• বাংলা ডেস্ক
  • ১৯ জানুয়ারি ২০২০ ১৭:৫২:৫৬
  • ১৯ জানুয়ারি ২০২০ ১৭:৫২:৫৬
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

‘গুপ্ত ঘাতক’ সেপসিস, ক্যান্সারের চেয়েও ভয়াবহ

ছবি : সংগৃহীত

বর্তমান বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী একটি রোগ রক্তদূষণ বা সেপসিস। বিশ্বজুড়ে পাঁচজনের মধ্যে একজনের মৃত্যু ঘটে এই সেপসিসের কারণে, এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।

সম্প্রতি ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বলেছেন, বছরে এক কোটি ১০ লাখ মানুষ সেপসিসে মারা যাচ্ছে। যা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যার চেয়েও অনেক বেশি। এই উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান বর্তমানে দ্বিগুণাকার ধারণ করেছে। সেপসিসে দরিদ্র এবং মধ্যম আয়ের দেশের মানুষ সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হন বলেও জানান তারা।

সেপসিস কী?

সেপসিস "গুপ্ত ঘাতক" হিসেবেও পরিচিত কারণ এটি সনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অতিরিক্ত কাজ করার ফলে এই সেপসিস হতে পারে। এই প্রতিরোধ ক্ষমতা কেবল সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার পরিবর্তে শরীরের অন্যান্য অংশগুলিতেও আক্রমণ শুরু করে। এক পর্যায়ে মানুষের অঙ্গ অকেজো হয়ে যায়। এমনকি বেঁচে থাকা মানুষদেরও দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি ও অক্ষমতা নিয়ে চলতে হতে পারে। যেসব ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের কারণে ডায়ারিয়া সংক্রমণ বা ফুসফুসের রোগ হয়ে থাকে সেগুলোই সেপসিস হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ।

সেপসিসে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হন নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশের মানুষ। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে শিশু এবং বৃদ্ধরা। পাঁচ বছরের কম বয়সী ১০ জন শিশুর মধ্যে চার জনের সেপসিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

প্রাপ্তবয়স্কদের সেপসিসের লক্ষণ :

১. অস্পষ্ট কথা

২. চরম কাঁপুনি বা পেশী ব্যথা

৩. সারাদিনে কোনও প্রস্রাব না হওয়া

৪. মারাত্মক শ্বাসকষ্ট

৫. দ্রুত হৃৎস্পন্দন এবং শরীরের তাপমাত্রা অনেক বা কম হওয়া

৬. ত্বকের রং একেক জায়গায় একেক রকম বা ছোপ ছোপ দাগ

শিশুদের সেপসিসের লক্ষণ

১. চেহারা দেখতে নীলচে বা ফ্যাকাসে হয়, ত্বকের রং একেক জায়গায় একেক রকম দেখায়

২. অতিরিক্ত ঘুম ও অলসতা

৩. অস্বাভাবিক ঠাণ্ডার প্রবণতা

৪. খুব দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস

৫. ত্বকে একধরণের ফুঁসকুড়ি হওয়া যা আপনি চাপ দিলেও মুছে যায় না

৬. হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়া বা খিঁচুনি

সেপসিস প্রতিরোধে করণীয় :

সুষ্ঠু পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানি এবং সঠিক সময়ে টিকার যোগান ইত্যাদি সঠিক প্রয়োগের মধ্য দিয়ে এ রোগ প্রতিহত করা সম্ভব। এছাড়া সেপসিস আক্রান্ত রোগীদের ভালভাবে চিহ্নিত করা এবংযথাসম্ভব দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারলে সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব। 

সংশ্লিষ্ট বিষয়

সেপসিস রোগব্যাধি

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0231 seconds.