• বিদেশ ডেস্ক
  • ০৫ জানুয়ারি ২০২০ ২২:০৫:৪৫
  • ০৫ জানুয়ারি ২০২০ ২২:০৫:৪৫
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

স্যোশাল মিডিয়া’য় ভুগছে মিডিয়া

ফাইল ছবি

সবচেয়ে ধনী দেশগুলোর গোষ্ঠী ওইসিডি বলছে, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে সংবাদপত্র পড়ছে মাত্র ২০ শতাংশ তরুণ। জনপ্রিয় হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া। ফলে বিপদে পড়ছে বিবিসি, সিএনএনের মতো প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো।

ভারতের গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান টাইমস গ্রুপের ডিজিটাল উইংয়ের কর্ণধার সত্যেন গজওয়ানি বলেন, সামনের দিনগুলোয় গণমাধ্যমকে টিকে থাকতে হলে স্যোশাল মিডিয়ার ‘স্বাদ’কে বুঝতে হবে। ব্রিটেনের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকমও তা-ই বলছে।

তাদের শঙ্কা, চলতি বছর এ হার আরো কমতে পারে। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা পিউ রিসার্চ সেন্টার জানাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের মোট কিশোর-কিশোরীর ৯৫ শতাংশ স্মার্টফোন ব্যবহারের সুযোগ পায় এবং এদের ৪৫ শতাংশ প্রায় সব সময় ‘অনলাইনে’ থাকে।

যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের তরুণদের অভ্যাস বিশ্লেষণ করেছে রয়টার্স ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব জার্নালিজম। বলা হচ্ছে, সংবাদের ক্ষেত্রে তরুণেরা পুরো সমাজের কথা ভাবে খুব কম। সংবাদের ক্ষেত্রে তরুণদের ব্যক্তিসত্তা বেশি কার্যকর থাকে। সৌদি আরবে ১৮-২৪ বছর বয়সী তরুণদের ৮০ শতাংশ সংবাদ সংগ্রহ করেন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম থেকে। সেখানে সর্বগ্রাসী ভূমিকা রাখছে স্ন্যাপচ্যাট। অন্যদিকে এশিয়ার দেশ দক্ষিণ কোরিয়ায় ৯৭ শতাংশ কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণী ‘নেইভর’ নামের একটি সার্চ ইঞ্জিন ও পোর্টালে সংবাদ খোঁজেন। দ্য ইকোনমিস্ট বলছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প বা নরেন্দ্র মোদির অনলাইন সক্রিয়তাতেই স্পষ্ট যে গণমাধ্যমের অবস্থা ভালো নয়।

আমাদের দেশের ওআরজি-কোয়েস্ট রিসার্চ লিমিটেডের সাম্প্রতিক জরিপ বলছে, ফেসবুক ও ইউটিউবেই সময় দিচ্ছে পাঠক বেশি। তবে এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়া গণমাধ্যম হয়ে ওঠার সময় এখনো আসেনি। ভবিষ্যতে কী হবে সেটা বলা যায় না। তবে এখন পর্যন্ত সোশ্যাল মিডিয়া সামাজিক গণমাধ্যম হিসেবেই কাজ করছে। সামাজিক গণমাধ্যম এবং গণমাধ্যমের মধ্যে একটি মূল পার্থক্য হচ্ছে গণমাধ্যমে যে তথ্যটা দেওয়া হয় সেটা সম্পাদনার মাধ্যমে উপস্থাপিত হয়। অর্থাৎ একটি তথ্যকে সম্পাদনা, যাচাই-বাছাই, মূল্যায়ন করে নির্দিষ্ট ট্রিটমেন্ট দিয়ে পত্রপত্রিকায় বা টেলিভিশনে প্রচারিত এবং প্রকাশিত হয়।’

এই পার্থক্যের কারণে যারা গণমাধ্যমের ভোক্তা, পাঠক এবং দর্শক তারা গণমাধ্যমকে বিশ্বাস করে যে, নিউজটি সম্পাদিত হয়ে এসেছে। অতএব এটার ওপর বিশ্বাস রাখা যায়। সামাজিক গণমাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে যে কোনো বিষয় চলে আসে। মানুষ জানতে পারে। এক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকতার একটি মূল্যায়ন আছে। কিন্তু পাঠকের মনে গণমাধ্যম এবং সামাজিক মাধ্যমের যে একটি পার্থক্য সেটা কিন্তু থেকেই যায়। সম্পাদনা হচ্ছে সাংবাদিকতার প্রাণ। যেখানে সম্পাদনা নেই সেখানে আসলে সাংবাদিকতা হয় না। সম্পাদনা ছাড়া যে সামাজিক মাধ্যম চলে সেগুলো কোনো গণমাধ্যম হতে পারে না।

তবে সামাজিক যোগাযোগের শক্তিশালী এই প্ল্যাটফর্মে কোনো ঘটনা প্রকাশের পর সেই ‘পানি’ অনেক দূর গড়ানোর বহু ঘটনা অহরহই ঘটছে। নানা সীমাবদ্ধতার কারণে মূলধারার গণমাধ্যমে কোনো ঘটনা যদি না আসে বা তারা কৌশলে এড়িয়ে যেতে চাইলেও অনেক সময় পারেনি। কারণ ফেসবুকে রাখঢাকহীন আলোচনার সঙ্গে তথ্য-প্রমাণ হাজির হওয়ায় পর অনেক ঘটনাই লাল রঙে শিরোনাম হয়েছে পত্রিকার পাতায়, আর তাতে নড়েচড়ে বসতে হয়েছে অনেকেকই।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

স্যোশাল মিডিয়া মিডিয়া

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0741 seconds.