• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ০৭ মার্চ ২০২০ ২২:০৮:২৩
  • ০৭ মার্চ ২০২০ ২২:০৮:২৩
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

সোহাগের ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল

মোহাম্মদ আনিসুর রহমান সোহাগ। ছবি : সংগৃহীত

মোহাম্মদ আনিসুর রহমান সোহাগ। ব্রিটিশ কাউন্সিল অব বাংলাদেশে স্থানীয় ব্যবসায়িক সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন এক যুগ ধরে। এই দীর্ঘ সময়ে বাংলাদেশের ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের শিক্ষা পদ্ধতি নিয়ে বৃহৎ পরিসরে কাজ করছেন। 

এই সফল উদ্যোক্তা ইংলিশ মিডিয়ামে কাজ করতে গিয়ে আরও দুজন শিক্ষানুরাগী ও সফল ব্যবসায়ী খান মোহাম্মদ আকতারুজ্জামান ও গোলাম মোস্তফাকে নিয়ে গড়ে তুলেছেন একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল।

‘এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল’ নামের প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী (সিইও) ও হেড অব স্কুলের দায়িত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ আনিসুর রহমান সোহাগ। অন্য দুজনের মধ্যে খান মোহাম্মদ আকতারুজ্জামান স্কুলটির চেয়ারম্যান এবং গোলাম মোস্তফা পরিচালন (অর্থ) পরিচালক হিসেবে স্কুলটির দায়িত্বে রয়েছেন। তাদের তিনজনের প্রচেষ্টায় এগিয়ে যাচ্ছে এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল।        

২০১৫ সালে শুরু হয় এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের যাত্রা। মাত্র কয়েক বছরে স্কুলটির তিনটি শাখা খোলা হয়েছে। রাজধানীর মোহাম্মদপুরে স্কুলটির প্রধান শাখা। এর বাইরে উত্তরা ও মিরপুরে রয়েছে দুটি শাখা। প্লে থেকে ‘এ’ লেভেল পর্যন্ত এই স্কুলের তিনটি শাখায় শিক্ষার্থী সংখ্যা এখন অন্তত ১ হাজার ৪০০।  

স্কুলটির প্রতিষ্ঠা ও অগ্রযাত্রা সম্পর্কে মোহাম্মদ আনিসুর রহমান সোহাগ জানান, ২০০৮ সালে তিনি যুক্ত হন ব্রিটিশ কাউন্সিলের সঙ্গে। দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশে স্থানীয় ব্যবসায়িক সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন।  

মোহাম্মদ আনিসুর রহমান সোহাগ বলেন, ‘বাংলাদেশে যতগুলো ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে ব্রিটিশ কাউন্সিল কাজ করে, সেই প্রতিষ্ঠানগুলোর সব স্কুল এক্সাম, প্রফেশনাল এক্সাম, আইইএলটিএসসহ সব ধরনের লজিস্টিক ও ভ্যেনু ম্যানেজম্যান্ট নিয়ে আমি কাজ করি। এই কাজ করতে গিয়ে ইংরেজি মিডিয়াম স্কুলের সিস্টেম সম্পর্কে আমার বৃহৎ একটা অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছে। কীভাবে একটা স্কুলের উন্নয়ন করা যায়, কীভাবে করা উচিত, কোন জায়গায় কাজ করলে দ্রুত শিক্ষার মান বৃদ্ধি করা সম্ভব; এসব দক্ষতা গড়ে উঠেছে। ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের অভিজ্ঞতা থেকেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল। অল্প সময়েই স্কুলটি অনেক সুনাম নিয়ে এসেছে।’

এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের এগিয়ে চলা

সুন্দর পরিবেশে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে প্রতিষ্টানটি। এই স্কুলে দীর্ঘমেয়াদী ও স্বল্পমেয়াদী কোর্সে শিক্ষা দেওয়া হয়ে থাকে। শিশুদের দক্ষতা বাড়াতে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সমঝোতা স্মারক রয়েছে সিঙ্গাপুর, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে। এর মাধ্যমে এসব দেশের স্কুলের সঙ্গে শিক্ষার মান নিয়ে নিয়মিত যোগাযোগ করে স্কুলটি।

মোহাম্মদ আনিসুর রহমান সোহাগের দক্ষ পরিচালনায় ২০১৮ সালে ‘বেস্ট প্রি-স্কুল অব দ্যা ইয়ার’ হিসেবে মনোনিত হয় এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল। একই বছর দুবাই থেকে ‘বেস্ট স্কুল চেইন অব দি ইয়ার’ হিসেবে আন্তর্জাতিক স্কুল অ্যায়ার্ড পায় এই প্রতিষ্ঠানটি। অস্ট্রেলিয়ার মোনাস বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের একমাত্র এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই স্কুল থেকে ‘ও’ লেভেল (এসএসসি পর্যায়) পর্যন্ত পড়ে বিশ্ব র্যাংেকিংয়ে ৫৯ নম্বরের মধ্যে থাকা মোনাস বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পায় শিক্ষার্থীরা। সে ক্ষেত্রে তাদের সেখানে গিয়ে একটি কোর্স শেষ করে ব্যাচেলর করতে হয়। এই প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে কাজ করে ‘আই ক্যান রিড’ নামের সিঙ্গাপুর ভিত্তিক স্বনামধন্য একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অল্প সময়ে এবং আনন্দ সহকারে সঠিক ইংরেজি কীভাবে বলা যায় এবং বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত এই প্রক্রিয়াটি নিয়ে কাজ করে প্রতিষ্ঠানটি। 

বাংলাতেও দক্ষ এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষার্থীরা

স্কুলটির সিইও মোহাম্মদ আনিসুর রহমান সোহাগ বলেন, ‘দেশে যতগুলো জনপ্রিয় অলিম্পিয়াড হয়েছে, যেমন বাংলা অলিম্পিয়াড, গণিত অলিম্পিয়াড, ইংলিশ অলিম্পিয়াড। এগুলোতে আমাদের স্কুলের শিক্ষার্থীরা অনেক ভালো ফল করেছে। ইংরেজি মিডিয়ামের শিক্ষার্থীরা যে বাংলায় ভালো করতে পারে, আমাদের স্কুলের শিক্ষার্থীরা সেটা পেরেছে। এ ছাড়া দেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে তাদের সম্যক ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করি।’

মোহাম্মদ আনিসুর রহমান আরো বলেন, ‘গত জানুয়ারিতে আমাদের প্রথম ব্যাচ ‘ও’ লেভেল দিয়েছে। ওই ব্যাচে আমাদের পরীক্ষার্থীরা বিশ্বের সর্বোচ্চ স্কোর অর্থাৎ ৯/৯ নিয়ে শতভাগ পাস করেছে এবং সর্বোচ্চ নম্বর নিয়ে পাস করেছে। বাংলাদেশে আমি বলতে পারি, একমাত্রা আমাদের স্কুল যেখানে প্রথম ব্যাচ শতভাগ পাস করেছে সর্বোচ্চ নম্বর নিয়ে।’

এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষার্থীরা পায় ধর্মীয় শিক্ষাও

বাংলা-ইংরেজির পাশাপাশি এই প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীদের ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে জ্ঞান দেওয়া হয়ে থাকে। কোরআন-হাদিস সম্পর্কে এই স্কুলটির শিক্ষার্থী ধারণা পায়। একই সঙ্গে নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে এবং সুন্দর আচরণ সম্পর্কে এখানে শিক্ষা দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের জন্য হিফজুল কুরআন শিক্ষা ব্যবস্থা এবং এই বিভাগ প্রতি বছর আয়োজন করে ‘হিফজ কনভোকেশন ও কিরাত কম্পিটিশন’ নামের একটি অনুষ্ঠান। এর মাধ্যমে সব হাফেজ বা হাফেজা এবং প্রতিযোগিতায় যারা ভালো করে তাদের পুরস্কার এবং সনদ প্রদান করা হয়।

ইউটিউবে ‘সবার জন্য শিক্ষা’ কার্যক্রম চালাচ্ছে স্কুলটি

এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের সিইও বলেন, ‘ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের শিক্ষার্থীদের একাডেমিক দক্ষতা বাড়াতে এবং বাচ্চারা কীভাবে বেশি নম্বর পেতে পারে, সেই টিপস নিয়ে আমরা নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের ভিডিও তৈরি করছি।তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন প্যারেন্টিং এবং তারবিয়াহ এর ওপর ভিডিও।  সেগুলো এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ইউটিউব চ্যানেলে আপ করা হচ্ছে। সেখান থেকে ভিডিও দেখে অনেকেই উপকৃত হচ্ছে। ভিডিও দেখার পর আমাদের কাছে অনেকেই ফোন করছে।’

সফল উদ্যোক্তা মোহাম্মদ আনিসুর রহমান সোহাগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে মানবসম্পদে স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন তিনি। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা, গবেষক, পাবলিক স্পিকার ও লেখক। এই সফল উদ্যোক্তার এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলটির সুনাম দেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বেশ সুনাম কুড়িয়েছে।

শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ও বাচ্চাদের সঙ্গে বাবা-মায়ের ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত এসবের ওপর তার লেখা ও সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে অন্তত ৪৮টি বই। প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান পিলার্স পাবলিকেশন্সের তিনি সহপ্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। 

দেশের বাইরে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে কথা বলেছেন তিনি। দুবাইয়ের অ্যামিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানে তিনি একজন আন্তর্জাতিক বক্তা ছিলেন। 

মোহাম্মদ আনিসুর রহমান সোহাগ ২০১৯ সালে অন্তর্জাতিক বক্তা হিসেবে অংশ নেন মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্ব শিক্ষা সম্মেলনে। একই বছর তিনি যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডুকেশন লিডারস কনফারেন্সে যোগ দেন। সেখানে তিনি বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও লক্ষ্য নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। 

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0233 seconds.