• বিনোদন প্রতিবেদক
  • ১৭ জানুয়ারি ২০২০ ১৪:০৩:৪২
  • ১৭ জানুয়ারি ২০২০ ১৪:০৩:৪২
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

সুচিত্রা সেনের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

ফাইল ছবি

আজ বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী সুচিত্রা সেনের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি কলকাতার বেলভিউ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন প্রতিথযশা এই অভিনয়শিল্পী।

১৯৩১ সালের ৬ এপ্রিল বর্তমান বাংলাদেশের পাবনায় পৈত্রিক ভিটায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার পিতা নাম করুণাময় দাশগুপ্ত ছিলেন একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও মা ইন্দিরা দেবী ছিলেন গৃহবধূ। চলচ্চিত্রের সুচিত্রার পারিবারিক নাম রমা দাশগুপ্তা। পরিবারের পঞ্চম ও তৃতীয় কন্যা রমা’র শৈশব-কৈশোর কেটেছে পাবনা শহরের গোপালপুর মহল্লার হীমসাগর লেনের একতলা বাড়িতে।

এ শহরেরই মহাকালী পাঠশালায় প্রাথমিক শেষ করে তিনি পাবনা বালিকা বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের কয়েক মাস আগে তার বাবা করুণাময় দাসগুপ্ত সপরিবারে ভারত পাড়ি জমান। 

১৯৪৭ সালে বিশিষ্ট শিল্পপতি আদিনাথ সেনের পুত্র দিবানাথ সেনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন রমা দাশগুপ্তা। তাদের একমাত্র কন্যা মুনমুন সেনও একজন খ্যাতনামা অভিনেত্রী। 

১৯৫২ সালে ‘শেষ কোথায়’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে বাংলা চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে যুক্ত হন সুচিত্রা সেন। যদিও সেই সিনেমাটি আর আলোর মুখ দেখেনি। এরপর ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলা-হিন্দি মিলিয়ে ৬৩টি সিনেমায় অভিনয় করেন। 

এর মধ্যে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস ‘দেবদাস’ অবলম্বনে একই নামের হিন্দি সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। এ সিনেমার তার বিপরীতে ছিলেন কিংবদন্তি অভিনেতা দিলীপ কুমার।

‘সাড়ে চুয়াত্তর’ সিনেমায় উত্তম কুমারের সঙ্গে তার জুটি দর্শকমহলে ব্যাপক সাড়া জাগায়। এরপর তারা জুটি বেঁধে একের পর এক সুপারহিট চলচ্চিত্র উপহার দেন। এর মধ্যে ‘ওরা থাকে ওধারে’, ‘মরণের পরে’, ‘সদানন্দের মেলা’, ‘অন্নপূর্ণার মন্দির’, ‘অগ্নিপরীক্ষা’, ‘গৃহপ্রবেশ’, ‘সাঁঝের প্রদীপ’, ‘শাপমোচন’, ‘সবার উপরে, ‘সাগরিকা’, ‘একটি রাত’, ‘ত্রিযামা’, ‘শিল্পী’, ‘হারানো সুর’, ‘পথে হল দেরী’, ‘জীবন তৃষ্ণা’, ‘রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত’, ‘সূর্যতোরণ’, ‘ইন্দ্রাণী’, ‘চাওয়া পাওয়া’, ‘সপ্তপদী’, ‘বিপাশা’, ‘গৃহদাহ’ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

এছাড়াও তিনি সমর রায়, বসন্ত চৌধুরী, রবীন মজুমদার, প্রশান্ত কুমার, বিকাশ রায়, শেখর, ভারতভূষণ, অশোক কুমার, অসিতবরণ মুখোপাধ্যায়, দেব আনন্দ, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, দিলীপ মুখোপাধ্যায়, ধর্মেন্দ্র, উৎপল দত্ত, রঞ্জিত মল্লিক, সমিত ভঞ্জ, সঞ্জীব কুমারের বিপরীতে বাংলা ও হিন্দি সিনেমায় অভিনয় করেন।

১৯৭৮ সালে মহানায়ক উত্তম কুমারের মৃত্যুর পর চলচ্চিত্রে অভিনয় বন্ধ করে লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যান সুচিত্রা সেন। তিনি সকলের আড়ালে রামকৃষ্ণ মিশনের সেবায় ব্রতী হন।

২০০৫ সালে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন তিনি। কিন্তু ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে সশরীরে পুরস্কার নিতে দিল্লি যাওয়ায় আপত্তি জানানোয় তাকে পুরস্কার দেওয়া হয়নি।

২০১৩ সালের ডিসেম্বরে ফুসফুসের সংক্রমণ নিয়ে কলকাতার বেলভিউ হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। সেখানেই ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৮২ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

এদিকে সুচিত্রা সেনের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় পৃথক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে পাবনা জেলা প্রশাসন ও সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ।

জেলা প্রশাসন আজ সকালে সুচিত্রা সেনের পৈতৃক বাড়িতে তার ভাস্কর্যে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। পরে তার শৈশবের বিদ্যাপীঠ পাবনা টাউন গার্লস হাই স্কুল প্রাঙ্গণে (মহাকালী পাঠশালা) আয়োজিত হবে স্মরণসভা। এ ছাড়া সন্ধ্যায় সুচিত্রা সেনের বাড়িতে চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।

এছাড়া সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের আয়োজনে সকালে পাবনা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ভারতের সহকারী হাইকমিশনার সঞ্জীব কুমার ভাটি।

এ প্রসঙ্গে সুচিত্র সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি এম সাইদুল হক চুন্নু বলেন, ‘সুচিত্রা সেনকে নিয়ে আমাদের আবেগের কমতি নেই। সবার সহযোগিতায় আমরা তার বাড়ি উদ্ধার করতে পেরেছি।’

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও শিল্পকলা একাডেমির সহায়তায় এই মহানায়িকার স্মৃতি ধরে রাখতে প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিশাল প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বাংলা/এসএ

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0280 seconds.