• বাংলা ডেস্ক
  • ১২ মার্চ ২০২০ ১৪:৫৫:৫৩
  • ১২ মার্চ ২০২০ ১৪:৫৫:৫৩
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ব্যাংক কর্মকর্তার অভিনব প্রতারণা

ফাইল ছবি

সই জাল করে তিনব্যক্তির নামে খুলেছেন তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট। সাথে সাথে তুলে নেন চেক বইও। তারপর জাল সই দিয়ে এক কোটি ১৭ লাখ টাকার তিনটি চেক নিজের কর্মস্থলের ব্যাংক শাখায় জমা দেন। পরে সেগুলো ডিজঅনারও করিয়ে নেন।

ডিজঅনার সেই চেক দিয়ে নিজে বাদী হয়ে করেন চেক প্রতারণা মামলা। মামলা আসামি করা হয় নিরপরাধ এক ব্যক্তিকে।

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে অবিশ্বাস্য এ প্রতারণা করেছেন সাউথইস্ট ব্যাংকের চট্টগ্রামের অক্সিজেন শাখার সাবেক সিনিয়র অফিসার নাসির উদ্দিন। সঙ্গী ছিলেন তার ভাতিজা মো. কামরুজ্জামান। তবে উল্টো ফেঁসে গেছেন ব্যাংক কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন। ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে দিয়েও রক্ষা পাননি।

সমকাল’এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনা ফাঁসের পর ভুক্তভোগী গোলাম মোতুর্জা চট্টগ্রাম আদালতে জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলা করেন। এরপর ব্যাংক কর্মকর্তা ও তার ভাতিজাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়।

সাউথইস্ট ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক আলাউদ্দীন মাহমুদ আলভী বলেন, অভিযুক্ত নাসির উদ্দিন সাইথইস্ট ব্যাংকে চাকরির সময় সেলস বিভাগের এক কর্মকর্তার সরলতা ও বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলতে এ জালিয়াতির আশ্রয় নেন। আত্মীয়দের কথা বলে তিনি এ অনিয়ম করেন। বিষয়টি ধরা পড়ার পর ওই ব্যাংকার নিজেই চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। এসব অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রতারণার শিকার গোলাম মোতুর্জা জানান, অ্যাকাউন্ট খোলা তো দূরের কথা তিনি কখনো সাইথইস্ট ব্যাংকের অক্সিজেন শাখায় যাননি। চেক ডিজঅনার মামলার পর বিষয়টি জানতে পারেন।

কেন এ জালিয়াতি

নগরীর হালিশহরের বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় রাস্তার জায়গা নিয়ে ব্যাংকার নাসির উদ্দিনের সঙ্গে একই এলাকার বাসিন্দা গোলাম মোতুর্জার বিরোধ ছিল। সেটির জের ধরে গোলাম মোতুর্জা ও তার স্ত্রী আনোয়ারা বেগমকে হয়রানি করতে অভিনব এ প্রতারণার ঘটনা সাজানো হয় বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে একই এলাকার আরেক বাসিন্দা হোসেন আহম্মদ চৌধুরীর কাছ থেকে ১৮ লাখ টাকা ধার নিয়েছিলেন নাসির উদ্দিন। এই টাকা আত্মসাৎ করতে তার নামে ভুয়া অ্যাকাউন্ট করতে জালিয়াতির আশ্রয় নেন ব্যাংকার বলে মনে করেন হোসেন আহম্মদ।

একাই খোলেন অ্যাকাউন্ট

গোলাম মোর্তুজা, তার স্ত্রী আনোয়ারা বেগম ও মোহাম্মদ হোসেন চৌধুরী নামে অন্য এক ব্যক্তির নামে ব্যাংকার নাসির তার কর্মস্থল অক্সিজেন শাখায় ২০১৯ সালের এপ্রিলের দিকে এসব অ্যাকাউন্ট খোলার ব্যবস্থা করেন। ২৬ এপ্রিল গোলাম মোর্তুজার নামে খোলা সঞ্চয়ী অ্যাকাউন্টের (০০১২১০০০০৭১৭০) বিপরীতে ইস্যু করা চেক বই ব্যবহার করে ১২ লাখ ও ৮২ লাখ টাকার দুটি চেক ১ সেপ্টেম্বর অক্সিজেন শাখায় জমা দেন। ওই ব্যাংকার সেগুলো জিডঅনারও করিয়ে নেন। একইভাবে ৫ সেপ্টেম্বর ২১ লাখ টাকার আরেকটি চেক ডিজঅনার করানো হয়। পরে গোলাম মোর্তজার বিরুদ্ধে নিজে বাদী হয়ে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে চেক ডিজঅনারের মামলা করেন ব্যাংকার নাসির। একই ভাবে মোর্তুজার স্ত্রী আনোয়ারা ও মোহাম্মদ হোসেনের বিরুদ্ধে চেক প্রতারণা মামলা করেন। এর পরই ভুয়া অ্যাকাউন্টের বিষয়গুলো সামনে আসে।

২০১৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদ হোসেন চৌধুরী তার নামে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খোলার বিষয়টি ব্যাংকের মাধ্যমে নিশ্চিত হন। এরপর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নিজস্ব অনুসন্ধান চালিয়ে অসঙ্গতি ও জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত হন। এরপর ২০১৯ সালের ২৬ ডিসেম্বর শাখা ব্যবস্থাপক আলাউদ্দীন মাহমুদ আলভী সিনিয়র অফিসার নাসির উদ্দিনকে চিঠিতে প্রতারণার বিষয়টি উল্লেখ করে চেক বই ফেরত দিতে বলেন।
ব্যাংক তদন্তকালে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্নেষণ করে দেখা যায় ব্যাংকার নাসির ও তার সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তি এসব অ্যাকাউন্টের বিপরীতে লেনদেন করেন। তিনি নিজেই টাকা জমা দেন ও তোলেন। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, যা ব্যাংকের কাছে স্বচ্ছ ও স্বাভাবিক ঘটনা মনে হয়নি।

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0207 seconds.