• বাংলা ডেস্ক
  • ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ ১১:৪৯:৩৬
  • ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ ১৩:১০:১৬
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

বাপেক্সের সঙ্গে দ্বন্দ্ব, আদালতে যাবে সকার!

ফাইল ছবি

বাংলাদেশ তেল গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন কোম্পানি (বাপেক্স)’র বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে যাওয়ার চিঠি দিয়েছে আজারবাইজানের তেল-গ্যাস উত্তোলনকারী কোম্পানি ‘সকার একিউএস ইন্টারন্যাশনাল ডিএমসিসি’। একাধিকবার চেষ্টা করেও বাপেক্সের সঙ্গে বিরোধ মীমাংসা করতে ব্যর্থ হয়ে কোম্পানিটি এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়।

বাপেক্সের সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী তিনটি কূপ খনন করার কথা। কিন্তু কূপ একটি খনন করার পর অন্য দুটির খনন কাজে সহায়তা না করার অভিযোগ এনেছে কোম্পানিটি। এদিকে সকার’র বিরুদ্ধেও পাল্টা ত্রুটির অভিযোগ তুলেছে বাপেক্স। এমন খবর প্রকাশ করেছে বেসরকারি টেলিভিশন ইন্ডিপেন্ডেন্ট।

প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীকে ১৬ ডিসেম্বর দেয়া এক চিঠিতে তাদের বিরোধ মীমাংসা করে যাবতীয় পাওনা পরিশোধ করার আহ্বান জানায় সকার।

এ বিষয়ে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘আমরা স্থানীয়ভাবে আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি।’

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আজারবাইজান সফরের সময় এ বিষয়ে সে দেশের জ্বালানি মন্ত্রীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি অনুরোধ করেছেন বিষয়টি সমাধান করে দেয়ার জন্য। আমি এসে কথা বলেছি। যেটা দেখা যাচ্ছে, দায় দুই পক্ষেরই আছে। আশা করছি এ বিষয়ে আলোচনা করে একটি সমাধানে পৌঁছাতে পারবে উভয় পক্ষ।’

জ্বালানি বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ ২২ ডিসেম্বর, রবিবার এ বিষয়ে জ্বালানি বিভাগের বৈঠক। সেখানে বাপেক্স ও সকার’র বিরোধ নিয়ে আলোচনা হবে। এতে কোম্পানিটির পক্ষে চারজন প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন।’ আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যাটি সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অক্টোবরে আজারবাইজান সফরের সময় দেশটির পক্ষ থেকে সকার’র বিষয়টি সমাধানের জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। তখন প্রধানমন্ত্রী এ সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন। এরপর আজারবাইজানের জ্বালানি মন্ত্রী বাংলাদেশের বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠকও করেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের জুলাইয়ে খাগড়াছড়ির সেমুতাং-১, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ-৪ ও জামালপুরের মাদারগঞ্জ-১—এই তিনটি গ্যাস কূপ খননের জন্য সকার’র সঙ্গে চুক্তি করে বাপেক্স। এরপর ২০১৮ সালে খাগড়াছড়ির সেমুতাং-১ গ্যাস কূপ খনন শেষে কোনো গ্যাস পায়নি কোম্পানিটি। সমস্যা শুরু হয় দুই নম্বর কূপ খনন কাজ শুরু করার সময়। সেমুতাং থেকে বেগমগঞ্জ-৪-এর রিগ ও মালামাল নিয়ে কাজ শুরুর প্রস্তুতি নেয় সকার। কিন্তু বাপেক্সকে বারবার তাগিদ দেয়ার পরও তারা বিলে অনুমোদন দেয়নি।

একপর্যায়ে চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় বাপেক্স। সকার সবকিছু মেনেও নেয়। চুক্তি বাতিল করলে সকারকে যে ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা তা দিতে চাচ্ছে না বাপেক্স। আর এ নিয়েই বিরোধে জড়িয়েছে দুই পক্ষ। এর মধ্যে বাপেক্সের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে ক্ষতিপূরণ আর বকেয়া বাবদ প্রায় ১৪০ কোটি টাকা দাবি করেছে আজারবাইজানের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব কোম্পানি সকার।

এ প্রসঙ্গে বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল হান্নান বলেন, ‘সব দায় বাপেক্সের, এমন অভিযোগ ঠিক নয়। সকার’রও কিছু ত্রুটি রয়েছে।’ বাপেক্স যথাযথ কর্তৃপক্ষের মধ্যস্থতায় বিষয়টির সমাধান চায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলা/এনএস

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0208 seconds.