• ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ২২:৪৫:৪১
  • ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ২২:৪৫:৪১
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

অধ্যক্ষের মেয়েকে বিয়ে না করায় শ্লীলতাহানির মামলার অভিযোগ

ছবি : সংগৃহীত

রাবি প্রতিনিধি :

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ শফিউল ইসলামের মেয়ের বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় শ্লীলতাহানির মামলা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন স্কুলের প্রভাষক দুরুল হুদা। তবে অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করেছেন অধ্যক্ষের স্ত্রী লায়লা আরজুমান বানু।

বুধবার নগরীর টিএফসি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এই অভিযোগ করেন।

গত বছরের ২০ অক্টোবর অধ্যক্ষ শফিউল ইসলামের স্ত্রী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক লায়লা আরজুমান বানু ওই স্কুল পড়ুয়া মেয়ের শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনে দুরুল হুদার বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই দিনই তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। ১২ ডিসেম্বর তিনি জামিনে বের হয়ে আসেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে দুরুল হুদা বলেন, আমি ২০১৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি রাবি স্কুল এন্ড কলেজে প্রভাষক পদে যোগদান করি। কলেজের অধ্যক্ষ অবসরে গেলে উপাধ্যক্ষ জনাব মো. শফিউল আলম ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। পরে তিনি অধ্যক্ষ পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হলে আমাকে তার মেয়েকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেন। অসম্মতি জানানোয় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে চাকরিচ্যুত করার হুমকি ও চাকরি ছাড়তে চাপ প্রয়োগ করেন। এবং অবৈধভাবে শিক্ষক নিয়োগের চেষ্টা চালান। সেই নিয়োগে আমিসহ অন্যান্য শিক্ষকগণ প্রতিবাদ করলে অন্যদেরও চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেন।

চাকরি ছাড়তে রাজি না হওয়ায় ৪ দিন পর অধ্যক্ষ তার স্ত্রী লায়লা আরজুমান বানুকে বাদী করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারায় মতিহার থানায় আমার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য আমি আবেদন করেছি। এই নিয়োগের ভাইভায় যাতে আমি না থাকতে পারি সেজন্য আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে যৌন হয়রানির মামলা করা হয়েছে।’

জামিন নিয়ে বের হওয়ার পর চাকরি ছাড়তে রাজি না হওয়ায় অধ্যক্ষ ও তার স্ত্রী পুনরায় গত ১৬ ফেব্রুয়ারি গণমাধ্যমে অসত্য তথ্য উপস্থাপন করে জামিন বাতিলের অপচেষ্টা চালিয়েছেন এবং আমাকে চাকরিচ্যুতসহ জীবননাশের হুমকি প্রদান করেছেন বলেও অভিযোগ হুদার।

দুরুল হুদা অধ্যক্ষ শফিউল আলমের সঙ্গে ফোনালাপের একটি রেকর্ড সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন। রেকর্ড থেকে জানা যায়, দুরুল হুদাকে চাকরি ছাড়ার জন্য হুমকি দেন অধ্যক্ষ।

তিনি দুরুল হুদাকে বলেন, ‘বাংলাদেশের এমন কোনও জায়গা নাই যেখানে আমাদের লোকজন নাই। তুমি যেখানেই থাকো না কেন, ২৪ ঘণ্টা সময় লাগবে না তোমাকে তুলে নিয়ে আসতে। চাকরি না ছাড়লে তোমাকে পুলিশে দেয়া হবে। তোমার জন্য বেটার হবে চাকরি ছেড়ে দেয়া। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া তো তোমার জন্য আকাশ কুসুম কল্পনা।’

তবে সব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করেছেন ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক লায়লা আরজুমান বানু। তিনি বলেন, ‘তার কাছে আমার মেয়ের বিয়ের প্রস্তাব এবং তাকে চাকরিচ্যুত করার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। দুরুল হুদা আমার মেয়ের টিচার ছিল। সে সপ্তাহে দুই-একদিন মেয়েকে পড়াতে আসতো। এরই মধ্যে একদিন সে আমার মেয়ের সাথে অশালীন আচরণ করে। এর কিছু দিন পর তার বিরুদ্ধে আমি বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করি।’

তিনি আরো বলেন, ‘অপরাধ আড়াল করার জন্য সে (হুদা) এসব অভিযোগ করেছে। আমি তার বিরুদ্ধে আইনী প্রক্রিয়া চালিয়ে যাব। কোনও অবৈধ পথে যাওয়ার ইচ্ছা আমার নেই।’

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0208 seconds.