তখন বলেন, ‘প্লিজ, আমাকে চবির খবরটা জানলে বলবেন। আমার ছোট বোন প্রতিদিন কান্না করে ব্যাপারটা নিয়ে।’

হেলালী ওই নারীকে বারবার বিরক্ত করলে তিনি পরবর্তীতে তাকে বলেন, ‘ভাইয়া ওদের আর ভর্তি করাবে না সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। আপনাকে আর কষ্ট করতে হবে না, ধন্যবাদ।’

জবাবে হেলালী বলেন, ‘আমার কথায় ভিসি সব করবে। আমি ভর্তি করাতে পারব তোমার বোনকে।’

এ সময় ওই নারী কীভাবে জানতে চাইলে আরমান বলেন, ‘নতুন ভিসিকে আমি যা বলব তা করবে। ভর্তির কাজ শুরু হয়েছে। আমি ভর্তি করাতে পারব তোমার বোনকে। ভিসির সঙ্গে আমার খুব ভালো রিলেশন। আমি কিছু বললে মানা করবে না কখনো। এবারের ভিসি আমাদের ভিসি।’

তখন ওই নারী বলেন, ‘দরকার নেই। ধন্যবাদ আপনাকে।’ জবাবে হেলালী বলেন, ‘আচ্ছা দেখা কর। আমি বুঝিয়ে সব বলছি।’ তখন ওই নারী বলেন, ‘দেখা কেন করব, আজব। প্লিজ, ডিস্টার্ব করবেন না।’

হেলালী তখন বলেন, ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি।’ জবাবে ওই নারী বলেন, ‘ফালতুমি করবেন না একদম।’ এ সময় হেলালী বলেন, ‘তোমার নাম্বারটা দাও। রাত হলে আর কন্ট্রোল হয় না। কথা বলব।’ এর পরপর ওই নারীর মেসেঞ্জারে কিছু অশ্লীল ছবিও পাঠান অভিযুক্ত হেলালী।

ভুক্তভোগী ওই নারী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও অভিযুক্ত প্রভাবশালী হওয়ায় এ বিষয়ে বেশিকিছু বলতে রাজি হননি।

এদিকে এ ঘটনায় ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক বলেন, ডিন অফিসের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গায় এমন অনৈতিক ও বিকৃত মানসিকতার লোক চাকরি করতে পারে না। উপাচার্যের উচিত, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মে তাকে সাসপেন্ড করা। না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত চবি কর্মকর্তা আরমান হেলালী বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে একটা মিথ্যা অভিযোগ দেয়া হচ্ছে।’

চবি প্রক্টর অধ্যাপক মনিরুল হাসান বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। তবে ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাইনি। আর সে (হেলালী) রেজিস্ট্রার বরাবর অভিযোগ জানিয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সুপারিশের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ভর্তি করানোর কোনো সুযোগ নেই। কোনো কর্মকর্তা কেন, আমি নিজে বা কেউই পারব না।’

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.1631 seconds.