• বিদেশ ডেস্ক
  • ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯ ২৩:০৯:১৮
  • ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯ ২৩:০৯:১৮
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

নাগরিকত্ব আইন: বিক্ষোভে ক্ষতিগ্রস্ত ভারতের পর্যটন শিল্প

ছবি : সংগৃহীত

ভারতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে চলমান প্রতিবাদ-বিক্ষোভের কারণে দেশটির পর্যটন শিল্প ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। গত দুই সপ্তাহে দুই লাখের মত দেশি বিদেশি পর্যটক তাজমহল ভ্রমণ বাতিল কিংবা স্থগিত করেছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।   

১১ ডিসেম্বর নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনটি ভারতের সংসদে পাশ হওয়ার পর থেকেই এই আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়।  প্রথমে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। এরপর দিল্লির জামিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই আইনের প্রতিবাদ করে বিক্ষোভ করেন। কিন্তু পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক মারধোর করার পর সারাদেশজুড়ে এই আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়ে যায়।

চলমান এই বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ২৫জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।  এছাড়া বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে।  একারণে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, ইসরায়েল, সিঙ্গাপুর, কানাডা এবং তাইওয়ান ভারত সফরে যাওয়ার ব্যাপারে তাদের নাগরিকদের সতর্কতা জারি করেছে।

এদিকে বিগত দুই সপ্তাহে তাজ মহল পরিদর্শনে যেতে ইচ্ছুক এমন ২ লাখ দেশি-বিদেশি পর্যটক তাদের ভ্রমণ বাতিল অথবা স্থগিত করেছেন বলে জানিয়েছেন সরকারী কর্মকর্তা।  প্রসঙ্গত, বিশ্বের সবচেয়ে কাংখিত পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে তাজমহলের ব্যাপক খ্যাতি রয়েছে। 

তাজমহলের কাছে অবস্থিত বিশেষ পর্যটন থানার পুলিশ পরিদর্শক দিনেশ কুমার জানান, গত বছরের তুলনায় এবছর পর্যটকের সংখ্যা শতকরা ৬০ ভাগ কমে গিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ বিদেশি এবং ভারতীয় পর্যটকরা আমাদের কন্ট্রোল রুমে নিরাপত্তার বিষয়ে খোঁজ খবর নেয়ার জন্য ফোন করেন।  আমরা তাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়া স্বত্ত্বেও অনেকেই তাজমহল থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ’  

উল্লেখ্য, তাজমহল মুঘল সম্রাট শাহজাহান তৈরি করেন।  প্রিয়তমা স্ত্রী মুমতাজ মহলের উদ্দেশ্যে তিনি এই স্মৃতিসৌধটি নির্মাণ করেন।  সাদা মার্বেল পাথরের নির্মিত এই স্মৃতিসৌধটি উত্তর প্রদেশে অবস্থিত।  এই রাজ্যেই নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে সবচেয়ে বেশি সহিংসতা হয়েছে।  বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুও এই রাজ্যেই সবচেয়ে বেশি হয়েছে।  এখনও পর্যন্ত এটির পরিস্থিতি অস্থিতিশীল রয়েছে।

এদিকে বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন ইউরোপিয়ান পর্যটকদের একটি দল জানায়, তারা ২০ দিনের সফরে ভারতে এসেছিলেন কিন্তু পরিস্থিতি বিবেচনা করে তারা এখনই চলে যেতে চাইছেন।   

রাজধানী নয়াদিল্লিতে দলটির সদস্য ডেভ মিলিকিন বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘ আমরা সকলেই অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। আমরা ধীরে সুস্থে সবকিছু দেখতে চাই। কিন্তু পত্রিকার শিরোনাম দেখে আমরা উদ্বিগ্ন। তাই আমরা সকলেই সফর সংক্ষিপ্ত করে চলে যেতে চাচ্ছি। ’   

প্রতি বছর কেবল তাজমহল দেখতেই ৬৫ লাখের বেশি পর্যটক আগ্রা শহরে যান।  ফলে প্রবেশ ফি থেকেই ১ কোটি ১৪ লাখ ডলার আয় করা হয়।

এদিকে বিলাসবহুল হোটেলের কর্মকর্তারা জানান, পর্যটকরা সফর বাতিল করার কারণে তাদের ব্যবসার অনেক ক্ষতি হচ্ছে।  এছাড়া বিক্ষোভ দমনে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়ার কারণেও তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।  

এমনিতেই বেশ কয়েক বছর ধরে ভারতের অর্থনীতির অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে পর্যটন খাত থেকে আয় কমে গেলে তা দেশের অর্থনীতির জন্য ভালো হবে না বলে সতর্ক করে দিচ্ছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বাংলা/এফকে

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0291 seconds.