• বিদেশ ডেস্ক
  • ১৯ জানুয়ারি ২০২০ ০১:২২:৪৯
  • ১৯ জানুয়ারি ২০২০ ০১:২২:৪৯
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

'লিবিয়ায় সরকারের পতন হলে ইউরোপে সন্ত্রাসের ঝুঁকি বাড়তে পারে'

ছবি : সংগৃহীত

লিবিয়ায় জাতিসংঘ সমর্থিত সরকারের পতন ঘটলে ইউরোপীয় দেশগুলো নতুন করে সন্ত্রাসী হামলার মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেজেব তাইয়িপ এরদোয়ান।শনিবার(১৮ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের পত্রিকা দ্য পলিটিকোতে প্রকাশিত একটি লেখায় এরদোয়ান এই মন্তব্য করেন।

রবিবার(১৯ জানুয়ারি) জার্মানির রাজধানী বার্লিনে লিবিয়াকে নিয়ে একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এই সম্মেলনের একদিন আগেই এরদোয়ানের লেখাটি পলিটিকোতে প্রকাশিত হয়েছে।

‘দ্য রোড টু পিস ইন লিবিয়া গোজ থ্রু টার্কি’ শিরোনামের ওই নিবন্ধে তুর্কি প্রেসিডেন্ট লিবিয়ার বিদ্রোহী নেতা জেনারেল খলিফা হাফতারের কথা উল্লেখ করে লেখেন, ‘ একজন যুদ্ধবাজ নেতার অনুগ্রহের উপর লিবিয়াকে ছেড়ে যাওয়া ঐতিহাসিক একটি ভুল হতে পারে। ’

এরদোয়ান ইউরোপকে সতর্ক করে জানান, লিবিয়ার গভর্নমেন্ট অব ন্যাশনাল অ্যাকর্ড(জিএনএ) বা জাতিসংঘ সমর্থিত সরকারের প্রতি ইউরোপীয় দেশগুলো যদি সমর্থন দিতে ব্যর্থ হয় তাহলে তাদের নতুন করে সন্ত্রাসের হুমকির মুখে পড়তে হতে পারে।    

তিনি লেখেন, ‘ লিবিয়ার গভর্নমেন্ট অব ন্যাশনাল অ্যাকর্ডের প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়ন(ইউ) যদি পর্যাপ্ত সমর্থন দিতে ব্যর্থ হয় তবে তা গণতন্ত্র, মানবাধিকারসহ ইউ’র নিজস্ব মূল্যবোধের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল হতে পারে।’

তিনি উল্লেখ করেন, এর ফলে আইএস, আল কায়েদার মত সন্ত্রাসী সংগঠন যারা সিরিয়া এবং ইরাকে সামরিকভাবে পরাজিত হয়েছে , তারাই আবার নতুন করে ফিরে আসার উর্বর ক্ষেত্র পেয়ে যাবে।  

এরদোয়ান লেখেন, ‘ লিবিয়ায় তুরস্কের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে সামরিক সহায়তা দিতে ইউরোপ খুব একটা আগ্রহী নয়।  তুরস্ক ইতিমধ্যেই লিবিয়ায় সামরিক সহায়তা দিতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ’   

তিনি জানান, লিবিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে তুরস্ক। এছাড়া আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, মানব পাচার এবং অন্যান্য হুমকি রোধে তাদের সাহায্য করছে তুরস্ক।

উল্লেখ্য, লিবিয়ার বিদ্রোহী নেতা খলিফা হাফতার দেশটির জাতিসংঘ সমর্থিত সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে বিগত ৯ মাস ধরে রাজধানী ত্রিপোলি দখলে নেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে।  এই যুদ্ধে ২৮০ জন বেসামরিক নাগরিকসহ ২ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।এছাড়া হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

এদিকে চলতি সপ্তাহে মস্কোতে রাশিয়া এবং তুরস্কের মধ্যস্থতায় করা একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি থেকে সরে যায় খলিফা হাফতার।চুক্তি স্বাক্ষরের সময় তিনি তাতে সই না করে মস্কো ত্যাগ করেন।    

এই ঘটনায় প্রচন্ড ক্ষুব্ধ হন এরদোয়ান।  তিনি জানান, হফতারকে শিক্ষা না দেয়া পর্যন্ত ক্ষ্যান্ত হবেন না।  প্রসঙ্গত, হাফতারের লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মি(এলএনএ) জিএনএ’র বিরুদ্ধে ক্রমাগত লড়াই চালিয়ে যাওয়ায় এই যুদ্ধ বিরতি চুক্তির উদ্যোগ নিয়েছিল রাশিয়া এবং তুরস্ক।

প্রথমদিকে এলএনএ এবং জিএনএ উভয়েই এই চুক্তি করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। কিন্তু মাঝখান থেকে চুক্তি সই না করে সটকে পড়ে এলএনএ জেনারেল হাফতার।  

উল্লেখ্য, তুরস্ক প্রধানমন্ত্রী ফায়েজ আল সাররাজ এর নেতৃত্বাধীন জিএনএ কে সমর্থন করছে।অপরদিকে আরব আমিরাত এবং মিশর খলিফা হাফতারকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করছে। এমনকি রাশিয়াও গোপনে হাফতারকে সাহায্য করছে বলে জানা গেছে। যদিও রাশিয়া তা অস্বীকার করেছে। 

বাংলা/এফকে

 

 

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0292 seconds.