• ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১৬:১৬:০৭
  • ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১৬:১৬:০৭
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

কচুরিপানা : যেখানে দেখিবে ছাই উড়াইয়া দেখ তাই

ছবি : সংগৃহীত


কাকন রেজা :


স্বীকার করুণ না করুন, আলোচনা তৈরির ক্ষমতা বর্তমানের মন্ত্রীদের আছে। যেটা একযুগ আগেও ছিলো না। কচুরিপানার বিষয়টিই দেখুন না। এই যে আমি, সাধারণত সামাজিকমাধ্যমে কোন বিষয়ে মন্তব্য করি না। সেই আমিও করলাম। ততটা গুরুত্ব না থাকলেও কচুরিপানা খাওয়া যায় বা না এমন বিষয়টি দখল করে রেখেছে গণ ও সামাজিকমাধ্যম। অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও এর কাছে ধরা খেয়েছে। যেমন, যেমন দক্ষিণ এশিয়ায় ব্যয়ের শীর্ষে বাংলাদেশ, ব্যয়বহুল শহর ঢাকা। সবচেয়ে দূষিত বাতাসের শহরও ঢাকা। 

এমন আলোচনার তৈরির ক্ষমতা রয়েছে ভারতের বিজেপি সরকারের লোকজনের। একজন বললেন, করোনা ভাইরাসের মূর্তি বানিয়ে মাফ চাইতে। বিষয়টি ‘বুলশিট’ হলও কিন্তু আলোচনা হচ্ছে। তবে সেখানের আলোচনার ধরণটা সমালোচনাতেই সীমাবদ্ধ বেশি। সেখানে এমন একটা বিষয়কে ডিফেন্ড করার চেষ্টা কেউ করেন না। গুরুত্ব রয়েছে এমন খুব বেশি কেউ বা মাধ্যম বলে না যে, করোনা ভাইরাসের মূর্তি গড়া আসলেই উচিত। 

সে তুলনায় আমাদের এখানে বিষয়টা একটু অন্যরকম। কচুরিপানা খাওয়া যায় বা খেতে পারবো না কেনো- এ ব্যাপারে সমালোচনার পাশাপাশি কচুরিপানা খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরার লোকজনও রয়েছেন এবং যাদের মধ্যে অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি কচুরিপানা রান্নার রেসিপিও প্রকাশিত ও প্রদর্শিত হচ্ছে গণমাধ্যমে। বিদেশি মাধ্যমও রয়েছে এর সাথে। অর্থাৎ প্রয়োজনীয়তা ও উপযোগিতা তুলে ধরাতে গণমাধ্যমও পিছিয়ে নেই। সেটা স্যাটায়ারিক ফর্মে হলেও। এমনি এক রেসিপিতে দেখলাম কচুরিপানা দিয়ে শোল মাছ রান্নার বিষয়টি। কচুরিপানার মতন বিষয়ও একজন মন্ত্রীর কথায় কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়। এখনকার মন্ত্রীদের এটাই বড় গুন। যে গুন একযুগ আগের মন্ত্রীদের ছিলো না। তারা নিঃসন্দেহে ব্যর্থ ছিলেন। তারা সামান্যর মধ্যে অসামান্য হতে পারেননি। 

তখনকার মন্ত্রীরা এমন ধরণের কোনো কথা বললে, তৎক্ষণাত তা নিয়ে সমালোচনা শুরু হতো। আর সেই সমালোচনার এমন ধার ছিলো যার সমুখে কেউ সেই কথার যৌক্তিকতা প্রমান করার অযৌক্তিক সাহস করতে পারতো না। এক মন্ত্রী বলেছিলেন, ‘আল্লার মাল আল্লায় নিয়া গেছে’। এক যুগ পরেও তা সমালোচিত হয়, ব্যঙ্গ হয়। রম্য লেখার অপরিহার্য উপাদান হয়ে দাঁড়ায়। সে  সময় ‘আল্লার মাল আল্লায় নেয়া’র কথা যে ধর্ম থেকেই আসা, এমন কথাও বলতে কেউ সাহস করেননি। করলে তাকেও ধুয়ে দেয়া হতো। বিপরীতে এখনকার মন্ত্রীরা সফল। তাদের সব কথার পক্ষেই ‘হ্যাঁ’ বলার মতন লোকজন আছেন। একভাবে এটাকে তাদের সক্ষমতা ও জনপ্রিয়তা হিসাবেও ধরতে পারেন। অনেকটা জিডিপি গ্রোথের মতন। 

একজন তরুণ ফেসবুকারের কথার ধরণটা খুব ভালো লেগেছে। তার নামটা সঙ্গত কারণেই বলছি না। তার লেখার ধরণটা ছিলো অনেকটা এরকম, দেশের মানুষের সামগ্রিক কর্মকান্ড ও মগজ বিবেচনা করেই হয়তো কচুরিপানা খাবার কথা বলা হয়েছে। না, আমি সেই তরুণের মতন সরলীকরণ করছি না। বলছি, কিছু কিছু মানুষের সামগ্রিকতা বিবেচনায় হয়তো কচুরিপানার বিষয়টি এতটা ক্লিক করে গেছে। 

তবে কচুরিপানার বিষয়টি মাথায় রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। আমাদের আরেক মন্ত্রীও বলেছেন, ‘কচুরিপানা থেকে একদিন খাবার বের হবে’, গণমাধ্যম এমনটাই জানিয়েছে। এই ‘একদিন’ বিষয়টিও কিন্তু একটি সম্ভাবনার কথা। কারণটাও বলছি। গণমাধ্যমের শিরোনাম অনুযায়ী দক্ষিণ এশিয়ার ব্যয়ের শীর্ষে বাংলাদেশে এবং সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহর ঢাকা। সুতরাং এই ব্যয় মোকাবেলায় খাদ্য তালিকায় কচুরিপানার সম্ভাবনাটা ধরে রাখতে হবে। যেহেতু গণমাধ্যমের বদৌলতে ইতোমধ্যে জানা হয়ে গেছে, কচুরিপানা খুবই দ্রুত বংশবিস্তারে সক্ষম একটি উদ্ভিদ। বীজ উৎপাদনের ক্ষমতাও অনেকগুন বেশি। এমনকি এর বীজ ত্রিশ বছর পরও অঙ্কুরোদগম ঘটাতে পারে। বলতে পারেন প্রায় অমর ও ‘ডোন্ট কেয়ার’ টাইপ উদ্ভিদ। সব আবহাওয়ার সাথেই মানিয়ে নিতে পারে। যেমন, আমরা পারি সব কিছু মানিয়ে নিতে, সয়ে নিতে। আমাদের আরো অনেক কিছুর সাথেই এই উদ্ভিদটির মিল রয়েছে। মানিয়ে নিতে পারা এবং ডোন্ট কেয়ারের বিষয়টা আপনারাও ফেলে দিতে পারবেন না। আমরা মানিয়ে নিই, কেউ কেয়ার করে না বলেই। কী বলেন? 

যাকগে, শেষ কথায় আসি। দায়িত্বশীলদের কোনো কথাই নজর-আন্দাজ করা যাবে না। সামান্যতেও অসামান্য থাকতে পারে। সময় বদলেছে। আগের সময়টা এখন আর নেই। টিকে থাকতে হলে মনে রাখতে হবে, ‘যেখানে দেখিবে ছাই, উড়াইয়া দেখ তাই, পাইলেও পাইতে পার অমূল্য রতন’ এই প্রবাদ বাক্যটি। প্রবাদতো আর এমনি এমনি হয় না। 

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

সংশ্লিষ্ট বিষয়

কচুরিপানা কাকন রেজা

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0203 seconds.