• বিদেশ ডেস্ক
  • ০৩ জানুয়ারি ২০২০ ১৬:৪৩:৩৬
  • ০৩ জানুয়ারি ২০২০ ১৬:৪৩:৩৬
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

পরিবেশ নিয়ে কথা বললেই ছাঁটাই, অ্যামাজন কর্মীদের সতর্ক

ছবিটি দি গার্ডিয়ান থেকে নেয়া।

এক নিদারুণ জলবায়ু সংকটের সময়ে কোম্পানির ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বললেই কর্মচারীদের ছেঁটে ফেলার হুমকি দিয়েছে  ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজন।

ইতোমধ্যে অ্যামাজন কোম্পানিটির মানবসম্পদ বিভাগ তার একজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে ‘তদন্ত’ শুরু করেছে। মারেন কোস্তা নামের ওই ব্যক্তি জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় পর্যাপ্ত অ্যাকশন নেয়ার জন্য কোম্পানিকে আহ্বান জানিয়ে মিডিয়ায় বক্তব্য দিলে এ ‘তদন্ত’ শুরু হয়।

দি গার্ডিয়ানের সঙ্গে শেয়ার করা এক ইমেইলের সূত্র ধরে এ খবর প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যমটি।

ইমেইলে মারেন কোস্তা জানান, এই পর্যায়ে তিনি হয়তো বেঁচে যাবেন। তবে ভবিষ্যতে অ্যামাজনের সম্মতি ছাড়াই মন্তব্য করলে সেটি তার চাকরি চলে যাওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

অ্যামাজনে কর্মরতদের একটি দল কোম্পানি কর্তৃক আরো কার্যকর জলবায়ু অ্যাকশন নেয়ার দাবি জানালে আইন এবং মানব সম্পদ বিভাগ সে সম্পর্কে তাদের প্রশ্ন করে। কেউ কেউ চাকরি চলে যাওয়ার সতর্কবার্তা পান ইমেইলে।

কোস্তা জানান, চার জন কর্মচারীকে প্রশ্ন করা হয়েছিল এবং তাদের মধ্যে ‍দুই জনের চাকরী চলে যাবে যদি তারা ভবিষ্যতে জলবায়ু সংকটে কোম্পানির ভূমিকা নিয়ে কথা বলতে থাকেন।

‘কিন্তু আমি কথা বলেছি কারণ ইতোমধ্যে জলবায়ু সংকট যে ক্ষতি করেছে সেটি নিয়ে আমি শঙ্কিত। আমি শঙ্কিত আমার শিশুর ভবিষ্যতের জন্য। যে কোন নীতি যা আমাকে কথা বলতে নিষেধ করে তা আমার শিশুর জন্য, সব শিশুর জন্য একটি হুমকি, আমার জন্য একটি সমস্যার’, বলেন মারেন কোস্তা।

অ্যামাজনের মতে, কোম্পানিটি ইতোমধ্যে বাহ্যিক যোগাযোগ নিয়ে তাদের নীতি হালনাগাদ করতে শুরু করেছে। বলা হচ্ছে এটা কর্মচারীদের কোন বিশেষ গ্রুপের জন্য নয়।

কোম্পানিটির একজন মুখপাত্র বলেন, ‘বাহ্যিক যোগাযোগ সম্পর্কে আমাদের নীতি নতুন নয়। আমরা বিশ্বাস করি, এটি বড় বড় কোম্পানির মতোই। সাম্প্রতিক আমরা নীতি হালনাগাদ করেছি এবং বক্তৃতা, মিডিয়া সাক্ষাৎকার এবং কোম্পানির লোগো ব্যবহার বিষয়ে কর্মচারীদের অংশগ্রহণ সহজতর করতে সেই ধরণের অনুমোদন প্রক্রিয়াও নীতিতে রয়েছে।’

কারেন কোস্তা এবং অন্যান্য কর্মচারীদের প্রতি অ্যামাজনের হুমকিটি এসেছিল যখন কোম্পানিটি সেপ্টেম্বরে ‘জলবায়ু প্রতিশ্রুতি’ ঘোষণা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে অ্যামাজন শতভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানী ব্যবহার করবে। এটা হবে ২০৪০ সালের মধ্যে কার্বন মুক্ত হওয়ার আগে। এটা অর্জনে অ্যামাজন এক লাখ ইলেকট্রিক ডেলিভারি বাহন ক্রয়ের অর্ডার দেয়।

এর আগে ৮ হাজার কর্মচারী স্বাক্ষরিত একটি খোলা চিটিতে কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী জেফ বেজোসকে একটি সুস্পষ্ট জলবায়ু লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণের আহবান জানানো হয়। তেল এবং গ্যাস কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি বাতিলের দাবি জানানো হয়। জলবায়ু সংকটের বাস্তবতা পরিহারকারী রাজনীতিবিদদের অনুদান দেয়া বন্ধ করার আহবান জানানো হয়।

অ্যামাজন এমপ্লয়িজ ফল ক্লাইমেট জাস্টিস বলেছে, প্রকাশ্যে কথা বললে চাকরি চলে যাওয়ার হুমকি সত্বেও তারা জলবায়ু সম্পর্কে আরো অধিক জোরালো পদক্ষেপ নিতে কোম্পানিটিকে চাপ দিতেই থাকবে।

বাংলা/এনএডি

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0706 seconds.