• ক্রীড়া ডেস্ক
  • ১৫ জানুয়ারি ২০২০ ১৮:১৭:১৩
  • ১৫ জানুয়ারি ২০২০ ১৮:১৭:১৩
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

বিশ্বকাপ তারকা হাকান সুকুরের জীবন চলে উবার চালিয়ে

ছবি : সংগৃহীত

মনে আছে ২০০২ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের কথা? দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ। ম্যাচ শুরু হওয়ার মাত্র ১০.৮ সেকেন্ডেই গোল করে বসেন হাকান সুকুর। সবাইকে চমকে দিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্রুততম গোলের মালিক বনে যান। ওই মুহূর্তগুলোর কথা ফুটবলপ্রেমীদের ভুলার কথা নয়। কিন্তু অবসরের পর এখন সুকুর কেমন আছেন কেউ জানেও না।

বিবিসি জানাচ্ছে তার বর্তমান জীবনের দুঃখকষ্টের কথা। বিবিসি জানিয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন সুকুর। জীবন ধারণের জন্য ট্যাক্সি চালান আর বই বিক্রি করেন সেখানে।

সুকুর দাবি করলেন, তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যিপ এরদোগান তার কাছ থেকে সব কেড়ে নিয়েছেন।

এক সময় ইউরোপের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার হিসেবে স্বীকৃত সুকুর জানিয়েছেন, তাকে রাষ্ট্রীয় শত্রু হিসেবে ঘোষণা করে তার সব সম্পদ কেড়ে নেয়া হয়েছে। ফলে জীবন বাঁচানোর তাগিদে তাকে দেশ ছাড়তে হয়েছে। অথচ একসময় পুরো তুরস্কের রাস্তায় রাস্তায় তার ছবি আর পোস্টার শোভা পেতো। তাকে দেশটির জাতীয় বীর উপাধি দেয়া হয়েছিল।

তুরস্ক, গ্যালাতাসারাই, ইন্টার মিলান ও ব্যাকবার্নের সাবেক এই সাবেক স্ট্রাইকারের জীবনের বাঁকগুলো বেশ চমকপ্রদ। ফুটবল ক্যারিয়ার শেষ করার পর রাজনীতিতে নেমেছিলেন। এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন এরদোগানেরই দল একে পার্টি থেকে। পাশাপাশি তিনি ছিলেন গুলেন ভক্ত।

কিন্তু এক সময় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয় ষড়যন্ত্রের। যদিও ২০১৬ সালে এরদোগানের বিরুদ্ধে হওয়া ব্যর্থ সামরিক ক্যু’র একজন সমালোচক ছিলেন সুকুর। যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত জীবন থেকেও এর সমালোচনা করেছেন তিনি।

তবে কোনো এক রহস্যজনক কারণে রাষ্ট্রীয় মিডিয়ায় তার নাম প্রকাশিত হয় দেশদ্রোহী ও ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে।

ক্লাব ক্যারিয়ারে ২৫০-এর বেশি গোল করেছিলেন সুকুর। আর দেশের জার্সিতে ১১২ ম্যাচে ৫১ গোল নিয়ে হয়েছিলেন তুর্কি ফুটবলপ্রেমীদের চোখের মণি।

গুলেনের সাথে এরদোগানের বিবাদ শুরুর পর ‘গুলেন আন্দোলন’র কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ক্রামার স্কুল বন্ধ করে দেয় এরদোগান সরকার। এর প্রতিবাদে সরব হন সুকুর। দল থেকেও পদত্যাগ করেন তিনি। মূলত সেখান থেকেই শুরু। এরপর টুইটারে এরদোগান সরকারের সমালোচনা করে আরো বিরাগভাজন হন। শুধু তাই না, বিশ্ববিদ্যালয়ে দেয়া এক বক্তব্যে ‘আমি তুর্কি নই, আমি আলবেনিয়ান’ বলার পর নিজ দেশের মানুষের সমর্থনও হারিয়ে ফেলেন তিনি।

সরকারের সমালোচনার ফলে ২০১৬ সালের জুনে সুকুরের বিচার শুরু হয়। বিচারকার্যে নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও সরকার তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। তাকে দেশদ্রোহী তকমা দেয়া হয়। এরপরই পরিবার নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান তিনি। তো কেমন আছেন এই কিংবদন্তি? এই প্রশ্নের জবাবেই ‘উবার চালক’ হিসেবে নিজের দুর্বিষহ জীবনের কথা জানান তিনি।

তুরস্কের সরকারের সমালোচনা করার পর তার ও তার পরিবারকে কতটা ঝড় সামলাতে হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে সুকুর বলেন, ‘২০১৩ সালে একেপি থেকে সরে যাওয়ার পর থেকেই ভয়াবহ আচরণের শুরু। আমার স্ত্রীর বুটিক শপে লোকে পাথর নিক্ষেপ শুরু করে, রাস্তায় আমার সন্তানদের উত্যক্ত করা হতো। আমার প্রতিটি বিবৃতির পর আমাকে হুমকি দেয়া হতো। আমি যখন দেশ ছাড়লাম, তারা (তুরস্ক সরকার) আমার বাবাকে আটকে রাখে এবং আমার সব সম্পদ জব্দ করে।’

‘আমার কোনো অপরাধ কর্মের কোনো তালিকা কি তারা দেখাতে পারবে? না, কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা আমাকে বিশ্বাসঘাতক এবং সন্ত্রাসী বলে ডাকে। আমি সরকারের শত্রু, কিন্তু দেশের নই। আমি আমার দেশ এবং দেশের পতাকাকে ভালোবাসি।’

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0229 seconds.