• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ০৯ মার্চ ২০২০ ২১:২৫:৫৪
  • ০৯ মার্চ ২০২০ ২১:২৫:৫৪
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে হত্যা, ৩০ লাখে রাজি হন বাবা-মা

ইলমা। ছবি : সংগৃহীত

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়া মেয়েকে হত্যার অনুমতি দিয়েছিলেন বাবা। ৯ মার্চ, সোমবার নরসিংদীর বাহেরচরে চাঞ্চল্যকর ইলমা হত্যাকাণ্ডের পলাতক আসামি মাসুম মিয়াকে গ্রেপ্তারের পর এক সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্য জানায় সিআইডি।

২০১৫ সালের ২৭ মার্চ বাহেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী ইলমা খুন হন। এ ঘটনায় বাদী হয়ে ইলমার বাবা আবদুল মোতালেব সেই সময় নরসিংদী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) উপমহাপরিদর্শক (সংঘবদ্ধ অপরাধ বিভাগ) ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘ইলমা তার বাবার লোভের বলি হয়েছে। বাহের চরে শাহজাহান ভূঁইয়া ও সাবেক মেম্বার বাচ্চুর নেতৃত্বে দুটি দলের প্রভাব বিস্তার সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব ছিলো। শাহজাহানের লোকজন প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করতে শিশু হত্যার পরিকল্পনা করেন। এর বিনিময়ে তিনি ইলমার বাবা আবদুল মোতালেবকে ৩০ লাখ টাকা দেয়ারও প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। আর টাকার লোভে ইলমার বাবা মেয়েকে হত্যার অনুমতি দেন। এ পর্যন্ত ইলমার বাবা চারলাখ টাকাও পেয়েছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি মাসুম মিয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এই হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন। মাসুম শিশু ইলমার ফুপাতো ভাই।’

সিআইডি’র এই উপমহাপরিদর্শক আরো জানান, সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার সৈয়দা জান্নাত আরার নেতৃত্বে একটি দল নরসিংদীর মাধবদী থেকে ইলমার বাবা আবদুল মোতালিব, ফুপাত ভাই মাসুম মিয়া, গ্রুপ লিডার শাহজাহান ভূঁইয়া, মা মঙ্গলী বেগম ও মো. বাতেন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেন। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার পর মাসুম মিয়াকে কারাগারে পাঠান আদালত।

জিজ্ঞাসাবাদে মাসুমের জবাবের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ইলমাকে হত্যার পরিকল্পনা হয় ২০১৫ সালের ১ মার্চ। ওই রাতে যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় সেখানে ১৩ জন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুসারে ইলমার বাবাকে সন্তানের বিনিময়ে ৩০ লাখ টাকার টোপ দেয়া হয়। ওতেই রাজি হয়ে যান তিনি। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৫ সালের ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় ইলমার দুলাভাই বাবুল বাড়ির পাশে নূরার দোকান থেকে তাকে জিনিসপত্র কিনতে পাঠান। বাড়ি ফেরার পথে বাবুল ও ফুপাতো ভাই মাসুমের নেতৃত্বে সাত-আট জন তাকে তুলে নিয়ে যায়। পরে ইট ও মুগুর দিয়ে মাথা থেঁতলে ও গলা টিপে তাকে হত্যা করা হয়। এ সময় ইলমার বাবা পাশেই দাঁড়িয়েছিলেন। ’

সিআইডি আরো জানায়, এই পরিকল্পনা সম্পর্কে ইলমার মা ও জানতেন। মাসুম বলেন, ইলমা হত্যাকাণ্ডের মূল আসামিদের বাদ দিয়ে বাবা মোতালিব বাদী হয়ে বিরোধী পক্ষ ‘বাচ্চু’ গ্রুপের বিলকিস, খোরশেদ, নাসুসহ অজ্ঞাত চার-পাঁচ জনের বিরুদ্ধে নরসিংদী সদর মডেল থানায় ওই বছরের ৩১ মার্চ হত্যা মামলা দায়ের করেন। ইলমার বাবা হত্যাকাণ্ডের আগে টাকা দাবি করেছিলেন। পরে ওই টাকা পুরো পাননি।

শুধুমাত্র মাসুম মিয়ার জবানবন্দির ভিত্তিতে সন্তান হত্যার দায় বাবা–মায়ের ওপর চাপানো কতটা যৌক্তিক হচ্ছে- এর জবাবে ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘ইলমার বাবা–মা মূল আসামির নাম এজাহারে উল্লেখই করেননি। এমনকি তদন্ত করার সময় ইলমার বাবা একেকবার একেকজনের নাম এজাহারভুক্ত করার আবদার নিয়ে এসেছেন। সন্তান হত্যার বিচার না চেয়ে, তিনি বারবার আসামির নাম বদলানোর অনুরোধ নিয়ে পুলিশের কাছে এসেছেন। এছাড়া ইলমার সুরতহাল প্রতিবেদনে যেখানে যেখানে আঘাতের কথা বলা হয়েছে, মাসুম ঠিক সে জায়গাগুলোরই উল্লেখ করেছেন।’

তদন্তে জানা গেছে, নরসিংদী থানার বাহেরচরে শাহজাহান ভূঁইয়া ও সাবেক মেম্বার বাচ্চুর নেতৃত্বে দুটি দলের মধ্যে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিলো। এর মধ্যে শাহজাহান গ্রুপের সদস্য ও ইলমার ফুফাতো ভাই মাসুমের সঙ্গে বাচ্চুপক্ষের সদস্য তোফাজ্জলের মেয়ে তানিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। এরপর বিয়ে করার জন্য তানিয়াকে নেয়া হয় মাসুমের ভাইয়ের শ্বশুরবাড়িতে। পরে তানিয়ার বাবা দলবল নিয়ে গিয়ে তানিয়াকে বাড়ি ফিরিয়ে আনেন।

ওই ঘটনার পর তানিয়ার বাবা বাদী হয়ে মাসুম, তার ভাই খসরু ও ভাইয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে নরসিংদী সদর মডেল থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। এরপর দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছালে বাচ্চু গ্রুপের সদস্যদের ক্ষতি করতে শাহজাহানের অনুসারীরা ইলমাকে খুনের পরিকল্পনা করা হয়।

বাংলা/এনএস

সংশ্লিষ্ট বিষয়

ইলামা হত্যা নরসিংদী

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0185 seconds.