• ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ২১:২২:৪৮
  • ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ২১:২২:৪৮
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

ছাড়পত্র ছাড়া পাহাড় কর্তন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে পরিবেশ অধিদপ্তরের জরিমানা

ছবি: বাংলা

কুবি প্রতিনিধি :

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) অভ্যন্তরে পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া অবৈধভাবে পাহাড় কর্তন করায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ আরো চার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে পনের লক্ষ পচিশ হাজার টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মোহাম্মদ মোয়াজ্জম হোসাইন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।

গত ২৭ ফেব্রুয়ারী পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম কার্যালয়ে শুনানী শেষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাড়া আরো চার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের উপর এ জরিমানা ধার্য করা হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের এ সংক্রান্ত আদেশ সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ব্যতীত পাহাড় কর্তন করায় বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত-২০১০) এর ধারা-৭ এর পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতি সাধনের জন্য কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে তিন লক্ষ পাঁচ হাজার টাকা, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স এ রহমান এন্টারপ্রাইজকে ছিয়াত্তর হাজার দুইশত পঞ্চাশ টাকা, স্টারলাইন সার্ভিসেস লিমিটেডকে তিন লক্ষ একাশি হাজার দুইশত পঞ্চাশ টাকা, মেসার্স আব্দুর রাজ্জাক কে তিন লক্ষ পাঁচ হাজার টাকা এবং জাকির এন্টারপ্রাইজ এন্ড খোকন এন্টারপ্রাইজকে চার লক্ষ সাতান্ন হাজার পাঁচশত টাকা সাত কার্যদিবসের মধ্যে পরিশোধ করার জন্য বলা হয়। এছাড়াও আদেশে পাহাড়কে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য বলা হয় এবং ভবিষ্যত উন্নয়ন কর্মকান্ডের ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তরের পূর্বানুমতি গ্রহণ ও এধরনের অপরাধ না করার জন্য অঙ্গীকারনামা দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য যে, গত ১৭ ফেব্রুয়ারী পরিবেশগত ছাড়পত্র না নিয়ে শিক্ষক ক্লাব কাম গেস্ট হাউস নির্মাণের জন্য পাহাড় কর্তন করায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম কার্যালয়। এর আগেও একই কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনের অনুষ্ঠানের প্যান্ডেল স্থাপনের জন্য পাহাড় কাটায় ০৫ জানুয়ারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় পরিবেশ অধিদপ্তরের কুমিল্লা কার্যালয়।

তারও আগে গত ০২ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের পশ্চিম পাশের পাহাড়ের একটি অংশ মেশিনের সাহায্যে কেটে ফেলা হয়। ওই মাটি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে নির্মাণাধীন সড়কদ্বীপ ও ডরমিটরির নিচু স্থান ভরাট করে প্রশাসন। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ (সংশোধন) আইনের ২০১০-এর ৬-এর ‘খ’ ধারায় বলা হয়েছে ‘কোনো পাহাড় বা টিলা কর্তন বা মোচন করা যাইবে না, তবে অপরিহার্য জাতীয় স্বার্থের প্রয়োজনে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র গ্রহণক্রমে পাহাড় কর্তন করা যাইবে।’ আইনে পাহাড় বা টিলা কাটার জন্য ছাড়পত্রের বিধান থাকলেও পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ছাড়পত্র না নিয়েই একের পর এক পাহাড়-টিলা কাটছিলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এবিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মোহাম্মদ মোয়াজ্জম হোসাইন বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে পাহাড় কর্তনের অভিযোগ এবং তদন্তের প্রেক্ষিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরো চারটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে সর্বমোট পনের লক্ষ পচিশ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পাহাড়গুলো সংরক্ষণের বিষয়ে করণীয় জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. আবু তাহের বলেন, পাহাড়গুলোকে গার্ড ওয়াল দিয়ে এবং পাহাড়ে গাছ লাগিয়ে সংরক্ষণ করা হবে।

বাংলা/এএএ 

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0201 seconds.