• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১৪:২৮:৩১
  • ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১৪:২৮:৩১
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

অগ্রজ ছাত্রলীগ নেতাকে পেটালেন অনুজ

ছবি : সংগৃহীত

ববি প্রতিনিধি :

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) অগ্রজ ছাত্রলীগ নেতাকে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে অনুজের বিরুদ্ধে। সেই অগ্রজ ছাত্রলীগ নেতা হলেন শাহজালাল ইয়ামিন। তিনি শেরে বাংলা হলের ৪০১৬ নম্বর রুমের আবাসিক ছাত্র এবং ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী। ২৫ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার রাত দশটায় শেরে বাংলা হলে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, শাহজালাল ইয়ামিনকে রাত সাড়ে নয়টায় রুম থেকে ডেকে নিয়ে যায় ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আল সামাদ শান্ত। পরবর্তীতে শাহজালালকে শেরে বাংলা হলের ১০০১ নম্বর রুমে আটকে রেখে শান্তসহ অনেকে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করে। এই কক্ষটি দীর্ঘদিন ধরেই হলের টর্চার সেল হিসেবে ব্যবহৃত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ছাত্রলীগ নামধারী অনেকে কক্ষটি দখল করে নিয়মিত মাদকের আড্ডাসহ বিভিন্ন শিক্ষার্থীকে মারধর করে।

ভুক্তভোগী শাহজালাল জানায়, তিনি ৪০১৬ নম্বর ক‌ক্ষে অবস্থান কর‌ছি‌লেন। এ সময় জরুরি কথা আছে বলে শান্ত তাকে ১০০১ নম্বর রু‌মে নি‌য়ে যায়। রু‌মে ঢোকার পর দরজা বন্ধ ক‌রে দেয়। এরপর তার মুখ বে‌ধে মারধর ও নির্যাতন করা হয় এবং তার মোবাইল কেড়ে নেয়া হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় বর্ষের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী নাওয়ার হক, আযমাইন রাদ ও খালেদ হাসান রুমি ওই রু‌মে উপস্থিত ছিলেন। এ‌দের হা‌তে ছি‌লো রড ও দেশিয় অস্ত্রসস্ত্র।

তিনি আরো জানান, এক সময় তাদের চোখ ফা‌কি দি‌য়ে শাহজালাল দ্রুত দরজার সিটকা‌নি খু‌লে দৌ‌ড়ে পালি‌য়ে গিয়ে ৪০১৪ নম্বর রু‌মে আশ্রয় নেয়। সেখা‌নে গি‌য়েও ধাওয়া ক‌রে আন‌তে চায় অ‌ভিযুক্তরা। কিন্তু ওই রু‌মে থাকা শিক্ষার্থীরা প্র‌তি‌রোধ গ‌ড়ে তুল‌লে অ‌ভিযুক্তরা ব্যর্থ হয়।

ওই হলের আবাসিক ছাত্র আসাদুজ্জামান বলেন, ‘১০০১ নম্বর কক্ষটি আল সামাদ শান্তসহ অনেকে দখল করে থাকে। এর আগেও সেখানে নির্যাতনের অনেক ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু তাদের ভয়ে কেউ কিছু প্রকাশ করেনি। আজ ছাত্রলীগের নেতা লাঞ্ছিত হওয়ায় ঘটনাটি জানাজানি হয়েছে। হল প্রভোস্টের অফিসের মাত্র কয়েক গজের মধ্যে ১০০১ নম্বর কক্ষের অবস্থান। কিন্তু অদৃশ্য কারণে এসব ব্যাপার হল কর্তৃপক্ষ জানতে পারে না।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আল সামাদ শান্ত বলেন, ‘শাহজালাল ইয়ামিন আমাদের রাজনৈতিক বড় ভাই। তাকে কোনো আঘাত করা হয়নি। মঙ্গলবার বিকেলে ক্যাম্পাসে অষ্টম ব্যাচের দুটি গ্রুপের যে সংঘর্ষ হয় সেখানে মদত দেন তিনি। সেই ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি দ্রুত ওই রুম থেকে চলে যান।

অবৈধভাবে কক্ষ দখল করে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে শান্ত বলেন, ‘আমাদের এই রুমে তুলে দিয়েছে শাহজালাল ইয়ামিন, আইন বিভাগের সাখাওয়াত অনু ও নাইম উদ্দিন মিষ্টু। তারা নিয়মিত এ রুমে এসে আমাদের খোঁজ খবর নেন।’

প্রসঙ্গত, রাজনৈতিক আধিপত্যকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে মঙ্গলবার সংঘাতে জড়ায় ছাত্রলীগের নাভিদ ও রাফি গ্রুপ। এ সময় দুজনকে কুপিয়ে জখম করা হয়। এতে দুই গ্রুপের চারজন আহত হয়। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার ও নগরীর শেরে বাংলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হয়। সেই ঘটনার জের ধরেই রাতে শেরে বাংলা হলে এমন ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে প্রভোস্ট ইব্রা‌হিম মোল্লা বলেন, ‘ঘটনাটি প্রক্টরিয়াল বডিকে মৌখিকভাবে জানা‌নো হ‌য়ে‌ছে। ২৬ ফেব্রুয়ারি, বুধবার দুপুরে এ বিষ‌য়ে আলোচনা ক‌রে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য হল কর্তৃপক্ষ সুপারিশ করবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. সুব্রত কুমার দাস বলেন, ‘শেরে বাংলা হলে সিনিয়র - জুনিয়র দ্বন্দ্বের একটি খবর আমি পেয়েছি। রাতেই সেখানে হল প্রভোস্টরা পৌঁছেছে এবং ছাত্রদের নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী হল কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে প্রতিবেদন দিলেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

বাংলা/এনএস

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0205 seconds.