• বাংলা ডেস্ক
  • ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ২২:৩১:০২
  • ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ২২:৩১:০২
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

পাপিয়াকাণ্ডের পর নজরদারিতে অর্ধশতাধিত নেত্রী

ফাইল ছবি

মাদক, জালটাকার ব্যবসা, অর্থ পাচার, নারীদের দিয়ে পতিতাবৃত্তি করানোসহ নানা অভিযোগে যুব মহিলা লীগ নেত্রী শামিমা নুর পাপিয়া ওরফে পিউকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর একে একে বেড়িয়ে আসে নানা ধরনের চাঞ্চল্যকর তথ্য। এমতাবস্থায় আওয়ামী লীগের অর্ধশতাধিক নারী নেত্রীকে বিশেষ নজরদারিতে রেখেছে পুলিশ।

এর মধ্যে যুব মহিলা লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগসহ ছাত্রলীগের সাবেক বেশ কয়েকজন নারী নেত্রীও রয়েছেন। যারা দীর্ঘদিন করে সচিবালয় কিংবা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর চষে বেড়িয়েছেন। তদবির বাণিজ্যসহ নানা অপকর্ম করে গড়েছেন বিলাসবহুল বাড়ি ও ব্যাংক ব্যালান্স। রাজধানীর পাঁচ তারকা হোটেলে এবং ঘনঘন বিদেশ যাতায়াত ছিলো এসব নারী নেত্রীর। এমন খবর প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ প্রতিদিন।

ইতোমধ্যে অনেকের ব্যাংক হিসাব খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এমনকি তাদের গ্রামের বাড়িতেও খোঁজখবর নেয়ার কাজ শুরু করেছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

সরকার ও দলটির সূত্রের বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু যুব মহিলা লীগ, ছাত্রলীগের সাবেক নেত্রীই নন, যারা সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী-এমপি ও নেতাদের সঙ্গে সেলফি তোলায় ব্যস্ত তাদের ব্যাপারেও খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। আবার যারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সেলফি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘন ঘন আপডেট করছেন তারাও রয়েছেন নজরদারিতে। গতিবিধি খতিয়ে দেখা হচ্ছে ‘বাজার পড়ে যাওয়া’ মধ্যমসারির সিনেমার নায়িকা ও উঠতি মডেলদেরও। যাদের অধিকাংশকেই এখন সিনেমা, নাটক বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে, তারকা হোটেলগুলোতে দেখা যায়। পাপিয়াদের সঙ্গে তাদেরও যোগসাজশ রয়েছে বলে জানা গেছে।

দলটির সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যে-ই অপরাধে যুক্ত হবে, দলীয় কিংবা যে পরিচয় থাকুক, তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। সরকারের সায় রয়েছে বলেই অপরাধীদের ধরা হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি সরকারের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। সে যে দলেরই হোক।’

পাপিয়াকে গ্রেপ্তারের পর যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আকতার ও সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান। এ সময় সংগঠনের শুদ্ধি অভিযানের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার কাছে অনেক রিপোর্ট আসছে, অনেকের নাম আছে। আমি কাউকে ছাড়ব না। এ ব্যাপারে প্রশাসনের সর্বস্তরে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

সূত্র আরো জানায়, পাপিয়াকান্ডের পর যুব মহিলা লীগের কয়েকজন নেত্রী ও উঠতি নেত্রী বিশেষ করে যারা কিছুদিন আগেও ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের নেত্রী ছিলেন তাদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেত্রীর ব্যাপারেও চাঞ্চল্যকর তথ্য পেতে শুরু করেছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

জানা যায়, রাজধানীতে নারী শিক্ষার ঐতিহ্যবাহী একটি প্রতিষ্ঠানের কমপক্ষে এক ডজন নারী নেত্রীর গতিবিধি নজরদারিতে এনে হঠাৎ বিত্তশালী হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার পর যাদের মেস ভাড়ার টাকার সংকট ছিলো তারা এখন কেউ কেউ কোটি টাকার মালিক। হল বাণিজ্য, বড় ভাইদের কাছে ‘সাপ্লাই’ এবং বিভিন্ন মন্ত্রী ও নেতার কাছে তদবির বাণিজ্য করে টাকার মালিক হয়েছেন। কেউ কেউ গ্রামের বাড়িতে ছনের ঘরের জায়গায় দোতলা/চারতলা বাড়িও করেছেন মাত্র কয়েক বছরেই। এদের অনেকের সঙ্গেই পাপিয়ার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিলো বলে জানা গেছে।

গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, পাপিয়া গ্রেপ্তারের পর রাজনৈতিক পদ-পদবি ব্যবহার করে এমন কতজন নারী রাতারাতি শূন্য থেকে কোটিপতি হয়েছেন- তার খোঁজখবর নেয়া শুরু হয়েছে। এছাড়া অর্ধশত নারী নেত্রীকে বিশেষ নজরে রাখা হচ্ছে। ব্যাংক হিসাবসহ গ্রামের বাড়িতেও খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে যুব মহিলা লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেত্রীর ব্যাপারে কড়া নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তারকা হোটেলগুলোতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

একাধিক সূত্র জানায়, পাপিয়াকান্ড প্রকাশের পর বিব্রত আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। দলীয় অপকর্মকারীদের তালিকা করার পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি দলীয়ভাবেও খোঁজখবর নিতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের এক প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, ‘পাপিয়াকান্ডে নেত্রী চরম বিরক্ত। শুধু পাপিয়া নয়, আরো কত পাপিয়া আছে সেগুলো খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে এদের কারা আশ্রয়-প্রশ্রয় দেন তাও খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। যত বড়ই প্রভাবশালীই হোক জড়িতরা কেউ রেহাই পাবেন না। করুণ পরিণতি ভোগ করতে হবে তাদের।’

প্রসঙ্গত, ২২ ফেব্রুয়ারি নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের নেত্রী পাপিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ২ লাখ টাকা, ইয়াবা, মদ ও জাল মুদ্রা উদ্ধার করা হয়। পরদিন তাকে নিয়ে নরসিংদী ও ঢাকার ফার্মগেটের বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব। অভিযানে ফার্মগেটের বাসা থেকে নগদ ৫৮ লাখ টাকা, অবৈধ পিস্তল ও গুলি, বিদেশি মুদ্রা ও মদ উদ্ধার করা হয়। এরপর সারা দেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

বাংলা/এনএস

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0667 seconds.