• ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১৬:৫৬:৫২
  • ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১৬:৫৬:৫২
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

আজাদি, যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল

ছবি : সংগৃহীত


কাকন রেজা :


যখন লিখছি তখন ঢাকা সিটি’র ভোট শেষ। গোনা শুরু হয়েছে। ভাববেন না ভোট নিয়ে লিখতে বসেছি। ভোট নিয়ে লেখার কিছু নেই। সারাদিনের ভোটচিত্রের কিয়দংশ গণমাধ্যমের বদৌলতে মানুষ জেনেছেন। বাকিটা আন্দাজ করে নিতে কষ্ট হবার কথা নয়। আর নির্ধারিত ফলাফলের নির্ধারণে যে কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না সেটাই স্বাভাবিক।

সুতরাং ভোটের কথা নয়, লিখতে বসেছি করোনাভাইরাস সারানোর ওষুধ নিয়ে। যার আবিষ্কারক ভারতের হিন্দু মহাসভা প্রধান। তার বরাতে ভারতীয় গণমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া আউটলুক’ জানিয়েছে, গরুর গোবর ও মূত্রে সারবে করোনাভাইরাস। এর আগে অর্জুনের তীরে পারমাণবিক অস্ত্রের খোঁজ জানিয়েছিলেন এমনি একজন। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি কাদের নিয়ন্ত্রণে সেটা চিন্তা করলে রীতিমত করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীর মতন জরকম্প হওয়া শুরু করে। যারা হুজুরদের ওয়াজে ‘বিজ্ঞানমনষ্কতা’ খোঁজার চেষ্টায় ব্যাকুল থাকেন। তাদের আকুলতাময় দৃষ্টিকেন্দ্রটা বোধহয় এবার সরানো উচিত।

কোথায় যাচ্ছি আমরা। দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষমতা কেন্দ্রে এরা কারা। যাদের বেশিরভাগেরই রাজনীতির প্রথম পাঠটাই ভালো করে জানা হয়নি। রাজনৈতিক দর্শন, সমাজনীতি তো পরের কথা। বিজ্ঞান আরো ‘দূর কা বাত’। এদের মিশেলে যারা বিজ্ঞ আছেন তারাও ভুলতে বসেছেন নিজ শিক্ষা ও অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান। প্রবাদতো আর এমনি হয়নি, ‘সঙ্গ দোষে লোহা ভাসে’।

লেখার মাঝখানে আবার নোটিফিকেশন। ভোটের ক্যারিকেচার। ‘ভোট দিতে দেয় না, ভোট দিতে চেয়েছে একখানে জোর করে ভোট দিতে বাধ্য করেছে অন্যখানে।’ ‘ভোটারদের আঙুলের ছাপ নিয়ে ভোট দিচ্ছে এজেন্টরা’, এমনসব খবরের নোটিফিকেশনে সেলফোনের পাগল অবস্থা। আর রয়েছে বিএনপি নেতাদের আহাজারি। এদের আহাজারি শুনলে বিরক্ত লাগে। শখ করে কান কাটাতে যাস কেন রে ভাই। জেনে শুনে বিষ পান করবি, আবার অভিযোগও করবি, দুটোতো একসঙ্গে চলতে পারে না। রবি ঠাকুরতো বলেই গেছেন জেনেশুনে বিষপানের বদগুণ। ‘যতই দেখি তারে ততই দহি’ এখন ‘আপন মনজ্বালা নিরবে সহি’র বিষয়ে প্র্যাকটিসটা কর বাবা। তাতে অন্তত মারধরটা খেতে হবে না।

যাক গে, যা গেছে তা নিয়ে কথা বলা মানে অহেতুক সময়ের অপচয়। দেশের ভোট আর শিক্ষা নিয়ে কথা বলার চেষ্টা বৃথা। তারচেয়ে দক্ষিণ এশিয়া নিয়ে ভাবি। বৃহৎ প্রতিবেশি ভারতে যে আজাদির স্লোগান উঠেছে সে স্লোগানের মর্মার্থ অনুধাবনের চেষ্টা করি। বড় জায়গার আছর খুব সহজেই ছোট জায়গায় পরে। আজাদ দেশে আজাদির স্লোগান যতটা না বিপ্লবের তারচেয়ে বেশি বেদনার। অন্যের অধীনতা থেকে নিজেদের অধীনস্থ হবার পর, নিজেদেরেই কারো কারো প্রভু হয়ে উঠার চিত্রটা অবশ্যই বেদনার, সাথে লজ্জারও। এই বেদনা আর লজ্জা থেকে মুক্তি পাবার স্লোগানই ‘আজাদি’।

স্বাধীন দেশে আজ নিজের কথা বলতে পারছে না মানুষ। নিজের অপ্রাপ্তির কথা জানাতে গেলে নিগৃহীত হতে হচ্ছে। পেটে ভাত নেই অথচ পোলাও খাবার গল্প শোনাতে হচ্ছে, কি একটা অবস্থা! দেশের অর্থনীতি বিধ্বস্ত। আইনশৃংখলা বিপর্যস্ত। সামাজিক নিরাপত্তা নেই বললেই চলে। দ্রব্যমূল্যের ভারসাম্যতা গুড়িয়ে গেছে। মানবিকবোধগুলো শিকেয়। তারপরও বলতে হবে, আমরা ভালো আছি। যায় যদি যাক প্রাণ হীরকের রাজা ভগবান। সুতরাং এমন একটি আজাদ দেশে ‘আজাদি’র স্লোগান উঠা কোনভাবেই অসঙ্গত নয়। আজাদি স্লোগানের প্রাণপুরুষ কানহাইয়া কুমারের গ্রেপ্তারের মাধ্যমেই বোঝা যায়, কেনো ‘আজাদি’ সম্পূর্ণত সঙ্গত এবং ন্যায়ত।

আজাদি আজ দক্ষিণ এশিয়ার সব মানুষই চায়। শুধু দক্ষিণ এশিয়া কেনো, এশিয়া, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্যসহ সর্বত্র, যেখানেই বিপন্ন মানুষ সেখানেই আজাদি’র স্লোগান। ডর থেকে আজাদি, অনিরাপত্তা থেকে আজাদি, দুর্বৃত্তায়ন থেকে আজাদি, চোর আর ডাকাতদের থেকে আজাদি, ভোটচোরদের থেকে আজাদি, ক্যানিবাল শাসকদের থেকে আজাদি। এসবই আজাদি, আজাদি প্রার্থনার কারণ।

‘লড়কে লেঙ্গে আজাদি’। আজাদি লড়ে নিতে হয়। আজাদি’র জন্য প্রস্তুত হতে হয়। বিপ্লবের চেয়ে অধিক বিপ্লব হলো নিজের কাছ থেকে আজাদি। সুতরাং দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বের নিপীড়িত মানুষদের আজাদির জন্য প্রস্তুত হতে হবে। আর না পারলে দাস হয়ে থাকতে হবে বাকি জীবন। যাদের সেকেন্ড হোম নেই, তাদের সন্তান-সন্ততিরাও পাবে পরম্পরাময় দাস জীবন। সুকান্ত বুঝতে পেরেছিলেন বলেই চেষ্টায় ছিলেন, বলেছিলেন, ‘চলে যাব- তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল, এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি— নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার ...’। সুকান্ত চলে গিয়েছেন, আর অঙ্গীকার পূরণের দায়ভার চেপেছে আমাদের কাঁধে। আমরা তৈরি তো সমস্ত জঞ্জাল সরাতে? নাকি---

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

বাংলা/এনএস

সংশ্লিষ্ট বিষয়

স্লোগান ভারত

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0245 seconds.