evaly
  • বিদেশ ডেস্ক
  • ২০ জানুয়ারি ২০২০ ১৫:৪০:২১
  • ২০ জানুয়ারি ২০২০ ১৫:৫৩:৫০
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

যেভাবে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করে কোটিপতি এক কৃষক

ছবি : সংগৃহীত

পেঁয়াজ নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, যদিও তা সব সময় নয়। তবে দুই দেশের কৃষকদের একটা সমস্যা সারা বছর থাকে তা হলো পেঁয়াজের দাম। কারণ পেঁয়াজ কাঁচা ফসল তাই এটা মজুদ করা যায় না, পঁচে যায়। কিন্তু এই সমস্যা অভিনব সমাধান বের করেছেন ভারতের রোহিত প্যাটেল।

তার নতুন পদ্ধতিতে চাষিদের শস্য মজুদ করে রাখার মতো বড় সমস্যা দূর করেছে। ভারতে সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার এমন খবর প্রকাশ করেছে।

আবহাওয়া কখনো খুব আর্দ্র আবার কখরো দারুণ গরম। এই পরিস্থিতিতে শস্য বেশি দিন মজুদ করে রাখাটা মুশকিলের। পচন ধরে যায়। তার উপর ইঁদুরের উত্পাত তো রয়েছেই। এমন অবস্থায় কী ভাবে কম খরচে শস্য মজুদ করে রাখা যায় দীর্ঘদিন? তার একটা অভিনব উপায় বের করেছেন রোহিত পটেল। ২৩ বছরের এই তরুণ মধ্যপ্রদেশের ঝাবুয়ার একালার একজন পেঁয়াজ চাষি।

প্রতি বছর পেঁয়াজের যা ফলন হয়, তার চেয়ে অনেক কম পেঁয়াজ তিনি বাজারে বেচতে পারেন। কারণ ফলনের অনেকটাই নষ্ট হয়ে যেত। এই অবস্থায় কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থা করাও অনেক খরচ সাপেক্ষ। এই সমস্যা সমাধানে নিজেই মাথা খাটিয়ে অভিনব উপায় বের করেন তিনি।

এ বিষয়ে রোহিত জানান, যত পরিমাণ পেঁয়াজের ফলন তার জমিতে হয়, তার বেশিরভাগটাই ৬০০ বর্গ ফুটের একটি ঘরে সংগ্রহ করে রাখা হয়। সাধারণত মার্চ-এপ্রিল মাস নাগাদ পেঁয়াজের ফলন হয়। কিন্তু সে সময় পেঁয়াজের খুব ভাল দাম মেলে না।

প্রতি কেজি পেঁয়াজ মাত্র ২-৩ টাকায় বেচতে হয় তাকে। অথচ কিছুদিন সংগ্রহে রেখে দিয়ে যদি সেটা বর্ষায় বিক্রি করা যায়, তা হলে এক কেজি পেঁয়াজ ৩৫ টাকায় বিক্রি করতে পারেন। এতে লাভও অনেক বেশি হয়।

এজন্য তার ৬০০ বর্গ ফুটের ঘরে মাত্র ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে দেশি পদ্ধতির কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থা করে ফেলেন তিনি। এই ঘরে কোনো জানলা রাখেননি রোহিত। একটা নির্দিষ্ট দূরত্বে আট ইঞ্চির ইটের দেওয়াল বানান। তার উপর লোহার তারজালি লাগান।

এরপর এই তারজালির উপর সমস্ত পেঁয়াজগুলো ছড়িয়ে দেন। নির্দিষ্ট দূরত্বে পুরো ঘর জুড়েই লাগিয়ে দেন মোটা পাইপ। যা একেবারে নীচ পর্যন্ত বিস্তৃত। আর পাইপের একেবারে বাইরে লাগিয়ে দেন ফ্যান।

এই পুরো ব্যবস্থাটা একটা কোল্ড স্টোরেজের মতো কাজ করে। ফ্যান চালালেই ঠান্ডা বাতাস একেবারে নীচ পর্যন্ত প্রবেশ করে। পুরো ঘরটা ঠান্ডা হয়ে যায়। এতে বেশির ভাগ পেঁয়াজই ভাল থাকে।

আগে যেখানে তিন হাজার কুইন্টাল পেঁয়াজ বেচে রোহিত ৯০ হাজার টাকা আয় করতেন, এখন যেমন পরিমাণে অনেক বেশি পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারছেন, তার উপর স্টোর করে রেখে ঠিক সময়ে বিক্রিও করা যাচ্ছে। এতে করে তার আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৬ লাখ টাকা।

রোহিতের এই অভিনব সংরক্ষণ পদ্ধতি এখন তার আশপাশের কৃষকরাও ব্যবহার করতে শুরু করেছেন।

বাংলা/এনএস

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0727 seconds.