• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১২:৫৩:০২
  • ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১২:৫৩:০২
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

এসি ‘দেখতে’ বিদেশ যাচ্ছেন দুই কর্মকর্তা

ফাইল ছবি

গভর্নর বাংলোর জন্য ৬৬ টন এসি কিনতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর সেই এসির উৎপাদন দেখতে ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা যাচ্ছেন মালয়েশিয়া। আজ ১১ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার রাতে তাদের ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে।

এই দুই কর্মকর্তা হলেন- ব্যাংকের কমন সার্ভিস বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক মো. মোতালেব মাতুব্বর ও সহকারী পরিচালক মাহবুবুর রহমান। ১২ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি তাদের দুইদিনের এ ভ্রমণের সকল খরচই বহন করবে এসি সরবরাহকারী স্থানীয় প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড এনার্জি কনজারভেশন। 

ইতোমধ্যে গত ৩ ফেব্রুয়ারি তাদের বিদেশ যাওয়ার অনুমতিসংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগ। 

অফিস আদেশে বলা হয়, এসির প্রি-শিপমেন্ট ইন্সপেকশনের জন্য এ দুজন কর্মকর্তাকে আগামী ১২ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মালয়েশিয়া ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হলো। যখন তাঁরা ভ্রমণ করবেন তখন অন ডিউটিতে থাকবেন। অনুমোদন ছাড়া অতিরিক্ত সময় সেখানে থাকতে পারবেন না। যে কয়েক দিন তাঁরা বিদেশে থাকবেন, ওই কয়েক দিনের বেতন স্থানীয় মুদ্রায় পরিশোধ করা হবে।

জানা গেছে, রাজধানীর গুলশান-২ এ বাংলাদেশ ব্যাংকের তিনতলা গভর্নর বাংলোর জন্য ৬৬ টিআর ক্যাপাসিটির ভিআরপি সিস্টেমের এসি কিনতে ২০১৮ সালের ৫ ডিসেম্বর দরপত্র আহ্বান করা হয়। ওই বছরের ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত গ্রহণ করা হয় ওই দরপত্রের আবেদন। 

দরপত্রে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন ৯০ লাখ টাকায় এসি সরবরাহের কাজটি পায় প্যাসিফিক মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড এনার্জি কনজারভেশন। এ প্রতিষ্ঠানটি মালয়েশীয় কোম্পানি কুলম্যান ইন্টারন্যাশনালের বাংলাদেশি এজেন্ট।

এদিকে এসি দেখার জন্য এই দুই কর্মকর্তার বিদেশে যাওয়ার সমালোচনা করছেন অন্য কর্মকর্তারা। তাদের ভাষ্য, এসি দেখার জন্য কর্মকর্তাদের বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেয়াটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

এর মাধ্যমে আসলে কাজের কাজ কিছুই হবে না, বরং তাদের আনন্দ ভ্রমণের সুযোগ করে দেওয়ারও অভিযোগ করেন তারা।

ব্যাংকের একটি সূত্র জানায়, প্রি-শিপমেন্ট ইন্সপেকশন করতে যে কর্মকর্তারা যাচ্ছেন তারা চোখের দেখাই শুধু দেখবেন। সেগুলো আসল না নকল সেটি যাচাইয়ের যন্ত্রপাতি নিয়ে যাচ্ছেন না। তাছাড়া পণ্যের জাহাজীকরণ পর্যন্তও থাকবেন না ওই কর্মকর্তারা। ফলে তাদের একটি দেখিয়ে অন্যটি গছিয়ে দিলেও বোঝার উপায় নেই। 

এই ভ্রমণের পরিবর্তে তৃতীয় কোম্পানির লোকদের দিয়ে এ ধরনের ইন্সপেকশন করানো হলে সেটা আরো যথাযথ হতো। কারণ তারা পণ্য জাহাজীকরণ পর্যন্ত সঙ্গে থাকত। ফলে অসংগতি হওয়ার সুযোগ কম থাকত বলেও মনে করেন তারা।

এ বিষয়ে কমন সার্ভিসেস বিভাগের মহাব্যবস্থাপক তফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘আমাদের রুলসই আছে দরপত্রে এ রকম একটা অপশন রাখার।’ কেনাকাটার বিধিমালায় এটা বলা আছে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।

বাংলা/এসএ

 

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0733 seconds.