• ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯ ১৬:১৫:২৭
  • ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯ ১৬:১৫:২৭
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

ক্রিকেট থেকে ফুটবল, মৃত্যুদশা চলছেই

ছবি : সংগৃহীত

বিপ্রতীপ দাস :

রমন লাম্বা কিংবা ফিলিপ হিউজ, প্রিয় সবুজ গালিচায় জীবনের কাছে আউট হয়ে হার মেনেছেন অনেকেই। কিন্তু এবারে দৃশ্যপট বদলেছে, বদল হয়নি শুধু জীবন বনাম মরণের খেল! এবারে, বাইশ গজের স্থলে গোলপোস্টের সামনেই প্রাণ হারালেন এক ভারতীয় ফুটবলার।

রবিবার পেরিনদেলমান্নায় স্থানীয় এক সেভেন এ সাইড ম্যাচে অংশ নিয়েছিলেন রাধাকৃষ্ণন ধনরাজন। খেলা চলাকালীন হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। বুকে প্রচণ্ডরকমের ব্যথা অনুভব করার কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি তার চেতনা হারান। সেই অবস্থায় তাকে তৎক্ষনাৎ স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেয়া হলে কর্মরত চিকিৎসক তার মৃত্যু মাঠেই হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন।   

মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল ও মহমেডান ছাড়াও ইউনাইটেড স্পোর্টস ও সাদার্ন সমিতিতে খেলে গিয়েছেন এই মালয়ালি লেফ্ট ব্যাক। কেরলের বিখ্যাত কোচ টি কে চাত্তুণ্ণির কাছেই ফুটবলের প্রথম পাঠ পেয়েছিলেন ধনরাজন। চাত্তুণ্ণির অন্যতম প্রিয় ছাত্রও ছিলেন। বিখ্যাত এই কোচের প্রশিক্ষণেই তিন বছর ভিভা কেরলে খেলার পরে ২০০৮ সালে  কলকাতার ইউনাইটেড স্পোর্টসে প্রথম খেলতে আসেন ধনরাজন। 

কেরল থেকে তার সঙ্গে সে বার এসেছিলেন ডেনসন দেবদাসও। এ দিন সেই ডেনসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বললেন, ‘আমার প্রিয় বন্ধু চলে গেল। একসঙ্গে কলকাতায় খেলতে এসেছিলাম। একই ক্লাবে খেলেছি। কোনও দিন শৃঙ্খলা ভাঙতে দেখিনি ধনরাজনকে। মিশুকে প্রকৃতির ছেলে। মাঠে কখনও ওকে মাথা গরম করতেও দেখিনি।’

একজন স্বীকৃত ফুটবল তারকা হিসেবে তার অর্জনের ভান্ডারে কমতি নেই। ২০১৪ মৌসুমে ইস্টবেঙ্গলে যোগ দেয়ার পূর্বে মোহামেডানকে অধিনায়ক হিসেবে এনে দেন ডুরান্ড কাপ এবং আইএফএ শিল্ডের মতো বড় বড় ট্রফি। মোহন বাগান এবং ইউনাইটেড স্পোর্টসের হয়েও রক্ষনভাগের অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকায় দেখা গেছে তাকে। 

তার হাত ধরেই ২০১০ মৌসুমের পরে সন্তোষ ট্রফির স্বাদ পায় তার বর্তমান দল ইস্টবেঙ্গল। অতি সম্প্রতি "ডি" লাইসেন্সও পূর্ণ করেন তিনি। শেষমেশ কেরল রাজ্যের ক্রীড়া পর্ষদের দ্বায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো এই প্রয়াত তারকাকে। তার অকাল প্রয়ানে স্তম্ভিত কোলকাতার ফুটবল পাড়া।

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.1061 seconds.