• বিদেশ ডেস্ক
  • ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯ ২০:১৮:৩০
  • ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯ ২০:৪২:১৫
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

এবার তুষারেও মিললো প্লাস্টিক

ছবি : সংগৃহীত

এই বছর তুষারপাতে মাইক্রোপ্লাস্টিক’র (প্লাস্টিকের অতিক্ষুদ্র কণা) উপস্থিতি পাওয়া কথা জানিয়েছেন গবেষকরা। এই মাইক্রোপ্লাস্টিক অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে এন্টার্কটিকার পানি থেকে শুরু করে আমাদের টেবিলের লবণ পর্যন্ত সর্বত্র বিরাজ করছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটা বাতাস অথবা তুষার ঝড়ের মাধ্যমে গেছে।

যতদূর সম্ভব গত বছর মাইক্রোপ্লাস্টিক পরিবহনের প্রধান মাধ্যম হিসেবে পানির কথা জানা যায়। কয়েক বছর আগেই খাবার পানির মধ্যে এটা দেখানো হয়। কিন্তু তুষার পাতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে- বাতাস মাইক্রোপ্লাস্টিকগুলোকে বহন করে এবং বাতাস থেকে শীতল তুষার কণাতে গিয়ে জমা হয়। বার্তা সংস্থা কোয়ার্টাজ (QUARTZ) এমন খবর প্রকাশ করেছে।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে সর্বপ্রথম বাতাসের মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিক পরিবহনের বিষয়টি কিছু গবেষণায় ধরা পড়ে। ফ্রান্স ও স্কটল্যান্ডের গবেষক দল ঘোষণা করেন, তারা পাইরিনিস পর্বতমালায় মাইক্রোপ্লাস্টিক পেয়েছিলো, বাতাসের মাধ্যমে উড়ে বার্সেলোনার মত দূরত্বে চলে গেছে। এরপর আগস্টে মাসে বিজ্ঞানীরা তুষারপাতে খুঁজে পান।

গবেষকরা সুইস আল্পস ও উত্তরমেরুতেও মাইক্রোপ্লাস্টিক খুঁজে পাওয়ার বিষয়টি প্রকাশ করেছিলো। যা সম্ভবত বাতাসের মাধ্যমে বয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হয়। ডিসেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে আমেরিকান জিওফিসিক্যাল ইউনিয়ন (এজিইউ)’র বার্ষিক সভায় ‘ডেসার্ট রিসার্চ ইনিস্টিটিট রিনো’র গবেষকরা জানান, তারা ক্যালিফোর্নিয়ার সিয়েরা নেভাদাসের তুষারে মাইক্রোপ্লাস্টিক খুঁজে পেয়েছেন।

এর অর্থ এই যে, বাতাসে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে। এটাকে এক ধরনের বাযু দুষণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। গবেষকরা তাদের গবেষণায় আল্পস ও উত্তরমেরুতে প্রতি লিটার তুষারে গড়ে ১ হাজার ৭৬০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক খুঁজে পায়। যেটা গ্রিনল্যান্ড ও নরওয়ের বরফে ওপর পড়েছিলো। এছাড়া ইউরোপের আল্পাস এলাকা থেকে সংগ্রহ করা নমুনাতেও গবেষকরা মাইক্রোপ্লাস্টিকের অধিক উপস্থিতি পান। যার পরিমাণ প্রতি লিটারে গড়ে ২৪ হাজার ৬০০টি ছিলো।

তাই মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকার কারণে বিশ্বের তুষার এখন গবেষণার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। আর এ ঘটনা সর্বত্র হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ‘সিটিজেন সাইন্স প্রোজেক্ট’র মাধ্যমে এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে। ‘এর গুরুত্ব থাকা সত্ত্বে মাক্রোপ্লাস্টিকের স্থানান্তর ও ফল সম্পর্কে খুব কম জানা গেছে, বিশেষত তুষার কণার বিষয়ে। অধিকাংশ মানুষই এই সম্যার ব্যাপ্তি সম্পর্কে সচেতন নয়।’

এজিইউ’র সভায় তাদের পরিকল্পনাটা সারসংক্ষেপ পড়ে শোনানো হয়। ‘প্লাস্টিক-স্নো সিটিজেন সাইন্স প্রোজেক্ট’র লক্ষ্য গবেষণাকে পরিপূর্ণ করা এবং গবেষণার বিজ্ঞানসম্মত ফলাফল পেতে-সাধারণ জনগনের কাছে থেকে তথ্য সংগ্রহ করা, শিক্ষামূলক প্রোগ্রাম করা এবং সক্রিয়ভাবে প্রচার ও সংযুক্ত করা।’

এই সমস্যা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেতে গবেষকরা মনস্থির করেছেন, তারা সারাদেশ থেকে বরফগলা পানি সংগ্রহ করবেন।

এখন শীতপ্রধান দেশগুলোতে শীতের মজা নিন এবং পারতো পক্ষে তুষার খাবেন না।

বাংলা/এনএস

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0190 seconds.