• বিদেশ ডেস্ক
  • ০৫ মার্চ ২০২০ ১৮:৫১:৫১
  • ০৫ মার্চ ২০২০ ১৮:৫১:৫১
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

করোনা তাড়াতে ‘গোমূত্র পার্টি’ করবে হিন্দু মহাসভা

চক্রপাণি মহারাজ। ছবি : আনন্দবাজার থেকে নেয়া

ভারতে প্রাণঘাতী করোনাভাইসকে প্রতিরোধ করতে ‘গোমূত্র পার্টি’র আয়োজন করছে হিন্দু মহাসভা। একমাত্র গোমূত্র এবং গোবরই করোনা প্রতিরোধের ‘মহৌষধি’ বলেও দাবি করে সংগঠনটি। এমন সময় সংগঠনটি এ কথা বললো যখন ভারতসহ গোটা বিশ্ব করোনা আতঙ্কে।

হিন্দু মহাসভার সভাপতি চক্রপাণি মহারাজ জানান, দিল্লিতে যাতে করোনার প্রকোপ ব্যাপক হারে ছড়িয়ে না পড়ে, তার জন্যই এই ‘গোমূত্র পার্টি’র আয়োজন। ভারতের সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার এমন খবর প্রকাশ করেছে।

চক্রপাণি মহারাজ বলেন, ‘যেমন আমরা চা-চক্রের আয়োজন করি, তেমনই গোমূত্র পার্টির আয়োজন করছি। সেখানে করোনাভাইরাস কি এবং কি ভাবে গরু থেকে প্রাপ্ত জিনিসপত্র খেয়েই এই ভাইরাসমুক্ত থাকা যায়— সে সব নিয়ে সচেতনতার প্রচার করা হবে।’

পার্টিতে কি থাকবে-এর জবাবে তিনি বলেন, ‘এমন কাউন্টার থাকবে, যেখান থেকে পার্টিতে আসা লোকজনকে খাওয়ার জন্য গোমূত্র দেয়া হবে। পাশাপাশি আমরা গোবরের কেক বা ঘুঁটে, গোবর দিয়ে তৈরি আগরবাতিও রাখবো। এগুলো খেলে বা ব্যবহার করলে করোনাভাইরাস সঙ্গে সঙ্গে মারা যাবে।’

চক্রপাণি মহারাজ জানান, আপাতত দিল্লিতে মহাসভার সদর কার্যালয়ে এই পার্টির আসর বসবে। তার পর সারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তা ছড়িয়ে দেয়া হবে। তাদের এই অভিযানে (করোনা দূর করতে) যারা সমঝোতা করতে চান বা এক সঙ্গে মিলে কাজ করতে চান, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

হিন্দু মহাসভার সভাপতি আরো বলেন, ‘জীব হত্যা মহাপাপ, এই বার্তা আমরা ছড়িয়ে দিতে চাই। করোনাভাইরাস যে জীব হত্যার কারণেই ছড়িয়েছে, সেটা প্রচার করতে চাই। জানি, অনেকেই আমার কথা বিশ্বাস করবে না। কিন্তু ভারতে যে হেতু অধিকাংশই নিরামিষাশী, তাই এখানে এই ভাইরাস ছড়াবে না।’

মহাসভার সভাপতি আরো বলেন, ‘ভারতে এই ভাইরাস এসেছে, কারণ পশুরা সাহায্যের জন্য কাঁদছিল।’

তিনি আরো বলেন, ‘যজ্ঞ অনুষ্ঠানের জন্য ভারতে করোনাভাইরাস শান্ত ছিলো। কিন্তু তেলঙ্গানার অজ্ঞ ও অহঙ্কারী মন্ত্রীরা প্রাণী হত্যা করে এবং যে ভাবে সর্বসমক্ষে মাংস খেয়ে করোনাভাইরাসকে উস্কেছেন, তাতে ভারতেও করোনার ভয়াল রূপ দেখার আশঙ্কা তৈরি হয়ে গিয়েছে। এই মন্ত্রীদের সময় থাকতে থাকতে করোনার কাছে ক্ষমা চেয়ে নেয়া উচিত। না হলে অনর্থ হয়ে যাবে, যা কেউ আটকাতে পারবে না।’

মহারাজ আরো বলেন, ‘নিরামিষভোজীদের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। এতে (করোনা) তাদের সংক্রমণ হবে না। কিন্তু তবু, সাবধানতা হিসেবে তারাও গোমূত্র খাওয়া শুরু করতে পারেন।’

সারাবিশ্বের বিজ্ঞানীরা যেখানে করোনা প্রতিরোধ করতে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। এরপরও একমাত্র সাবধানতা বা সতর্কতা ছাড়া আর কোনো সমাধানই তারা দিতে পারছেন না, সেখানে হিন্দু মহাসভার সভাপতির এমন ঘোষণা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ভারতে। তবে এবারই প্রথম নয়, এর আগেও দেশটির ক্ষমতাসীন দলের নেতা ও মন্ত্রীরা গোমূত্র ও গোবর নিয়ে নানা ধরনের বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন।

বাংলা/এনএস

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0704 seconds.