• ০৯ মার্চ ২০২০ ১৫:২৪:০৮
  • ০৯ মার্চ ২০২০ ১৫:২৪:০৮
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

রাবি : ফেল করেও মা-বাবার জোরেই তারা ভর্তি

ছবি : সংগৃহীত

রাবি প্রতিনিধি :

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় ন্যূনতম পাশ নম্বর তুলতে না পারলেও ৪৩ জন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। ভর্তি হওয়া সব শিক্ষার্থীই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সন্তান বলে জানা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্যের সিদ্ধান্তেই পোষ্য কোটায় তাদের ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় বলে জানান মানবিক (এ) ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কমিটির প্রধান অধ্যাপক ড. মো. আহসান কবির।

অধ্যাপক কবির বলেন, ‘এটা তো বরাবরই হয়ে আসছে। এটা ভর্তি পরীক্ষার মূল কমিটিতে উপাচার্য স্যারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হয়েছে। আমাদের আসন সংখ্যার শতকরা ৫ ভাগ পোষ্য কোটায় পূরণ করা হয়। এবারে ফল প্রকাশের পর দেখা যায় ওই পরিমাণ আসন সংখ্যার বিপরীতে থাকা শিক্ষার্থীরা পাশ নম্বর তুলতে পারেনি। পরে আসন শূন্য থাকার পরিপ্রেক্ষিতে আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এখানে অনিয়মের কিছু হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২১ ও ২২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ভর্তি পরীক্ষায় ৩ ইউনিটে মোট ৪ হাজার ৭১৩ আসনের বিপরীতে ৭৮ হাজার ৯০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। ১০০ নম্বরের এ পরীক্ষায় ন্যূনতম পাশ নম্বর ছিল ৪০। নিয়ম অনুযায়ী পাশ নম্বর পাওয়ার পরই পোষ্য কোটা কার্যকর হওয়ার কথা। তবে চলতি শিক্ষাবর্ষে পোষ্য কোটায় ন্যূনতম ৩০ প্রাপ্ত ৪৩ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন বিভাগে ভর্তির সুযোগ দেয়া হয়েছে।

৩০ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে পোষ্য কোটায় ভর্তির সাক্ষাৎকার সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। মানবিক ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কমিটির প্রধান অধ্যাপক ড. মো. আহসান কবির স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় পোষ্য কোটায় ৪০ এর কম এবং ন্যূনতম ৩০ নম্বর প্রাপ্ত পরীক্ষার্থীদের ৩০ ডিসেম্বর থেকে পহেলা জানুয়ারির মধ্যে অনলাইনে ভর্তির বিভাগ পছন্দক্রম দিতে বলা হয়। ২ জানুয়ারি তাদের ভর্তির সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়েছে।     

কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তকে চরম অনিয়ম বলছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. আকতার বানু। তিনি বলছেন, ‘এটা চরম অন্যায় কাজ। এটা মেনে নেয়া যায় না। এ ররকম হলে ভর্তি পরীক্ষার দরকার কী? তাদের এমনিতেই ভর্তি করা হোক। যারা এ কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন তাদের শাস্তি হওয়া উচিত’ বলেও মনে করেন তিনি।

এদিকে মানবিক ইউনিট প্রধান বিষয়টিকে স্বাভাবিক দাবি করলেও বিজ্ঞান (সি) ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা কমিটির প্রধান ড. মো.এক্রামুল হামিদ হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে মেধাবীদের মূল্যায়নের জায়গা বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু কোটার নামে উচ্চ শিক্ষার এই প্রতিষ্ঠানে ফেল করা শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা উচিত হয়নি। এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য দুঃখজনক।’

কেন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ তা জানতে উপাচার্য ড. আব্দুস সোবহানের সঙ্গে একাধিকবার  যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। পরে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।

এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা গণমাধ্যমকে বলেন, সিট খালি দেখে তারা মনে করেছেন যে  নম্বর (পোষ্য কোটাধারীদের প্রাপ্ত নম্বর) আরেকটু শিথিল করা যায়। ভর্তি পরীক্ষা কমিটি সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0863 seconds.