• বিদেশ ডেস্ক
  • ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১৬:১৪:৪০
  • ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১৬:১৪:৪০
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

ধূমপান ছাড়লে স্বাভাবিক হয়ে যায় ফুসফুস

ছবি : বিবিসি থেকে নেয়া

ধূমপানের ফলে মানুষের ক্যান্সার রোগ হয়। মূলত ধূমপানের কারণে ফুসফুসের পরিবর্তন হয়ে এ রোগের সম্ভাবনা তৈরি হয়। তবে অবাক করার মতো বিষয় হলো, ধূমপান ছেড়ে দিলে ফুসফুস আবারো অবস্থায় সুস্থ ফিরতে পারে। যা অনেকটা 'জাদুকর'। এমনটাই দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা।

ধূমপানের কারণে ফুসফুসের যেসব পরিবর্তন হয়ে ক্যান্সারের জন্য দায়ী, সেসব পরিবর্তনকে স্থায়ী মনে করা হতো এবং ধূমপান ছাড়ার পরও সেসব পরিবর্তন অক্ষুন্ন থাকবে বলে ধারণা করা হতো। কিন্তু নতুন গবেষণা বিজ্ঞানীদের সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করেছে। ধূমপানে ক্ষতিগ্রস্থ না হওয়া ফুসফুসের কয়েকটি কোষই পরবর্তীতে ফুসফুসকে আবারো স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসে বলে নতুন গবেষণায় উঠে আসে। সংবাদমাধ্যম নেচার’র বরাত দিয়ে এমন খবর প্রকাশ করেছে বিবিসি।

৪০ বছর ধরে প্রতিদিন এক প্যাকেট করে সিগারেট খাওয়ার পরও যারা ধূমপান ছেড়েছেন, সেই সব ব্যক্তির ফুসফুসের ক্ষেত্রেও এই অগ্রগতি লক্ষ করা গেছে। সিগারেটে থাকা হাজার ধরণের রাসায়নিক ফুসফুসের কোষের ডিএনএকে পরিবর্তন করে ধীরে ধীরে সুস্থ থেকে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষে পরিবর্তন করে।

গবেষণায় বলা হয়, যে ধূমপায়ীদের ফুসফুসে ক্যান্সারের উপস্থিতি পাওয়ার আগে থেকেই ফুসফুসের কোষ ব্যাপকহারে পরিবর্তিত হতে থাকে। ধূমপায়ীদের শ্বাসনালী থেকে নেয়া কোষের অধিকাংশই ধূমপানের ফলে পরিবর্তিত হয়েছে বলে দেখা গেছে। কোনো কোনো কোষে ১০ হাজার পর্যন্ত জিনগত পরিবর্তনও লক্ষ করা গেছে।

 এ বিষয়ে গবেষক ডক্টর কেট গাওয়ার্স বলেন, ‘এই পরিবর্তনগুলোকে ছোট আকারের টাইম বোমার সাথে তুলনা করতে পারেন। পরবর্তী আঘাতের সাথে সাথেই হয়তো এটি ক্যান্সারে রুপান্তরিত হবে।’ তবে এরকম ক্ষেত্রেও অল্প কিছু সংখ্যক কোষ অপরিবর্তিত থেকে যায়। ধূমপানের কারণে হওয়া জিনগত পরিবর্তন তবে কোষগুলো কীভাবে এড়িয়ে গেলো, তা পরিস্কার নয়।

কেউ যখন ধূমপান ছেড়ে দেয়, তখন ঐ অপরিবর্তিত কোষগুলো সংখ্যায় বাড়তে থাকে এবং ফুসফুসের ক্ষতিগ্রস্থ কোষগুলোকে প্রতিস্থাপিত করতে থাকে। যেসব মানুষ ধূমপান ত্যাগ করে, তাদের ৪০% পর্যন্ত কোষের গঠন কখনো ধূমপান না করা মানুষের কোষের গঠনের মত হয়ে যায়।

এ বিষয়ে স্যাঙ্গার ইন্সটিটিউটের ডক্টর পিটার ক্যাম্পবেল বলেন, ‘আমরা এই অবিষ্কারের জন্য একেবারেই প্রস্তুত ছিলাম না। কিছু কোষ থাকে যেগুলো, অনেকটা জাদুকরীভাবেই, শ্বাসনালীর প্রান্তগুলোকে পুনর্গঠণ করে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, ৪০ বছর ধূমপান করার পরও যারা ধূমপান ছেড়েছে তাদের ক্ষেত্রেও অপরিবর্তিত কোষের মাধ্যমে সুস্থ কোষ পুনঃনির্মাণের ঘটনা ঘটেছে।’

যুক্তরাজ্যের ক্যান্সার রিসার্চ কেন্দ্রের ডক্টর রাচেল ওরিট বলেন, ‘ধূমপান ছাড়লে সুফল আসলে দ্বিগুণ, এটি খুবই অনুপ্রেরণাদায়ক একটি বিষয়। প্রথমত, ফুসফুসের কোষে ধূমপান সংম্লিষ্ট ক্ষয়ক্ষতি কমে যাবে এবং দ্বিতীয়ত ফুসফুস নিজেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সুস্থ কোষ দিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ কোষের প্রতিস্থাপন শুরু করবে।’

ধূমপান ছাড়লে ফুসফুসের কতটুকু অংশ আসলে আগের মত অবস্থায় ফেরত যায়, তা জানতে পরীক্ষা করতে হবে বিজ্ঞানীদের। গবেষণাটিতে মূলত মূল শ্বাসনালীগুলোর বিষয়ে জোর দেয়া হয়েছে। অ্যালভেওলি নামক ফুসফুসের ক্ষুদ্র পথগুলোর বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়নি, যেগুলোর মধ্য দিয়ে আমাদের গ্রহণ করা বাতাসের অক্সিজেন ফুসফুসে প্রবেশ করে।

বাংলা/এনএস

সংশ্লিষ্ট বিষয়

ধূমপান ফুসফুস

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0275 seconds.