• বিনোদন ডেস্ক
  • ০৭ মার্চ ২০২০ ১৪:৪১:৫১
  • ০৭ মার্চ ২০২০ ১৪:৪১:৫১
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

চীনা নাগরিকের সাথে বিয়ে হয়েছিলো শাবনূরের, দাবি স্বামীর

শাবনূর। ছবি : সংগৃহীত

স্বামী অনীক মাহমুদের বিরুদ্ধে মাদকাসক্ত ছাড়াও, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করার অভিযোগ তুলে তালাক নোটিশ পাঠিয়েছেন শাবনূর। তবে উল্টো অভিযোগ তুলেছেন অনীক মাহমুদ। অনিক বলেন, ‘একজন চীনা নাগরিকের সঙ্গে শাবনূরের বিয়ে হয়েছিল।’

প্রথম আলো’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে অনীক মাহমুদ বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো দেওয়া হচ্ছে, জবাব দিইনি শুধু আমার সন্তান আইজানের দিকে তাকিয়ে। শাবনূরও আমার সন্তানের মা, এটাও একটা ব্যাপার কাজ করেছে। আমাকে বলা হচ্ছে পর–নারীতে আসক্ত, মাদকাসক্ত। সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব নিইনি—আমি শাবনূরকে চ্যালেঞ্জ করে বলতে চাই, এসবের কোনো প্রমাণ যদি সে দিতে পারে, আমি যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নেব।’

অনীক আরো বলেন, ‘বিয়ের পর জানতে পারি, একজন চীনা নাগরিকের সঙ্গে শাবনূরের বিয়ে হয়েছিল। স্বামী হিসেবে এটা শোনার পর আমি বিস্মিত হই। আড়াই বছর আগে একবার হঠাৎ করে কোনো কথা নেই বার্তা নেই, শরীফ নামের একজন লোকের সঙ্গে শাবনূর মালয়েশিয়া চলে যায়।’

অনীক বলেন, ‘এত কিছুর পরও আমি চুপচাপ ছিলাম। বিভিন্ন মিডিয়া থেকেও আমার কাছে জানতে চেয়েছিল, আমাদের সম্পর্ক ঠিক আছে কি না। আমি কিন্তু বলেছি, উই আর ফাইন। আমার তো সমাজ আছে, সবার সঙ্গে চলতে হয়, আত্মীয়স্বজন আছে, পরিবার আছে, পরিবারকেও সবার সঙ্গে চলতে হয়। সন্তানের দিকে তাকিয়ে তাই কাউকে কিছু বুঝতে দিইনি। এখন আমার বিরুদ্ধে যে ধরনের অভিযোগ করা হচ্ছে, এসব শুনে আমার বাবা অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি।’

অনীকের দাবি, তিনিই শাবনূরকে মদ্যপ অবস্থায় পেয়েছেন। বললেন, ‘একজন মানুষ ও স্বামী হিসেবে এসব তো মেনে নেয়া যায় না। তাই দূরে থেকেছি। শাবনূরকে বাংলাদেশে স্বনামধন্য, জনপ্রিয় এবং অত্যন্ত ভালো মানের অভিনয়শিল্পী হিসেবে শ্রদ্ধা করি। সেভাবেই তার সঙ্গে আমার পরিচয়। আমার সন্তানের মা হিসেবে, আমার সাবেক স্ত্রী হিসেবেও তিনি সম্মানের দাবিদার। কিন্তু তাই বলে আমার সম্পর্কে যা খুশি তা-ই মিডিয়াকে বলবে- এটা তো মানা যায় না!’

অনীক আরা বলেন, ‘আমাকে মাদকাসক্ত বলা হলো। সবার উদ্দেশ্যে বলতে চাই, আমি প্রতিদিন সকাল ছয়টায় ঘুম থেকে উঠি। এরপর দুই-তিন ঘণ্টা জিমে ওয়ার্কআউট করি। অনেক বেশি স্বাস্থ্যসচেতন মানুষ। আমি অনেক বডি বিল্ডিং প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবেও থাকি। একজন স্বাস্থ্যসচেতন মানুষ কীভাবে মাদকাসক্ত, সেটা সবার কাছে জানতে চাই। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি, আমার রক্ত পরীক্ষা করা হোক। যদি মাদকাসক্তের কোনো নমুনা পাওয়া যায়, তাহলে যা শাস্তি প্রাপ্য তা–ই মেনে নেব। শাবনূরের রক্তও পরীক্ষা করা হোক। আমি আসলে এসব মেনে নিতে পারছি না। আমার হাতে কোনো নোটিশ এল না, টেলিভিশন আর পত্রিকায় দেখছি, সন্তানের ভরণপোষণও দিই না! সবার কাছে প্রশ্ন রাখছি, সন্তানের ভরণপোষণ দেওয়ার হিসাব কি আমাকে রাখতে হবে? আমার ছেলে অস্ট্রেলিয়ায় থাকুক কিংবা বাংলাদেশে থাকুক—সব সময় বাবা হিসেবে যাবতীয় দায়িত্ব পালন করেছি। কিন্তু আফসোস, দেড় বছর ধরে সন্তানকে দেখার সুযোগ থেকেও আমি বঞ্চিত।’

শাবনূরের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ জানুয়ারি স্বামী অনীক মাহমুদের কাছে বিচ্ছেদ চেয়ে নোটিশ পাঠিয়েছেন শাবনূর। নোটিশে শাবনূর তার স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বলেছেন, ‘একজন মুসলিম স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর স্বামী যে ব্যবহার করেন, অনীক সেটা করছে না। উল্টো নানাভাবে আমাকে নির্যাতন করে। এসব কারণে আমার জীবনে অশান্তি নেমে এসেছে। চেষ্টা করেও এসব থেকে তাকে ফেরাতে পারিনি। বরং আমার সন্তান এবং আমার ওপর নির্যাতন আরও বাড়তে থাকে। উপরোক্ত কারণগুলোর জন্য মনে হয় তার সঙ্গে আমার আর বসবাস করা সম্ভব নয় এবং আমি কখনো সুখী হতে পারব না। তাই নিজের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ এবং সুন্দর জীবনের জন্য তার সঙ্গে সব সম্পর্ক ছেদ করতে চাই। মুসলিম আইন এবং শরিয়ত মোতাবেক আমি তাকে তালাক দিতে চাই। আজ থেকে সে আমার বৈধ স্বামী নয়, আমিও তার বৈধ স্ত্রী নই।’

এদিকে বিচ্ছেদের নোটিশ এখনো হাতে পাননি বলে জানিয়েছেন অনীক।

জানা গেছে, ২০১১ সালের ৬ ডিসেম্বর অনীক মাহমুদের সঙ্গে আংটি বদল করেন শাবনূর। এরপর ২০১২ সালের ২৮ ডিসেম্বর বিয়ে করেন তাঁরা। ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর আইজান নিহান নামের এক ছেলেসন্তানের মা হন শাবনূর। ছেলেকে নিয়ে তিনি এখন অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন।

সংশ্লিষ্ট বিষয়

শাবনূর

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0214 seconds.