• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ২২:০৬:০৮
  • ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০৯:৩৭:১৩
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

‘ক্রসফায়ারের’ ভয় দেখিয়ে ২৩ লাখ টাকা আদায়ে আসামি ওসিসহ ৭ পুলিশ

ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রামে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ২৩ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগে ২ ওসিসহ ৭ পুলিশের বিরুদ্ধে  আদালতে মামলা করেছে এক ব্যবসায়ী। মোহাম্মদ ইয়াছিন নামের এ ব্যবসায়ীর অভিযোগ, মাথায় রিভলবার ঠেকিয়ে থানায় নিয়ে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে দুই দফায় ২৩ লাখ টাকা আদায় করেছে পুলিশ।

তবে বায়েজিদ বোস্তামী থানার অফিসার ইনচার্জ প্রিটন সরকারের দাবি করেন মামলার বাদিকে তিনি চেনেন না। এমনকি ঘটনা সম্পর্কে তার কিছু জানা নেই। 

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মো. মহিউদ্দিন মুরাদের আদালতে মামলা দায়েরর পর সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারকে তদন্তের নিদেশ দেয় আদালত। 

মামলার অভিযোগে অভিযুক্তরা হলেন- বায়েজিদ বোস্তামি থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতাউর রহমান খন্দকার, একই থানার বর্তমান অফিসার ইনচার্জ প্রিটন সরকার, উপ-পরিদর্শক মো. আফতাব, এএসআই মো. ইব্রাহিম ও মিঠুন নাথ এবং কনস্টেবল সাইফুল ও রহমান। এদের মধ্যে আতাউর রহমান খন্দকার বর্তমানে চান্দগাঁও থানার ওসি এবং প্রিটন সরকার বায়েজিদ বোস্তামি থানার ওসি হিসেবে দায়িত্বে আছেন।

বাদির আইনজীবী শহীদুল হক সুমন সাংবাদিকদের জানান, অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তুলে থানায় নিয়ে এবং ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগে দণ্ডবিধির ৩৪৭, ৩৬৪, ৩৮৭, ৩৮৮ ও ১০৯ ধারায় মামলাটি দায়ের হয়েছে। আদালত মামলা আমলে নিয়ে সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনারকে (প্রশাসন) তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন। বাদি নুর মোহাম্মদ অভিযোগ করেছেন,  গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে নুর মোহাম্মদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যান এসআই আফতাব, এএসআই ইব্রাহিম ও মিঠুন এবং কনস্টেবল সাইফুল ও রহমান। মাথায় রিভলবার ঠেকিয়ে তাকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে বায়েজিদ বোস্তামি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পরিদর্শক প্রিটন সরকারের কক্ষে বসিয়ে তার কাছে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন তারা। একপর্যায়ে ওসি আতাউর রহমান খন্দকার ওই কক্ষে এসে ২০ লাখ টাকা না দিলে ক্রসফায়ারে হত্যার নির্দেশ দিয়ে চলে যান। নুর মোহাম্মদ তার ভাইয়ের মাধ্যমে ১১ লাখ টাকা প্রিটনের হাতে তুলে দিলে বিকেল ৫টার দিকে তাকে ছেড়ে দিয়ে একটি সিএনজি অটোরিকশায় তুলে দেওয়া হয়।

এরপর গত ৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টার দিকে একইভাবে তাকে আবারো থানায় নিয়ে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ১২ লাখ টাকা দেয়ার পর তাকে মাইক্রোবাসে তুলে নগরীর আতুরার ডিপো এলাকায় জনতা ব্যাংকের সামনে নামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তিনি এ বিষয়ে পুলিশের আইজি, চট্টগ্রামের রেঞ্জের ডিআইজি এবং সিএমপি কমিশনারকে লিখিত অভিযোগ করেন।

বায়েজিদ বোস্তামি থানার অফিসার ইনচার্জ  প্রিটন সরকার বলেন, ‘আমার রুমে বসে কারো কাছে টাকা দাবি কিংবা টাকা নেয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমি বাদীকে চিনিও না।’

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0756 seconds.