• বিদেশ ডেস্ক
  • ২৪ জানুয়ারি ২০২০ ২২:৪৮:২৬
  • ২৪ জানুয়ারি ২০২০ ২২:৪৮:২৬
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

যে কারণে ক্ষুদ্র জাতিরা শ্রেষ্ঠ উদ্ভিদ-প্রাণীবিদ

ছবি : মিডিয়াম ডট কম থেকে নেয়া

অন্যদের চেয়ে ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বার জনগণ তাদের পরিবেশেকে ভালোভাবে বুঝতে ও নিয়ন্ত্রয়ণ করতে পারে। আর এই বিষয়টি বিভিন্ন তথ্যে প্রমাণিত। কিন্তু কেন তা পারে, এখানে তার ১০টি কারণ উল্লেখ করা হলো।

১. প্রাণীদের আচরণ বিশেষজ্ঞ :

হাতির বয়স, লিঙ্গ এবং মেজাজের ওপর ভিত্তি করে মধ্য আফ্রিকার বাকা গোষ্ঠীর জনগণের ১৫টি অধিক শব্দ রয়েছে। তারা বিশ্বাস করে তাদের পূর্বপুরুষরা প্রাণীদের সাথে বনের মধ্যে চলাফেরা করে।

২. বিশ্বমানের উদ্ভিদবিদ :

ইয়ানোমামি গোষ্ঠী প্রতিদিন ৫০০ ভিন্ন প্রজাতির গাছ ব্যবহার করে। তারা জানে কোন গাছ দিয়ে ঘর, কোনটা দিয়ে সরঞ্জাম ও অস্ত্র, জ্বালানীর জন্য কোনটা, বাঁধা ও প্রহার করার জন্য, ঝুঁড়ি তৈরির জন্য, অস্থায়ী দোলনা তৈরি করা, রং, বিষ, ওষুধ, দেহের রং, সুগন্ধি এবং কোনটা মাদক- এমন আরো অনেক কিছু!

৩. পরিবেশসম্মত সম্পদ সংগ্রহ :

বাংলাদেশে পাহাড়ের জুম চাষিরা ‘সিফ্টটিং কালটিভেশন (জমি বদল করে চাষ করা)’র মাধ্যেম জমি পুনরুদ্ধার করে। অন্য এলাকায় যাওয়ার পূর্বে তারা তাদের অঞ্চলের ছোট্ট অংশে ফসল ফলানো। তারা ঋতু ভেদে বিভিন্ন ধরনের বীজের মিশ্রণ গর্তের মধ্যে রাখে।

 ৪. সঠিকভাবে পরিবেশকে ‘পড়তে’ পারা :

তাদের পরিবেশকে বোঝার এবং প্রকৃতিক ঘটনাকে ব্যাখ্যা করার ক্ষমতা রয়েছে। যার ফলে ২০০৪ সালের এশিয়ায় সুনামির ধ্বংসযজ্ঞ থেকে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের ক্ষুদ্রজাতিসত্ত্বার জনগণ নিজেদের রক্ষা করতে পেরেছিলো। তারা লক্ষণের অর্থগুলো বুঝেছিলো এবং উঁচু স্থানে পালিয়ে গিয়েছিলো।

৫. বনের চোখ ও কান :

একজন বাকা জনগোষ্ঠীর ব্যক্তি বলেন, ‘শিকারিরা বনে কখন এবং কোথায় রয়েছে তা আমরা জানি, কিন্তু কেউ আমাদের কথা শুনবে না।’ যদিও ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বার এই মানুষরা তাদের জমি এবং বন্যপ্রাণীদের জীবন সম্পর্কে অন্যদের চেয়েও বেশি জানে, তারপরও তারা মূলধারার সংরক্ষণ থেকে বাদ পড়েছে।   

৬. প্রকৃতিকে রক্ষা করা তাদের ব্যক্তিগত দায়িত্ব :

আমাদের বিপরীতে, কলম্বিয়ার সিয়েরা নেভাদা এলাকার আরহুয়াকো’র মানুষরা পৃথিবীর কল্যাণার্থে মহৎ দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নিয়েছে- যেন মাতৃতুল্য পৃথিবীর সম্প্রীতি রক্ষা করাই তাদের কাজ। বিশ্বের ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে মানুষের ব্যর্থতার ফলস্বরূপ তারা খরা ও দুর্ভিক্ষ দেখেছে।

৭. জমির সঙ্গে সম্পর্কই তাদের পরিচয় :

বর্ষার পানি ভারতের নিয়ামগিরি পাহাড় ভিজিয়ে রাখে। যা বংশধারা নদীসহ শতাধিকেরও বেশি বহুবর্ষজীবী জলাধার ও নদীকে জন্ম দিয়েছে। এই লীলাভূমিতে বাস করে ‘ডোংরিয়া কোন্ডা’ ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বার মানুষ। এদের বলা হয় ‘ঝর্ণিয়া’- এর অর্থ হলো জলধারের রক্ষাকর্তা।

৮. প্রাণী তাদের কাছে আত্মীয় :

সোলিগা জনগণ যখন উঁচু গাছ থেকে মধু সংগ্রহ করে, তখন কিছু মধু তাদের সঙ্গে নেয় এবং কিছু মধু বাঘের জন্য কাছের মাটিতেই রেখে দেয়। তারা তাকে পরিবারের সদস্য হিসেবেই বিবেচনা করে। কারণ বাঘরা গাছে উঠতে নিজেদের জন্য মধু সংগ্রহ করতে পারে না।

৯. প্রকৃতির যত্ন নেয়াই তাদের সংস্কৃতি ও জীবনের লক্ষ্য :

ইন্দোনেশিয়ার ওরাং রিমবা ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বার যখন কোনো সন্তানের জন্ম হয়, সেই সন্তানের নাড়ি তারা ‘সেন্টুবাং’ গাছের নিচে পুঁতে রাখে। আর সারাজীবন এই গাছের সঙ্গে ওই সন্তানের পবিত্র সম্পর্ক তৈরি হয় এবং সেই ‘জন্ম গাছ’কে কেটে ফেলা ওরাং রিমবাদের নিটক হত্যার সমান অপরাধ।

১০. জমির অধিকার ও বনের বাস্তুসংস্থান রক্ষা করা :

তথ্য-প্রমাণগুলো দেখাচ্ছে, এলাকার সংযোগহীন ক্ষুদ্র জাতিগুলোই আমাজান বন নিধনের সবচেয়ে বড় বাধা। শিকারি হিসেবে এই ঘনবর্ষণ বনাঞ্চলে প্রায় ১০০ ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বার লোক বাস করে। তারা স্বতন্ত্রভাবে তাদের পরিবেশের সাথে বসবাস করছে এবং তাদের বিশাল উদ্ভিদবিদ্যা ও প্রাণীবিদ্যা সংক্রান্ত জ্ঞান রয়েছে। ব্রাজিলের এসব ক্ষুদ্র জাতিগুলোর জমি ও জীবন রক্ষায় আমাদের দ্রুত সহায়তা করা প্রয়োজন।

সূত্র : মিডিয়াম ডট কম

বাংলা/এনএস

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0777 seconds.