• বিনোদন ডেস্ক
  • ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১৩:৩১:১০
  • ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১৩:৩১:১০
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

কৃতকর্মের জন্য সরি বলতে হবে শাবনূরকে : সামিরা

ফাইল ছবি

চিত্রনায়ক সালমান শাহ’র হত্যার অভিযোগের কোনো প্রমাণ পায়নি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। শাবনূরকে নিয়ে পারিবারিক কলহের জেরে সালমান আত্মহত্যা করেছিলেন বলে তাদের তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। 

পিবিআই’র এই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর সালমান শাহ’র স্ত্রী সামিরা হক বলেছেন, ‘শাবনূরকে তার কৃতকর্মের জন্য সরি বলতে হবে। সেটা এখন হোক কিংবা পরে, এই জীবনে কিংবা শেষ বিচারের দিনে।’

প্রথম আলো’র এক সাক্ষাৎকারে সামিরা বলেন, ‘সালমান শাহ ও শাবনূর যে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলো, সে কথা সালমান নিজেই আমার কাছে স্বীকার করেছিলো।’

সালমান শাহর সঙ্গে সামিরা হকের বিয়ে হয় ১৯৯২ সালের ২০ ডিসেম্বর। প্রেমের সম্পর্কের শুরু তারও দুই বছর আগে।

সামিরা বলেন, ‘সালমান আমাকে সঙ্গে নিয়েই শুটিংয়ে যেত। প্রায় প্রতিটি সিনেমায় সালমানের ‘ড্রেস ডিজাইনার’ ছিলাম আমি। ১৯৯৬ সালে বাদল খন্দকারের একটি সিনেমার শুটিংয়ে সালমান ও শাবনূর কক্সবাজারে যায়। সেখানেই সম্পর্কে জড়ায় তারা। ওই বছরের আগস্টে শাবনূরকে নিয়ে সিঙ্গাপুরে যায় সালমান। সেখান থেকে ফিরে সালমান আমাকে বলে, আমি একটা অন্যায় করে ফেলেছি। শাবনূরের সঙ্গে এমন কিছু পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে যে আমাকে ব্ল্যাকমেল করা হতে পারে।’

সামিরা আরো বলেন, ‘এ কথা শুনার পর সালমান আর আমার বিবাহবিচ্ছেদ চাইলাম। কিন্তু সালমান রাজি হলো না। তখন কিছু পত্রপত্রিকায় সালমান শাবনূরকে বিয়ে করতে যাচ্ছে বলে খবর বেরোয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায়, সংবাদ সম্মেলন করে সালমানকে ঘোষণা দিতে হয় আমি তার স্ত্রী।’

সামিরা বলেন, ‘একপর্যায়ে আমি চট্টগ্রামে চলে যাই। চট্টগ্রামে থেকেও আমি খবর পাচ্ছিলাম অসদাচরণের জন্য প্রযোজক-পরিচালক সমিতি থেকে সালমানকে তিরস্কার করা হয়েছে। সালমান কাজে মন বসাতে পারছিলো না। বেশ কিছু অঘটনও ঘটিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ৩ সেপ্টেম্বর সালমানের কাছে ফিরে যাই।’

এসে কী দেখলেন? এমন প্রশ্নে সামিরা বলেন, ‘ইমন (সালমান) কতটা আবেগপ্রবণ ছিল, সেটা কেউ বুঝবে না। ভাববে সিনেমাটিক। কিন্তু আমি ফিরে দেখলাম, রাগ করে চট্টগ্রাম যাওয়ার আগে যেভাবে যা রেখে গেছি, সেভাবেই আছে। ইমন মাটিতে ঘুমোচ্ছে। সঙ্গে আমার একটা টপস।’

সামিরা বলেন, ‘সব ভুলে নতুন করে শুরু করতে চেয়েছিলাম আমি। পরদিন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির পুরস্কার গ্রহণ অনুষ্ঠানেও দুজনে একসঙ্গে যাই। ওই বছর সালমান সেরা চিত্রনায়ক ও শাবনূর সেরা নায়িকার পুরস্কার পেয়েছিলো। তবে শাবনূর ওই অনুষ্ঠানে আসেনি। এর দুদিন পর আত্মহত্যা করে সালমান।’

এই জীবনটায় খাপ খাওয়ালেন কী করে? সামিরা বলেন, ‘কারো প্রতি আমার কোনো রাগ বা ক্ষোভ নেই। শুধু শাবনূর আমার সঙ্গে যা করেছে, সেটা ভুলতে পারি না। একটা সময় আমাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা ছিল। আমিই শাবনূরকে সাজগোজ করতে শিখিয়েছিলাম। আমার একটা টি-শার্ট পরে একটি ছবিতে অভিনয়ও করেছিলো শাবনূর। সেই মেয়েটা কী করে সালমানের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ালো, এ নিয়েই দুঃখ হয় আমার।’

সামিরা হক এখন তিন সন্তানের মা। ’৯৯ সালে দুই পরিবারের সম্মতিতে সামিরা বিয়ে করেন সালমান শাহর বন্ধু মোস্তাক ওয়ায়েজকে।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) গত সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে বলেছে, সালমান আত্মহত্যা করেছেন। নির্ভার লাগছে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে সামিরা বলেন, ‘তদন্তের শুরু থেকে আমি একই কথা বলে আসছি। জানি আমি নির্দোষ। পিবিআই বলার পর হয়তো আরো অনেকে বিশ্বাস করল। নইলে কি আর কাল রাত থেকে সাত শর বেশি বন্ধুত্বের অনুরোধ পেতাম?’

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0699 seconds.