গ্রেটা থানবার্গ। ছবি: সংগৃহীত
ক্লান্তিহীন কিশোর এক্টিভিস্ট গ্রেটা থানবার্গ। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অ্যাকশনের জন্য চষে বেরিয়েছে সারাবিশ্ব। এসব ভ্রমণ সে করেছে কখনো কার, কখনো ট্রেনে, আবার কখনো বা নৌকায় করে; বিমানে নয়। তবে এখন তার দরকার পড়েছে বিশ্রামের।
টাইম ম্যাগাজিনের সেরা ব্যক্তি নির্বাচিত হয়েছিল ষোল বছর বয়সী এই সুইডিশ। গ্রেটা শুক্রবার ইতালির তুরিন শহরে হাজার হাজার শিক্ষার্থীদের এক সমাবেশে যোগ দিয়েছিল। ক্ষতিকর কার্বন নি:সরণ কমাতে দেশটির সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে ছিল সে সমাবেশ।
থানবার্গ বিমানে চড়ার আহ্বান প্রত্যাখান করে ট্রেনে করে পৌঁছেছিল তুরিন শহরে। এর আগে স্পেনের মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনেও গিয়েছিল কার-এ করে। কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রে ক্যাম্পেইন করার পর থানবার্গ ইউরোপে পৌঁছায় নৌকায় করে।
এখন তার দরকার একটু বিশ্রামের।
‘ক্রিসমাসে বাড়িতে থাকবো। আমার ছুটি নেয়া প্রয়োজন কেননা আপনার ছুটির প্রয়োজন আছে। এছাড়া এসব আপনি সব সময় করতে পারবেন না’, গ্রেটা তুরিনের সাংবাদিকদের বলে।
তবে এই বিখ্যাত এক্টিভিস্ট ব্যাপকমাত্রার শক্তির পরিচয় দেখিয়েছে। ‘২০১৯ সাল প্রায় শেষ হতে চলেছে। আমাদের অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে ২০২০ সাল হল কাজের বছর। এটা হবে সেই বছর যখন আমরা বৈশ্বিক নির্গমনের সূচক নিচে নামিয়ে ফেলবো’, সমবেত তরুণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে এসব কথা বলে গ্রেটা থানবার্গ।
‘ক্ষমতায় যারা আছে তাদের ওপর আমরা চাপ প্রয়োগ করতে যাচ্ছি। আমরা নিশ্চিত করতে যাচ্ছি যে তারা কাজ করবে এবং তারা দায়-দায়িত্ব নেবে।’
গ্রেটার যখন ১৫ বছর বয়স তখন সে শুক্রবারগুলোতে স্কুলে যেত না। কার্বন নিসরণ কমাতে সরকারকে বাধ্য করতে সুইডিশ সংসদের পাশে প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে যেত। তার ক্যাম্পেইন বিশ্বব্যাপী একটি তৃণমূল আন্দোলনের জন্ম দেয়। এখন এই আন্দোলন ‘ফ্রাইডেস ফর ফিউচার’ পরিচিত হয়। গ্রেটা থানবার্গের অনুপ্রেরণায় অ্যাকশনে নেমে পড়ে লাখো মানুষ।
‘এটা ঠিক নয় পুরনো প্রজন্ম এই সমস্যার সমাধান করতে তরুণদের হাতে দায়িত্ব ঠেলে দিয়েছে যারা এই সমস্যার শুরু করেনি। এটা ন্যায্য নয় আমাদের সবকিছুই করতে হবে।’
‘বয়স্করা এমন ভাব দেখাচ্ছে যে সেখানে কোন আগামীকাল নেই’, সাবধান করে দিয়ে গ্রেটা বলে, তরুণরা ‘আর ওই ধরণের আগামীকাল মেনে নেবে না।’
বাংলা/এনএডি