• বিদেশ ডেস্ক
  • ২১ জানুয়ারি ২০২০ ১৯:২৫:২৪
  • ২১ জানুয়ারি ২০২০ ১৯:২৫:২৪
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

আমাজন নিয়ে সরকারি নীতিকে ‘গণহত্যা’ আখ্যা

ছবি: সংগৃহীত

আমাজনের আদিবাসীরা ব্রাজিল সরকারকে ‘গণহত্যা’র নীতির জন্য অভিযুক্ত করেছে। খবর জার্মানভিত্তিক গণমাধ্যম ডয়চে ভেলের।

কয়েকদিন ধরে ব্রাজিলের আদিবাসীরা আমাজন বনে সমবেত হন। বাণিজ্যিক খনন এবং কৃষির জন্য আমাজন বনকে উন্মুক্ত করে দেয়ায় তারা বলসোনারো সরকারের প্রতিশ্রুতিকে নিন্দা জানায়। আদিবাসী নেতারা এটাকে জেনোসাইড, এথনোসাইড এবং ইকোসাইড সমপর্যায়ের বলে অভিযুক্ত করেছেন।

একজন আদিবাসী ডয়চে ভেলেকে বলেন, “বন নিধনের একটা চূড়ান্ত উদ্দেশ্য আছে, সেটি হল আমাদের জনগোষ্ঠীকে হত্যা করা। যখন আদিবাসী লোকজন আমাদের ভূমি রক্ষায় লড়াই করছে, তখন তারা কোন লোভের জন্য সেটা করছে না, ছোট্ট একটু জমির জন্য সেটা করছে না কিংবা এক টুকরা জমির জন্য লড়াই করছে না।”

“আমাদের লড়াই হল ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য, আমাদের শিশুদের জন্য, আমাদের নাতি-নাতনির বেঁচে থাকার জন্য নিশ্চয়তা দেয়ার লড়াই”, বলেন তিনি।

এই বার্তা বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য সমাবেশে রেকর্ড করা প্রতিটা বক্তব্য এবং ঐতিহ্যবাহী নাচ সোসাল মিডিয়ায় পোস্ট করা হয়েছে।

তাদেরকে সাহায্য করার জন্য সারাবিশ্বের লোকজনকে তারা আহবান জানাচ্ছে “প্রকৃতিকে বাঁচানোর জন্য, শুধু তাদের উপকারের জন্য নয়, বরং সারাবিশ্বের প্রত্যেকের ভালোর জন্য।”

“আমাদের বন ধ্বংসকারী একটি সরকারের প্রকল্পগুলো  রুখে দেয়ার জন্য আহবান জানাচ্ছি”, বলেন একজন আদিবাসী।

ব্রাজিলের জাতীয় মহাকাশ গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্যে দেখা যায়, ২০১৯ সালে আমাজন বন ধ্বংস হওয়া বৃদ্ধি পেয়েছে ৮৫ শতাংশ।

“এটা অনেক পরিবর্তিত হচ্ছে যা আগে কখনোই দেখা যায়নি। বৃষ্টিতেও পরিবর্তন এসেছে, আগের মতো নদী গুলোকে ভরাট করে না। নদীগুলো দ্রুতই ভরে উঠত যখন ডিসেম্বরে বৃষ্টি শুরু হয়। কিন্তু নদী ভরতে এখন প্রচুর সময় নিয়ে নিচ্ছে।”

সমাবেশে নেতারা আদিবাসীদের একত্রিত করার জন্য সরকারের পরিকল্পনা প্রতিরোধ করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।

ব্রাজিলের চরম দক্ষিণপন্থী প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো সীমান্তবর্তী অর্থনীতি ও সমাজে ব্রাজিলের প্রায় ৯ লাখ আদিবাসী জনগণকে একীভূত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিজ্ঞা করেছেন।

“আমার জন্য প্রকৃতি জীবন, জীবনের ভূমি; এটা আপনার মা, তার কোল; এটা এমন একটা জায়গা যেখানে আমরা ফিরে যেতে পারি। আমাদের আদিবাসীদের একটা গভীর সম্পর্ক আছে। আমাদের জন্য এটা পরিবেশ নয়, এটাই পূনাঙ্গ জীবন।”

“আমরা বলি, মানবতা, সমাজ, পুঁজিবাদ কেবল সেদিন প্রকৃতির গুরুত্ব বুঝবে যেদিন আর একটিও গাছ থাকবে না। কেননা সেদিন আর একটি গাছও অবশিষ্ট থাকবে না।”

“আমরা জানতে চাই লেখার জন্য আপনি একটি কলম কীভাবে ব্যবহার করেন। কেননা ওইসব জড়-পেপারের থেকেও অনেক বেশি এই জীবন্ত গাছের থেকে জানতে পারি।”, বলেন  আরেকজন আদিবাসী।

আমাজন হল পৃথিবীর বৃহত্তম রেইনফরেস্ট। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এ বনকে জরুরী গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বাংলা/এনএডি

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0272 seconds.