• অর্থনীতি ডেস্ক
  • ২১ জানুয়ারি ২০২০ ১১:৩৬:১৫
  • ২১ জানুয়ারি ২০২০ ১১:৩৬:১৫
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

রমজানের তিন মাস আগেই দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ

ফাইল ছবি

প্রতিবছর পবিত্র রমজান মাস আসলেই দেশের বিভিন্ন পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দেয় অসাধু ব্যবসায়ীরা। তারা নানা অজুহাতে ভোক্তাদের বিপাকে ফেলেন তারা। এর মধ্যে চলতি বছরের শুরুতেই দেশের বাজারে কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দর ঊর্ধ্বমুখী। এর মধ্যে পেঁয়াজ নিয়ে তো ক’মাস ধরেই লঙ্কাকাণ্ড চলছে। বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে ভোজ্যতেল, চিনি ও ডালের মতো পণ্য। আমন ধান উঠলেও বাজারে চালের দরও কমেনি। 

এমন অবস্থায় আগামী এপ্রিল মাসের শেষ দিকে শুরু হচ্ছে রমজান মাস। এসময় দ্রব্যমূল্য ভোক্তাদের কাছে সহনীয় রাখতে তিন মাস আগেই নানা পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে ১০টি সংস্থাকে মাঠে নামানো হয়েছে। এই ১০ সংস্থা নিয়মিতভাবে খুচরা বাজার, পাইকারি বাজার ও মোকামে অভিযান চালাবে। রমজানকে পুঁজি করে কেউ যেন কারসাজির মাধ্যমে অতিরিক্ত মুনাফা লুটে ভোক্তাদের ঠকাতে না পারে এইসব সংস্থা তা নিশ্চিত করতে চায়। অভিযানে তারা অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে সূত্র। এছাড়া ১৭টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির ঋণপত্র (এলসি) খোলাসহ অন্যান্য কার্যক্রম দ্রুতগতিতে শেষ করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে সকল ব্যাংকে নির্দেশনা পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

যেসব সংস্থা রমজানের দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে মাঠে নেমেছে এগুলো হল- বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং সেল, র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি), কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, সিটি কর্পোরেশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনিটরিং টিম।

তবে এসব সংস্থা মাঠে নামার পরও আশ্বস্ত হতে পারছেন না ভোক্তারা। তারা জানান, প্রতি রমজানেই কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ভোক্তাদের ঠকিয়ে আসছে একটি চক্র। এবার যে এর ব্যতিক্রম ঘটবে, তার নিশ্চয়তা নেই। সঠিক তদারকি হলে জনসাধারণ এর সুফল পেতে পারে। কিন্তু যদি এসব সংস্থা লোকদেখানো অভিযান চালায় তবে ভোগান্তি না কমে উল্টো আরো বাড়তে পারে। 

কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশ অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘রমজানে খাদ্যপণ্যের বাড়তি চাহিদা সৃষ্টি হয়। এ সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়।’

এবার যাতে কারসাজি করে ব্যবসায়ীরা মূল্য বাড়াতে না পারে সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের আগে থেকেই পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সেইসাথে ভোক্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘রমজান বাদে যে পরিমাণ নিত্যপণ্য তারা (ভোক্তারা) কেনেন রমজানেও যেন একই পরিমাণে কেনাকাটা করেন। চাহিদার চেয়ে বেশি পণ্য কিনে বাজারে সংকট তৈরি না করেন।’

সেই সাথে ব্যবসায়ীরা যাতে পণ্য আনতে গিয়ে পথে চাঁদাবাজির শিকার না হন সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সচেষ্ট হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি। তবেই সারা বছর পণ্যের দাম সহনীয় থাকবে বলে মনে করেন ক্যব সভাপতি।

এদিকে রমজানের চাহিদা মেটাতে দুই লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করা হবে বলে সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন বণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। এছাড়া ভোজ্যতেল, ছোলা, আদা, রসুন, খেজুরসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল পণ্যের চাহিদা, উৎপাদন ও আমদানি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় মজুদ সৃষ্টি করার কথাও জানান তিনি।

মন্ত্রী সেদিন বলেন, ‘বিগত দিনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আগামী দিনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। রমজানে মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের যেন সংকট না হয়, সেজন্য সরকারের একাধিক সংস্থা কঠোর মনিটরিং করছে।’

দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নিচ্ছে বলেও জানান টিপু মুনশি।

এদিকে রমজানের বাজার স্বাভাবিক রাখতে ১৭টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির ঋণপত্র (এলসি) খোলাসহ অন্যান্য কার্যক্রম দ্রুতগতিতে শেষ করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে সকল ব্যাংকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এমন নির্দেশনা দিয়েছে বলে জানা গেছে।

গতকাল ২০ জানুয়ারি, সোমবার ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি কার্যক্রম নির্বিঘ্ন ও দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করা’ শীর্ষক এক সার্কুলারে এমন নির্দেশনা দেয়া হয়। বিদেশি মুদ্রা লেনদেন করছে— এমন ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহী বরাবরে সার্কুলারটি পাঠানো হয়।

নিত্যপ্রয়োজনীয় এই ১৭টি পণ্য হচ্ছে— পেঁয়াজ, রসুন, মশুর ডাল, ছোলা, শুকনো মরিচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, এলাচ, ধনিয়া, জিরা, আদা, হলুদ, তেজপাতা, সয়াবিন তেল, পাম তেল, চিনি ও খাবার লবণ (বিট লবণ ছাড়া)।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পাঠানো সার্কুলারে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে এই ১৭টি পণ্যের আমদানিকারকদের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন ব্যবস্থায় অনুসরণীয় বিধিবিধান পরিপালন সাপেক্ষে আমদানি ঋণপত্র স্থাপন ও আমদানির ক্ষেত্রে যাবতীয় কার্যক্রম দ্রুত গতিতে সম্পন্ন করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের জন্য সব অনুমোদিত ডিলার ব্যাংক শাখাকে নির্দেশনা দিতে পরামর্শ দেওয়া হলো।

উল্লেখ্য, গত ৯ জানুয়ারি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি নির্বিঘ্ন করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরকে চিঠি দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জিন্নাত রেহানা। সেই চিঠিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় ওই ১৭টি পণ্যের তালিকা সংযুক্ত করা হয়।

বাংলা/এসএ

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0273 seconds.