• ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ২২:১৫:০৬
  • ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ২২:১৫:০৬
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

ক্ষমতা দেখিয়ে ছাত্রীদের যৌন হয়রানি করতেন রাবি শিক্ষক

আমিরুল মোমেনীন চৌধুরী। ছবি : সংগৃহীত

রাবি প্রতিনিধি :

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের গ্রাফিক ডিজাইন, কারুশিল্প ও শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক আমিরুল মোমেনীন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানি ও মানসিকভাবে উত্যক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়টির যৌন হয়রানি নিপীড়ন নিরোধ সেলে ভুক্তভোগীরা এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

তবে অভিযুক্ত শিক্ষক বলছেন, তিনি এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে কিছুই জানেন না।

অভিযোগপত্র পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যৌন নিপীড়ন নিরোধ সেলের সদস্য সচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক লায়লা আরজুমান বানু। তিনি বলেন, ‘চারুকলা অনুষদের ছাত্রীদের কাছ থেকে একটি অভিযোগপত্র পেয়েছি। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে।’

এদিকে ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীরা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, ‘আমরা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আমিরুল মোমেনীন চৌধুরী দ্বারা বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানি ও মানসিকভাবে উত্যক্তের শিকার হই। যে কারণে আমরা পড়াশোনা এবং অন্য কোনো কাজেই মনোযোগ দিতে পারছি না।’ 

‘কারণে অকারণে ওই শিক্ষক আমাদেরকে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ ভাষায় মন্তব্য করেন। অফিসে ডেকে বসিয়ে রাখেন। ফ্রি মাইন্ডের কথা বলে নানা রকম ইঙ্গিতপূর্ণ ও অশালীন কথাবার্তা বলেন। অনেক সময় সবার সামনে গায়ে হাত দেন। অন্য নারী শিক্ষকদের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেন।’

এছাড়া অভিযুক্ত শিক্ষক অনুষদের একাধিক ছাত্রীর সামনে তাদের শরীর সম্বন্ধীয় ব্যাপারে ইঙ্গিত করে নানা অশালীন কথাবার্তা বলা ও কোর্সের নম্বরের কথা বার বার উল্লেখ করে শিক্ষকের ক্ষমতা দেখাতেন বলেও অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করেন ভুক্তভোগীরা।

এর আগেও মোমেনীন চৌধুরীর বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রী যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা এবং বিভাগের সভাপতির কাছে মৌখিক অভিযোগ করেন বলে বিভাগ সূত্রে জানা যায়।  

চারুকলার একাধিক ছাত্রী জানান, অধ্যাপক আমিরুলের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অনেক পুরনো। এটা ওনার নিত্যদিনের কর্মকাণ্ড। 

লিখিত অভিযোগের বিষয়টি প্রকাশের পর অভিযুক্ত শিক্ষক এবারের মত ক্ষমা প্রত্যাশা করছেন বলে জানান ছাত্রীরা।

তবে ভুক্তভোগী এক ছাত্রী বলেন, ‘আমি মানসিকভাবে সহ্য করতে না পেরে অভিযোগ করেছি। আমি চাই না ওই শিক্ষক আমাদের সাথে এমন আচরণ করুক। আমি নায্য বিচার চাই।'

ভুক্তোভোগীরা বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ আমরা স্যারের কাছে যৌন হয়রানির শিকার হয়ে আসছি। আমরা স্যারকে দেখলে রীতিমতো ভয়ে থাকি। উনি বিভিন্ন জায়গায় সবার সামনে কুরুচিপূর্ণ কথা বলে হেসে ওঠেন। আবার মাঝে মাঝে আমাদের পোশাক নিয়ে মন্তব্য করেন। 

এ বিষয়ে চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক সিদ্ধার্থ শঙ্কর তালুকদার বলেন, ‘আমি বিষয়টি শুনেছি। তবে বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। বিস্তারিত না জেনে কিছু বলতে পারবো না।

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0229 seconds.