• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ০৪ জানুয়ারি ২০২০ ২০:৫৬:৩৩
  • ০৪ জানুয়ারি ২০২০ ২০:৫৬:৩৩
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

ভাঙা সড়কে ডুবছে সিলেটের পর্যটন শিল্প

ছবি : সংগৃহীত

প্রকৃতির এক অপরূপ লীলাভূমি সিলেট। প্রকৃতির এই সৌন্দর্য আর বৈচিত্রের কারণে সবসময় সিলেটে ভীড় লেগে থাকে পর্যটকদের। তবে ভাঙাচোরা সড়কের কারণে সিলেটে বেড়াতে এসে দুর্ভোগে পড়ছেন পর্যটকরা। ফলে কমছে সিলেটে পর্যটক সমাগম। এই ঈদে সড়কের ভগ্নদশার কারণে পর্যটক সমাগম নিয়ে শঙ্কায় সংশ্লিষটরা। ফলে লোকসানের শঙ্কায় পড়েছেন এই খাতের উদ্যোক্তরা।

লম্বা ছুটি বা ঈদ এলে সবসময় সিলেটে নামে পর্যটকদের ঢল নামে। আগেভাগেই বুকিং হয়ে যায় হোটেল রিসোর্টের সব রুম। কিন্তু গত দুই বছর ধরে এর চিত্রটা অনেকটা পাল্টে গেছে। এখনও শহরের বেশিরভাগ হোটেলের রুম ফাঁকা থাকে।

এই খাতের সংশ্লিষ্টরা মনে করেছেন নগরী থেকে বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে যাওয়ার সড়কগুলোর দুরবস্থার কারণেই সিলেটে পর্যটক সমাগম কমছে।

এদিকে সিলেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটক কেন্দ্র গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং। জাফলং সড়কের অবস্থা একেবারে করুন। সিলেট- তামাবিল মহাসড়কে জৈন্তাপুর বাজার পার হলেই ভোগান্তি শুরু। ৫৭ কিলোমিটার এ সড়কের জৈন্তাপুর থেকে জাফলং পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার সড়কটি খানাখন্দে ভরা। মাঝেমধ্যেই দু-তিন ফুটের গর্ত। অনেক জায়গাতেই কার্পেটিং উঠে গেছে। তামাবিল পয়েন্ট পার হলেই সড়ক আরও ভয়াবহ রুপ নিয়েছে। ভাঙাচোরা সড়কের দুভোর্গ আরও বাড়িয়ে তুলো ধুলো। পাথর ভাঙার মেশিনের ধুলোর কারণে এ সড়ক দিয়ে চলাচলই দায়।

এই সড়ক সংস্কারের ব্যাপারে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার প্রকৌশলী রাশেন্দ্র চন্দ্র দেব বলেন, এই সড়ক সংস্কারের জন্য তিনটি কালবাট এবং চৌরাঙ্গির কাচা রাস্তা থেকে রাতারগুলের পর্যটক স্পট পর্যন্ত পাকা রাস্তার জন্য ১ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের টেন্ডার হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।

জাফলংয়ের মতো সিলেটের অন্য দুই পর্যটন কেন্দ্র বিছনাকান্দি ও রাতারগুলে যেতে ভোগান্তি পড়ছেন পর্যটকেরা। পর্যটক স্পট বিছনাকান্দির দূরত্ব সিলেট থেকে প্রায় ৪২ কিলোমিটার। এ দূরত্বের গোয়াইনঘাট উপজেলার বঙ্গবীর রোড থেকে হাদারপাড় পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার সড়কের অবস্থা সবচেয়ে বেশি খারাপ।

জলারবন খ্যাত রাতারগুলে যেতে হলেও পর্যটকদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। সিলেট থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরত্বের এ সড়কের পাঁচ কিলোমিটার অংশই ভাঙাচোরা। সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়,এয়ারপোর্ট সংলগ্ন ধোপাগুল পয়েন্ট থেকে সাহেবের বাজার সড়কের প্রায় ২ কিলোমিটার রাস্তার মাঝে বড় বড় খানা খন্দকে পুরিপূর্ন।স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই রাস্তার দু ধারেই ডজনখানেক স্টোন ক্রাশার স্থাপনের ফলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারন করেছে। এ ছাড়া ওই সড়কের চানুপুর থেকে মোটরঘাট পর্যন্ত প্রায় দ্ইু কিলোমিটার সড়ক কাঁচা। এতে করে বিশেষ করে বৃষ্টিৃর দিনে পর্যটকদের যাতায়াতে চরম সমস্যা হয়। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে সিএনসি চালিত অটোরিক্সা আর লেগুনা ছাড়া কোনো গাড়িই যেতে চায় না রাতারগুল ও বিছনাকান্দিতে।

মূলত রাস্তার ভোগান্তির কারণে পর্যটকরা সিলেট থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। বাংলাদেশ পর্যটক করপোরেশনের সাবেক সদস্য ডাঃ জাকারিয়া আহমদ বলেন, ভাঙ্গাচোরা সড়কের কারণে গত ঈদে ও সিলেটে তেমন আসবেন বলে মনে হয় না।

তিনি বলেন, কেবল দামি দামি রিসোর্ট করলেই তো পর্যটকরা আসবে না। পর্যটকরা রিসোর্ট দেখতে আসে না। সিলেটে পর্যটক বিকাশে অনেকগুলো বাধা রয়েছে। এর মধ্যে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার বেহাল দশা অন্যতম।

তিনি বলেন, পর্যটকরা ছুটি কাটানোর জন্য, একটু আরাম আয়েশের জন্য বেড়াতে আসেন। অথচ সিলেটে বেড়াতে আসা এখন দুর্ভোগের অপর নাম হয়ে ওঠেছে। এসব সড়ক দ্রুত সংস্কার করা জরুরী।

সংশ্লিষ্ট বিষয়

পর্যটন শিল্প ভাঙা সড়ক

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0289 seconds.