• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ১০ মার্চ ২০২০ ২১:০৩:০৭
  • ১০ মার্চ ২০২০ ২১:০৪:০৭
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

এসিড মারার হুমকি প্রজন্ম লীগ নেতার, ভয়ে স্কুল বন্ধ ছাত্রীর

ছবি : সংগৃহীত

বরগুনার ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে এসিড দিয়ে ঝলসে দেয়ার হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী প্রজন্ম লীগ নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত সৈকত প্রজন্ম লীগের পাথরঘাটা পৌর শাখার সভাপতি ও কিশোর গ্যাংয়ের প্রধান। প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তিনি ওই ছাত্রীকে এই হুমকি দেন।

১০ মার্চ, মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পাথরঘাটা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত ওসি) মো. সাইদ আহমেদ।

ভুক্তভোগী উপজেলার এনআই খান রেসিডেন্সিয়াল পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। এ ঘটনার পর থেকে তার বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করা হয়।

এছাড়াও এই ঘটনার প্রতিবাদ করায় ওই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র মো. কাইফি ও মো. ইমনকে একাধিকবার মারধর করে এবং হাত কেটে ফেলার হুমকি দেয় কিশোর গ্যাংয়ের বেল্লাল, সৈকত ও রুবেল ওরফে কালা রুবেল।

জানা গেছে, গত শনিবার বিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় ওই ছাত্রীকে সর্বশেষ প্রেমের প্রস্তাবে রাজি হওয়ার জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়ে এ হুমকি দেয় ওই বখাটেরা। এরপর থেকেই বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দেন ওই ছাত্রী।

এ বিষয়ে ওসি মো. সাইদ আহমেদ জানান, বখাটেদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বিদ্যালয়ে উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জবানবন্দি নেয়া হয়েছে। ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে ওই ছাত্রীকে না পেয়ে তার বাড়িতে গিয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য সাহস দেয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপত্তা দেয়ার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

তিনি আরো জানান, বিদ্যালয় থেকে আমাদের এতদিন জানানো হয়নি। এ রকমের অপরাধ করলে আইনের ফাঁক দিয়ে এড়াতে পারবে না।

প্রধান শিক্ষক মো. ইব্রাহিম খলিল জানান, কয়েকদিন আগে বিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্রীকে ইভটিজিং করে সৈকত, রুবেল ওরফে কালা রুবেলসহ একাধিক বখাটে। বিষয়টি ছাত্রীরা আমাদের জানায় এবং এর প্রতিবাদ করলে বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র মো. কাইফি ও ইমনকে মারধর করে।

প্রধান শিক্ষক আরো জানান, বখাটেদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই অনেক ছাত্রী ইভটিজিংয়ের অভিযোগ এনে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। আমরা মঙ্গলবার পাথরঘাটা থানায় লিখিত দিয়েছি। শিক্ষার্থীরা তো দূরের কথা আমরা শিক্ষকরাই নিরাপত্তাহীনতায় আছি।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, সৈকত ও রুবেল ওরফে কালা রুবেল কিশোর গ্যাংয়ের প্রধান। এরা সংঘবদ্ধ কিশোর গ্যাং। তারা এলাকায় ৮ থেকে ১০ জন সব সময় একসঙ্গে বখাটেপনা করে এবং নেশায় আসক্ত। কয়েকদিন আগে সৈকত মাদক মামলায় জেল থেকে জামিনে বের হয়। জামিনে বের হয়েই মিনারা বেগম নামে এক নারীকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। বর্তমানে তিনি পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা গোলাম কবির বলেন, ‘বিষয়টি আমরা আগে থেকেই জানি। ওদের জালায় এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। ওদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

বাংলা/এনএস

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0214 seconds.