• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২৭ জানুয়ারি ২০২০ ১৪:০৫:১৫
  • ২৭ জানুয়ারি ২০২০ ১৪:০৫:৫৭
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

রাতের রাজধানীতে পদে পদে মৃত্যুফাঁদ

ছবি : সংগৃহীত

গত বছরের ১০ ডিসেম্বর হতে ৬ জানুয়ারি ২০২০ পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে একাধিক লাশ পাওয়া যায়। যাদের সবাইকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার পর রাস্তা বা ফ্লাইওভারের ওপর ফেলা রাখা হয়। আর এসব হত্যাকাণ্ড ঘটায় একদল সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী।  

সর্বশেষ ৬ জানুয়ারি মগবাজার ফ্লাইওভারের ওপরে সোনারগাঁও প্রান্তে রেলক্রসিং বরাবর রাজধানীর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিজানুর রহমানের লাশ পাওয়া যায়। এই হত্যাকাণ্ডের সূত্র ধরে পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। যা অনেকটা সিনেমার গল্পের মতো।

নুরুল ইসলাম (৪০) পেশায় সিএনজি চালক। সিএনজি চালনার আড়ালে তার মূল পেশা ছিনতাই। নুরুলসহ আরো আটজন মিলে তারা গড়ে তোলে সিএনজি কেন্দ্রীক দুটি ভয়ংকর ছিনতাই গ্রুপ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এমন তথ্য নিশ্চিত করে।

সংঘবদ্ধ চক্রটি রাত আটটার পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত ঢাকার আশুলিয়া, আবদুল্লাহপুর, উত্তরা, গুলশান, ভাটারা, খিলক্ষেত, বাডডা, মহাখালী, তেজগাঁও, মগবাজার, রামপুরা, ৩০০ ফিট, মিরপুর, যাত্রাবাড়ি, সাইনবোর্ড এলাকায় ছিনতাই করতো।

ছবির বাম থেকে নুরুল ইসলাম, আবদুল্লাহ বাবু ও জালাল

এ ঘটনায় ২৩ জানুয়ারি ০৮ টঙ্গী থেকে নুরুল ইসলাম এবং ২৫ জানুয়ারি গাজীপুরা ও তুরাগ এলাকা থেকে আবদুল্লাহ বাবু ও জালালকে গ্রেপ্তার করা হয়। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল জোনের এডিসি হাফিজ আল ফারুকের নেতৃত্বে এই গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করা হয়।

নূর ইসলাম অটোরিকশাচালকের বেশে তার গাড়িতে যাত্রী তুলেন। এরপর সেই যাত্রীর টাকা-পয়সা ও মূল্যবান মালামাল লুটে নেয়। এতে বাধা দিলে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এভাবে একের পর এক হত্যার ঘটনা ঘটিয়েও ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলো। গত ৬ জানুয়ারি গভীর রাতে শিক্ষার্থীর মিজানুর রহমানের লাশ উদ্ধারের পর তদন্তে নামে পুলিশ। শিক্ষার্থীর ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোনের সূত্র ধরেই নূর ইসলামসহ ওই তিন ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার হয়।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে নুরুল ইসলাম জানায়, তিনি ৫-৬ মাস ধরে প্রায় ৬০০ ছিনতাই করেছে। তার আরো ছয় জন সহযোগী রয়েছে, যারা প্রায় ৩-৪ বছর ধরে ছিনতাই করছে। রাত আটটায় বের হয়ে সূর্যোদয় পর্যন্ত এক রাতে কমপক্ষে একটি থেকে সর্বোচ্চ ছয়টি ছিনতাই করেছে। সিএনজিতে যাত্রী হিসেবে উঠিয়ে ছিনতাইয়ে বাঁধা দেয়ায় তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে।

নুরুল আরো জানান, ছিনতাইয়ের পর অজ্ঞান বা অর্ধমৃত অবস্থায় ৩০-৪০ জন জন যাত্রীকে বিভিন্ন ফ্লাইওভার বা নির্জন অন্ধকারাচ্ছন্ন স্থানে সিএনজি থেকে ফেলে দেয়া হয়। এদের মধ্যে ৮-১০ জন বাস-ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা গেছে। এছাড়াও ডিএমপি এলাকার বাইরেও গত দুই মাসে তারা আরো ০৪ টি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলেও জানান নুরুল।

এ বিষয়ে পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, গত ৬ জানুয়ারি হাতিরঝিলের কারওয়ান বাজার সংলগ্ন ফ্লাইওভার থেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ও বনানীর একটি হোটেলের কর্মী মিজানুর রহমানের লাশ উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর পার্শ্ববর্তী একটি এলাকা থেকে নূর ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে শুক্রবার ওই মামলায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় নূর ইসলাম।

১০ ডিসেম্বর আক্তার হোসেন নামের এক স্বর্ণকারকে হত্যার পর লাশ ফেলে রাখা হয় কুড়িল ফ্লাইওভারে। ৩১ ডিসেম্বর খিলক্ষেত ফ্লাইওভারে উঠার পথের ডানপাশে এক অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির লাশ পাওয়া যায়। এ বছরের ৩ জানুয়ারি কুড়িল বিশ্বরোড সংলগ্ন ফ্লাইওভারে মনির হোসেন নামে এক ব্যক্তির নাশ পাওয়া যায়।

বাংলা/এনএস

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0418 seconds.