• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ১৩ মার্চ ২০২০ ২১:০২:৪৩
  • ১৩ মার্চ ২০২০ ২১:০৪:৫০
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

‘সাংবাদিকদের চাটুকারিতায় পেশাদার চাটুকাররাও লজ্জা পায়’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি

সাংবাদিকতায় চাটুকারিতা এমন পর্যায়ে গেছে যে পেশাদার চাটুকাররাও লজ্জা পায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ১৩ মার্চ, শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

এ সময় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সংবাদপত্র এখন সংবাদকর্মীদের হাতে নেই, ব্যবসায়ীদের হাতে চলে গেছে। নিজেদের ব্যবসা রক্ষার জন্য সরকারের বাইরে যাওয়ার কোনো উপায় তাদের নেই। যে কারণে আমরা সেলফ সেন্সরশিপ দেখছি। সম্পাদক সাহেব নিজেই বলেন যে, এটা নেয়া যাবে না, দেয়া যাবে না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আমরা দেখছি, চাটুকারিতা এমন এক পর্যায় চলে গেছে বাংলাদেশে দেখবেন যে, প্রফেশনাল চাটুকার যারা আছে তারাও লজ্জা পায়। দিজ আর ফ্যাক্ট।’

তিনি আরো বলেন, ‘দুই-একজন সাংবাদিক নেতা তারা এখন অনেক ওপরে উঠে গেছেন বিত্তের দিক থেকে।’

সাংবাদিকদের নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনারা (সাংবাদিকেরা) আরো ভালো জানেন, কীভাবে একেকটি আইন তৈরি করে আপনারা (সাংবাদিকেরা) যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যান, যেন সরকারের বিরুদ্ধে কিছু লিখতে না পারেন তার ব্যবস্থা তারা করেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ সাংবাদিকদের সবসময় শ্রদ্ধার চোখে দেখে। ভাষার জন্য আন্দোলনে, গণতান্ত্রিক ও স্বাধীনতার লড়াইয়ে সাংবাদিকদের ভূমিকা ছিল অভূতপূর্ব। আজ অনেক সাংবাদিক বলেন- আমাদের কি সাংবাদিকতা ছেড়ে দিতে হবে! তারা ভাবছেন যারা সাংবাদিক হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার চেষ্টা করছে তারা মনে হয় ভুল করেছে। কারণ এখানে জীবন ও আর্থিক নিরাপত্তা নেই। সর্বোপরি লেখা ছাপা হবার পর মামলা হবে নাকি গুম হয়ে যেতে হবে- তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই।’

দেশে গণতন্ত্র নেই উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এখন দেশে গণতন্ত্র নেই। একনায়কতন্ত্র ফ্যাসিবাদ দেশকে দখল করে আছে। আমরা যদি ভারতবর্ষের দিকে তাকাই, বলা হতো সেখানে গণতান্ত্রিক প্রাকটিস আছে। সেখানেও এখন দেখা যাচ্ছে সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, বিভিন্ন চ্যানেল বন্ধ করা হচ্ছে, কথা বলতে দেয়া হচ্ছে না। সারা পৃথিবীর দিকে তাকালে গত এক দশকে গোটা পৃথিবীতে কর্তৃত্ববাদী সরকার এসেছে। ফলে গণতান্ত্রিক পরিবেশ আমরা হারিয়েছি।’

এ সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে গণতন্ত্রকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের দলের চেয়ারপারসন দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সারাজীবন গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন। তার মত ত্যাগ কেউ করেনি। সেই গণতন্ত্রের নেত্রীকে মুক্তি দেয়া হচ্ছে না, যেন এ সরকার তাদের অপকর্ম চালিয়ে যেতে পারে। আপনারা দেখেছেন বিচার বিভাগে কিভাবে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। যেদিন সিনহা সাহেবকে বন্দুকের মুখে দেশত্যাগে বাধ্য করা হলো সে দিন জুডিশিয়ারি শেষ। আপনারা দেখেছেন তারেক রহমানের মামলায় যে জাজ তাকে খালাস দিয়েছেন তাকে দেশত্যাগ করতে হয়েছে। পিরোজপুরে দেখেছেন কিভাবে সরকারি দলের একজন নেতাকে জামিন না দেয়ার কারণে একজন জাজকে বদলি হতে হয়েছে তাৎক্ষণিকভাবে এবং ওই নেতাকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মুক্তি দেয়া হয়েছে।’

মির্জা ফখরুল আরো বলেন, ‘জনগণের লড়াই-সংগ্রামে সাংবাদিকরা সবসময় সামনের কাতারে ছিলেন। আমরা তাদের দেখে অনুপ্রাণিত হই। এখানে বলা হয়েছে ৩৮ জন সাংবাদিক গুম হয়েছেন। চাকুরির নিশ্চয়তা নেই। সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিচার বছরের পর বছর ঝুলে আছে। বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে সাংবাদিক ছাঁটাই হচ্ছে। সাংবাদিকরা কাজ করতে পারছে না। অথচ দেখছি দু-একজন সাংবাদিক নেতা বহু উপরে উঠে গেছেন। এটাই বাস্তবতা।’

করোনাভাইরাস নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে, আমাদের মতো জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এটা ছড়িয়ে পড়া-এটা মারাত্মক মহামারি শুরু হয়েছে। সচেতনতার মধ্য দিয়ে এটাকে প্রতিরোধ করতে হবে।’

সভার সভাপতিত্ব করেন ডিইউজে একাংশের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী। এতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদসহ আরো উপস্থিত ছিলেন- বিএফইউজে একাংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, সাবেক মহাসচিব এমএ আজিজ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন একাংশের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

বাংলা/এনএস

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0235 seconds.