• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১১:৩৯:৫১
  • ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১১:৩৯:৫১
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

এবার ভয়াবহ জলাবদ্ধতার শঙ্কায় রাজধানী

ফাইল ছবি

রাজধানী জুড়ে মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও বিআরটি প্রকল্পসহ নানা ধরনের উন্নয়ন কাজ চলছে। এতে করে শহরের অনেক স্থানে পানি নিষ্কাশন ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক অকেজো হয়ে পড়েছে। ফলে এবারের বর্ষায় জলাবদ্ধতা ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে বলে আশঙ্কা করেছে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা।

১৪ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে করণীয় এবং পানি নিষ্কাশন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় এমন শঙ্কার কথা প্রকাশ করা হয়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শরীফ আহমেদ বলেন, ‘মেট্রোরেলের উন্নয়ন কাজের কারণে মিরপুর-১০ থেকে আগারগাঁও তালতলা পর্যন্ত ঢাকা ওয়াসার পানি নিষ্কাশন ড্রেনেজ সিস্টেম অকেজো হয়ে পড়েছে। এসব ড্রেনেজ সংস্কার কাজ এখনো শুরু হয়নি। এছাড়া বিজয় সরণির থেকে খামারবাড়ি হয়ে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত সিটি কর্পোরেশনের ড্রেনেজ সিস্টেম অকেজো হয়ে পড়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এসব ড্রেনেজ সংস্কার করার জন্য মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে জানানো হলে তারা সিটি কর্পোরেশনকে ৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু গত দুই মাসেও কোনো টাকা দেয়নি। বর্ষা আসন্ন এ অবস্থায় আমরা কিছুই করতে পারছি না। কেননা মেগা প্রকল্পের উন্নয়ন কাজের কারণে ক্ষতি সড়ক বা ড্রেনেজ সংশ্লিষ্ট সংস্থা সংস্কার করে দেবে এটাই সিস্টেম।’

প্রধান প্রকৌশলী আরো বলেন, ‘কারওয়ান বাজার টিসিবি ভবন সংলগ্ন ওয়াসার ড্রেনেজ ছিলো, যেখান থেকে পানি হাতিরঝিলে চলে যেত। সে সময়ে কারওয়ান বাজারে কোনো জলাবদ্ধতা হতো না। উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের জন্য পানি নিষ্কাশন ড্রেন ঘুরিয়ে দেয়ার কারণে হাতিরঝিলে জলাবদ্ধতা হচ্ছে। এবারের বর্ষার আগে হাতিরঝিল কর্তৃপক্ষ টিসিবি ভবনের সামনের পানি নিষ্কাশন গেটগুলো খুলে দিলে এ সমস্যার সমাধান হতে পারে। এছাড়া হাতিরঝিলে সরাসরি পানি নিষ্কাশন বন্ধ করে দেয়ার কারণে মগবাজার নয়াটোলা ও মগবাজার প্রধান সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।’

তাই জলাবদ্ধতার টেকসই সমাধানের জন্য রাজধানীর চারপাশের নদী ও খালগুলোর সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান করে দখলদার উচ্ছেদ করে পানি নিষ্কাশন প্রবাহ নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন প্রকৌশলী শরীফ আহমেদ। আর এ কাজ বাস্তবায়নে বেসামরিক সংস্থার বাইরের কোনো সংস্থাকে দায়িত্ব দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র জামাল মোস্তফা বলেন, ‘আমাদের সংস্থার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী যৌক্তিক পরামর্শ দিয়েছেন। আমি মনে করি, ঢাকার চারপাশের নদী এবং শহরের ভেতরের খালগুলোর সমন্বয়ে একটি মাস্টারপ্ল্যান করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেয়া উচিত। কেননা দখলদাররা অনেক শক্তিশালী বেসামরিক সংস্থার মাধ্যমে এসব দখলদার উচ্ছেদ করে খালগুলো দখলদারমুক্ত করা সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাকসিম এ খান বলেন, ‘ঢাকা শহরে পানি নিষ্কাশনের সামূহিক কোনো কর্মপরিকল্পনা নেই। এখনো পর্যন্ত সমন্বিত কোনো মাস্টারপ্ল্যানও তৈরি করা হয়নি। শহরের এসব ক্রুটি-বিচ্যুতিগুলো সমাধান করে জলাবদ্ধতা নিরসনে টেকসই উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনের রুটিন কার্যক্রম ঢাকা ওয়াসা পরিচালনা করছে। ২২ খালের ৩০ কিলোমিটার ড্রেন এবং ৩৮০ কিলোমিটার পাইপলাইন পরিষ্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বর্ষা মৌসুমের আগে এই কাজ শেষ করা হবে।’

দক্ষিণের প্রধান নির্বাহী শাহ ইমদাদুল হক বলেন, ‘ঢাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থার দায়িত্ব ঢাকা ওয়াসার হলেও সিটি করপোরেশন শান্তিনগর, সচিবালয় এলাকা, পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডসহ বেশকিছু এলাকায় ড্রেনেজ সিস্টেম তৈরি করেছে। ওইসব এলাকায় যদি ঢাকা ওয়াসার পানি নিষ্কাশন সিস্টেম কার্যকর থাকে, তাহলে ওই এলাকার পানি সরে যাবে। আর সেটা না হলে, এসব পানি সিটি করপোরেশনের ড্রেনেই থাকবে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘গত বছরের বর্ষায় রাজধানীর সচিবালয়, মিরপুর, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, নিকুঞ্জ-১ ও ২, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়, রোকেয়া সরণি, সাংবাদিক কলোনি এলাকাসহ বেশ কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এজন্য সিটি কর্পোরেশন ও ঢাকা ওয়াসাকে এবার এসব এলাকার সমস্যার সমাধানের ব্যাপারে তৎপর থাকতে হবে।’

এ বিষয়ে এলজিআরডি মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, ‘এবারের বর্ষায় ঢাকা শহরে যাতে কোনো ধরনের জলাবদ্ধতা না হয়, সেজন্য ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও ঢাকা ওয়াসাকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। জলাবদ্ধতার টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে দুই সিটি করপোরেশনকে দুটো প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। ওই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে শহরের দখলদার উচ্ছেদ করে জলাবদ্ধতা নিরসন করতে হবে।

এছাড়াও সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা করেন। প্রকল্প বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে তিনি মন্ত্রীর সহায়তা কামনা করেন। এই সভায় ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহর সংশ্লিষ্ট সংস্থার শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলা/এনএস

সংশ্লিষ্ট বিষয়

জলবদ্ধতা ঢাকা ওয়াসা

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0263 seconds.