• বাংলা ডেস্ক
  • ০৫ মার্চ ২০২০ ১৪:২০:১২
  • ০৫ মার্চ ২০২০ ১৪:২০:১২
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

পাপিয়ার ঘনিষ্ঠদের খোঁজে গোয়েন্দারা

শামিমা নূর পাপিয়া। ছবি : সংগৃহীত

সদ্য গ্রেপ্তারকৃত নরসিংদীর যুব মহিলা লীগের বহিস্কৃত নেত্রী শামিমা নূর পাপিয়ার ঘনিষ্ঠদের খোঁজে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এজন্য গুলশানের পাঁচ তারকা ওয়েস্টিন হোটেলের সিসিটিভির ক্যামেরা ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এছাড়াও পাপিয়ার সঙ্গে দেখা করতে কারা কারা এখানে আসতো তা জানতে এই হোটেলের একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গোয়েন্দারা।

এর আগে পাপিয়া সম্পর্কে তথ্য চেয়ে ওয়েস্টিন হোটেল কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এমন খবর প্রকাশ করেছে সমকাল।

সূত্র জানায়, পাপিয়া পাঁচ তারকা হোটেলেসহ আরো অনেক জায়গায় বিভিন্ন পার্টি দিতেন। সেই পার্টিতে অনেক ভিআইপিরও আসতেন। ওয়েস্টিনের বারে নিয়মিত বিশেষ পার্টির আয়োজনও তিনি করতেন। ফার্মগেট ও নরসিংদীর বাসাতেও প্রায় নিয়মিত ডিজে ও ডিসকো পার্টির আয়োজন হতো। পাপিয়াকে যার আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছেন, তাদের অনেকের সম্পর্কে গোয়েন্দা সংস্থা জেনেছেন। এর মধ্যে কয়েকজনকে দ্রুতই জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলেও জানা গেছে।

এছাড়া ওয়েস্টিন হোটেল কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পাপিয়ার স্যুটে কারা যাতায়াত করা ব্যক্তিদের তালিকা বের করার চেষ্টা চলছে। ওই হোটেলে পাপিয়া কতদিন অবস্থান করেছেন এবং কত টাকা বিল দিয়েছেন তার নথিপত্র চাওয়া হয়েছে। হোটেলে কোনো অসাধু কর্মকর্তা পাপিয়াকে অনৈতিক কাজে সহযোগিতা করার প্রমাণ পেলে তাকে চাকরিচ্যুতি করা ছাড়াও আইনের আওতায় নেয়া হবে।

জানা গেছে, অবৈধ পথে আয় করা অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশেও পাচার করেছেন পাপিয়া। দেশের বাইরে একাধিক দেশের ব্যাংকে তার কয়েক কোটি টাকা জমা আছে বলে জেনেছেন গোয়েন্দারা। তার এসব অর্থের বিষয়ে সিআইডিসহ একাধিক সংস্থা খোঁজখবর নিতে শুরু করেছে। প্রাপ্ত তথ্য যাচাই শেষে তাদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং মামলাও হতে পারে।

পাপিয়া মনে করতেন তাকে কেউ গ্রেপ্তার করার সাহস দেখাবে না। তাই দিনের পর দিন পাঁচ তারকা হোটেলে নির্বিঘ্নে অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে থাকেন। কিন্তু গ্রেপ্তারের আগে তিনি বুঝতে পারেন তার কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি করা হচ্ছে। তাই বিপদে পড়ার আগেই বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।

একজন কর্মকর্তা জানান, পাপিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিলো- এমন অনেকের নামের তালিকা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে। কে বা কারা কি উদ্দেশ্যে এই তালিকা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করছে, সেই বিষয়েও খোঁজ চলছে। এখন পর্যন্ত তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে পাপিয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট ঘনিষ্ঠতার তথ্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে পাপিয়ার ফোনসেটের চ্যাটিং লিস্টে অনেকের নাম পাওয়া যায়। গুরুত্বপূর্ণ কোনো চ্যাটিং কিংবা ভিডিও ডিলিট করা হয়েছে কিনা, তা জানার জন্য তার ফোনসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষাও করা হচ্ছে।

ডিবি ও র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, নরসিংদীর একটি সাধারণ পরিবারে মেয়ে পাপিয়া মাফিয়া ডনের মতো আচরণ করতেন। দ্রুতই কোটি কোটি টাকা ও বিপুল সম্পদের মালিক হন। অভিজাত হোটেলে সুন্দরী তরুণীদের নিয়ে পার্টির আয়োজন ছাড়াও মাদকবাণিজ্য ও জাল টাকার কারবার করতেন। প্রভাবশালীদের মাধ্যমে নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৈধ-অবৈধ গ্যাস সংযোগ এবং লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে চাকরি দিয়ে আসছিলেন তিনি। নিজে নিয়মিত মাদক সেবন করতেন। প্রতারণার ফাঁদ পেতে টাকা আদায়ে অনেককে নির্যাতনও করতেন তিনি।

প্রসঙ্গত, গত ২২ ফেব্রুয়ারি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পাপিয়া ও তার স্বামী সুমন চৌধুরীসহ দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা, ইয়াবা, মদ ও জাল মুদ্রা উদ্ধার করা হয়। পরদিন তাদের নিয়ে নরসিংদী ও ফার্মগেটের বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব। অভিযানে ফার্মগেটের বাসা থেকে ৫৮ লাখ টাকা, অবৈধ পিস্তল ও গুলি, বিদেশি মুদ্রা ও মদ জব্দ করা হয়।

বাংলা/এনএস

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0194 seconds.